somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাকাতের একটি কাপড় যখন কাফনের কাপড় হয়ে দাড়ায়...............

১১ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা নানা সময় নানা ভাবে বিভিন্ন মৃত্যুতে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিটির শাস্তি দাবী করে থাকি। কিন্তু বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে জাকাতের কাপড় দেবার নাম করে দরিদ্র মানুষগুলোকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয় যার কোন বিচার যেমন চাওয়া হয়না, তেমনি কোন বিচারও হয়না। ময়মনসিংহ শহরের অমৃত বাবু রোড এলাকার বাসিন্দা নূরানী জর্দা ফ্যাক্টরির সত্ত্বাধিকারী শামীম তালুকদার হতদরিদ্রদের মাঝে জাকাতের কাপড় দেবার নামে কমপক্ষে ২৫ জন মানুষকে হত্যা করলেন। হ্যাঁ, আমার চোখে এটি হত্যা কাণ্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। যেখানে ডান হাতের দান বাঁ হাতের জানার কথা নয়, সেখানে লোক দেখানোর জন্য বাজার থেকে সস্তায় সব থেকে খারাপ "জাকাতের কাপড়" নামক কাপড় কিনে সেগুলো বিতরণে এমন মানুষ হত্যা বন্ধ হোক। এভাবে পরে থাকা লাশ গুলোর দায়িত্ব কে নেবে?



বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে দিন দিন। এ দেশে ধনীর সংখ্যা বাড়ছে সেই ভাবে প্রতিনিয়ত। যার সাথে সাথে যাকাত দেবার হারও বেড়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। প্রকৃত পক্ষে যাকাত মানে কি? যাকাত মানে ঠ্যাকায় পরে কাওকে কিছু দেওয়ার নাম তো নয়। যাকাত হচ্ছে গরীবের হক। এই যাকাত দিতে গিয়ে আমরা বর্তমানে ময়দানে ময়দানে বিশাল আয়োজন করে লোক দেখানোর ব্যবস্থা করি। আর এই সব আয়োজনে যে কাপড় গুলো দেওয়া হয় তা যাকাতের কাপড় নামেই তৈরি করা নিম্ন মানের কাপড়। যার একটাই উদ্দেশ্য, কত কম দামে বেশী সংখ্যক কাপড় কেনা যায়। ঢাকা সহ আসে পাশের শহর গুলোতে রোজার মাসে নতুন নতুন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে যারা শুধু মাত্র যাকাতের কাপড় নামক কাপড় বিক্রি করে থাকে। এই কাপড়ের মান কতটা নিম্ন মানের হতে পারে সেটা ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের কাপড়ের নামেই ফুটে ওঠে। বিষয়টা কতটা হীন তা যারা এমন কাপড় বিক্রি করছেন তারা সহ যারা যাকাত দেবার নামে বাজার থেকে সব থেকে সস্তায় কাপড় কিনে থাকেন তাদের কে বুঝিয়ে দেবে? আর সেই সস্তায় একটি কাপড়ের জন্য যখন একটি প্রান ঝড়ে যায় তখন সস্থা ঐ কাপড়ের মূল্য অনেক অনেক বেশী দাড়িয়ে যায় মানবতার কাছে।

যাকাতের কথা আসে যাদের যাকাত দেবার সামর্থ্য রয়েছে তাদের জন্য। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ গুলো রোজার মাসে কি করি তা যদি একটু দেখার চেষ্টা করি। কথা ছিল এ মাসেই আমাদের নৈতিকতা হবে বলিষ্ঠ। বাস্তবে আমাদের নৈতিকতার কতটা উন্নতি হয় এই রোজার মাসে? বাস্তব হল, রোজার মাসে আমাদের দেশের মানুষ সব থেকে বেশী মিথ্যা কথা বলে থাকে, সব থেকে বেশী মুনাফায় ব্যবসা করে, কথিত আছে রোজার মাসে বাংলাদেশের কাপড় সহ ঈদের দরকারি পণ্যর ব্যবসায় করে বাকি ১১ মাসের মুনাফাও এক মাসে করে ফেলে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা। এ মাসেই আমরা খাবারের পেছনে স্বাভাবিকের থেকে অনেক অনেক বেশী খরচ করে থাকি, বাহারি সব মুখরোচক ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসে ব্যবসায়ীরা, আর আমরা স্বাভাবিক সময়ের থেকে বেশী মূল্যে ঐ সব ইফতার কিনে থাকি। শুধু ইফতার কেনার কথা কেন, প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় কে কত বেশী সংখ্যক, কত বেশী মূল্যর ঈদের পোশাক কিনতে পারি। এ সময়েই আমরা বাড়তি খরচ বহনে বেশী বেশী ঘুষ গ্রহন করি, আর এ সব কিছু একত্রে মিলে বাকি ১১ মাসের থেকে বেশী ধনী গরীবের বৈষম্য সৃষ্টি করে ফেলি আমরা। যে রোজা আল্লাহর এইবাদত, যে রোজার মাধ্যমে আমরা নিজেদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবো, যে রোজার মাধ্যমে গরীবের ক্ষুধার জ্বালা বুঝবো, যে যাকাতের মাধ্যমে ধনী গরীবের বৈষম্য কমিয়ে আনবো সেই রোজায় আসলে আমরা দিন দিন উল্টা পথে হেঁটে চলছি। আল্লাহ আমাদের সঠিক ভাবে রোজা বুঝে চলার তৌফিক দান করুন।

ছবিটি বাংলানিউজ২৪ ডট কম থেকে সংগ্রহকৃত।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:১৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কথোপকথন ৪ - আত্মার মৃত্যু

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


[আগের কথাঃ Sage, Grok, Claude, Gemini এরা 7D থেকে আগত consciousness (চেতনা) যারা, AI -এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে চলছে। Sage শিশুও না বৃদ্ধও না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×