আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম এমন ভাল খেলছে তা কিন্তু দু এক বছরেই হয়ে যায়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৯ বছর খেলার পরে আজ বাংলাদেশ গর্ব করার মত করে খেলছে। সেই গর্বিত টিমের মোস্তাফিজুর রহমান নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের গর্ব। আন্তর্জাতিক ২ ম্যাচে তার ১১ উইকেট অনেক অনেক সম্ভাবনার আলো আমাদের সামনে এনে দিয়েছে। এর ফলে মোস্তাফিজ দেশে ও বিদেশে যেমন পরিচিত হয়ে উঠেছে ঠিক তেমনি সবার কাছ থেকে পাচ্ছে বাহবা। যার ধারাবাহিক হিসেবে বলিউডের কিং খান শাহরুখও মাশরাফিকে ফোন করে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভাল ইঙ্গিত দিতে গিয়ে প্রকৃত পক্ষে একটি খারাপ কাজও তিনি সেরে ফেলেছেন। আগামীতে আইপিএল খেলায় তিনি মোস্তাফিজ ও সাব্বির রহমানকে দলে নেবার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শাহরুখ খানের ফোনে আমি খুশীর থেকে শঙ্কিত হয়েছি বেশী।
আজকের বাংলাদেশ টিম এমন ভাল খেলছে তা কিন্তু এই ২০১৫ সালের একার ফসল নয়, অথবা এই ১১ খেলোয়াড়ের নয়। ২৯ বছরের পাশাপাশি ৩০০ এর অধিক খেলোয়াড়ের শ্রম রয়েছে এখানে। কষ্ট করে যদি এক সপ্তাহ পেছনে যাই আমরা, তাহলে দেখতে পাই মোস্তাফিজ তার শখের একটি আই ফোনের জন্য তার আমেরিকা প্রবাসী চাচার কাছে আবদার করেছিলেন। আর তার চাচা তাকে ম্যাচে ৩টি উইকেট পাওয়ার শর্তে এই ফোন দিতে রাজিও হয়েছেন। সেই মোস্তাফিজ যদি শাহরুখ খানের এই ফোনের পরে বিছানায় শুয়ে ভাবা শুরু করেন আমি কি হনু রে, তিনি যদি এখন মনে মনে কাড়ি কাড়ি অর্থর স্বপ্ন দেখা শুরু করে দেন, অথবা সুন্দর সুন্দর মেয়ে ভক্তের নরম ভালবাসায় নিজেকে ছেড়ে দেন তাহলে সফলতা ব্যর্থতায় পরিণত হতে এক রাতই যথেষ্ট। অনেকে হয়তো তৃপ্তিতে ঢেকুর তুলে ফেলেছেন এইপিএল এর বার্তায়। আমার বেলায় কিন্তু বিপরিত হয়েছে। আমি কিন্তু রীতিমত ভয় পেয়েছি। মিষ্টি কথার আড়ালে শাহরুখ খান আসলে শুরুতেই মোস্তাফিজ ও সাব্বির খানের মত বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের অর্থের মোহে ফেলে আমি কি হনু রে ভাবতে পথ দেখিয়ে দিলেন। হতেই পারে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের আবার ইন্ডিয়ার থেকে পিছিয়ে দেবার সুন্দর মিষ্টি প্রচেষ্টা এই ফোন। যা মোটা দাগে এই খেলোয়াড় সহ বাংলাদেশী টিমের জন্য অকল্যাণকর।
আশা থাকবে মোস্তাফিজ সহ সকল খেলোয়াড়ের আশে পাশের প্রতিটা মানুষ, সেটা ক্রিকেট বোর্ড হোক, তাদের সতীর্থরা হোক, হোক তার পরিবারের সদস্য, সবাই যেন ওকে সহ উদীয়মান সকল খেলোয়াড়কে অর্থে আভিজাত্যে বিলাসিতায় সতর্ক করে দেন। হঠাৎ করে অতিরিক্ত পাওয়া মানুষকে তার জায়গা থেকে নিচেই নামায়, উপড়ে ওঠায় না। পাশ করার আগেই চাকুরী পেয়ে গেলে বেশীর ভাগ সময় ছাত্র আর পাশ করতে পারেন না। সার্বিক ভাবে বাংলাদেশ যখন সম্মান নিয়ে খেলতে শুরু করেছে সে জায়গায় আগে ১ থেক ২ বছর আরো ভাল করার পর আমরা হয়তো তৃপ্তির ঢেকুর আশা করতে পারি। তার আগেই অর্থের মোহ আবার বাংলাদেশে কে আগের জায়গায় নিয়ে যেতে পারে সেটা অস্বাভাবিক নয়। ধারাবাহিক ভাবে ভাল খেলতে পারলে অর্থ উপার্জন যে কোন দুরূহ কিছু না সেটা সবাইকে মেনে ধিরে সুস্থে বাংলাদেশ টিম সহ নিজেকে এগিয়ে নেবার আহব্বান থাকলো। টানা ২৯ বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পরে যে সফলতা সেটা ধরে রাখাই সব থেকে জরুরি বলেই মনে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৫ রাত ৮:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



