মানুষের অসামাজিকতার পিছনে সামাজিক যোগাযোগের সাইট গুলো অনেকাংশে দায়ী ।
প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটানো হয়েছিলো মানুষের সময় বাচানোর জন্য , মানুষের মধ্যে সামাজিকতা বাড়ানোর জন্য । উল্টোটা হয়েছে । সময় নষ্ট হচ্ছে । সামাজিকতা কমছে।
মানুষ এখন প্রতিটা কাজের আপডেট তার বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সাথে শেয়ার না করে ফেইসবুক আর টুইটার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে চায় । এটা খুবই হতাশ জনক । একটা সময় ছিল – মানুষ তার ব্যক্তিগত লেখা গুলো ডায়েরিতে লিখে রাখত । কেউ সেটা পড়তে গেলে তাকে বাঁধা দিত । কিন্তু এই লেখাগুলোই সে এখন টাইপ করে ফেইসবুকে পোস্ট করে । কেউ তার পোস্ট গুলো না পড়লেই তার মন খারাপ হয় ( এটা এখনো তার ব্যক্তিগত ব্যপার) ।
উল্টে গেছে সব । একটা লাইক বাটন পুরো পৃথিবী টা কে বদলে দিয়েছে ।
কাউকে ফোন করলে কিংবা মোবাইলে মেসেজ করলে তার রিপ্লাই পাওয়া যায় না । কিন্তু তার ফেইসবুক পোস্টের নিচে কমেন্ট করলে তার রিপ্লাই ঠিক ই পাওয়া যায় । অবস্থাটা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে কেউ যদি এখন মোবাইলে কথা বলার সময় একটু মুচকি হাসে , আশেপাশের মানুষেরা ভাবে সে বুঝি তার নতুন পরিবারের কারো সাথে কথা বলছে ।
ফেইসবুকের বন্ধু সংখ্যা যত বাড়ে বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সাথে দূরত্ব টা ও তত বাড়তে থাকে ।
তবে ফেইসবুক আসার পর একটা মন্দের ভাল হয়েছে । ইভ টিজারদের একটা বড় অংশ ফেইসবুকে মনোনিবেশ করেছে । তারা ফেইসবুকে মেয়েদের সাথে প্রেম করতে পারে ( তারা অবশ্য জানে না আইডি গুলা ফেইক আইডি
খাওয়ার জন্য কয়জন রেস্ট্যুরেন্টে যায় ? ছবি তোলার জন্য যায় ।
ব্যায়াম করতে গিয়ে আগে ছবি তোলা শুরু হয় । তারপর ব্যায়াম।
জন্মদিনের অনুষ্ঠান গুলো ঘরের চেয়ে ফেইসবুকেই বেশি পালিত হয় ।
পোস্ট , স্ট্যাটাস , লাইক , লাইফ ইভেন্টের সংজ্ঞা গুলো একেবারেই বদলে গেছে ।
ফেইসবুকের আগের দিন গুলো অযান্ত্রিক ছিল । সত্যিকার অর্থে অনেক সুখের ছিল । জানি এই দিন গুলো আর কখনো ফিরে আসবে না । সবাই মিলে উদ্যোগ নিলেও হবে না । কারণ ইভেন্ট খোলার জন্য তো ফেইসবুকে আসা লাগবে । নাকি ?
পৃথিবী বদলে গেছে , যা দেখি নতুন লাগে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




