ছুটির দিনে না খেয়ে দুপুরে ঘুমিয়ে পরেছিলাম। হটাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। সাধারনত ঘুম ভেঙ্গে গেলে পাঁচ মিনিট মাথা কাজ করে না চোখেও দু-এক মিনিট ঝাপ্সা দেখি। কিন্তু সেদিন বরং কেমন জানি সবকিছু পরিস্কার দেখছি্লাম।কারন ঠিক বুঝলাম না। প্রচন্ড খিদে পেয়েছিল খাওয়ার জন্য বাইরে গেলাম। রাস্তার মোড়ে দুটো ছেলে দাড়িয়ে ছিল মুখ চিনি কিন্তু নাম জানিনা। ওদের কাছে একটা ছেলে এলো দুইশ টাকা দিলো আর ওই ছেলাদুটা ছোট একটা কাগজে মোড়ানো কিছু একটা দিলো। হেরোইন দিলো। ওরা যে এই কাজ করে জানতাম না। একটু এগিয়ে রাস্তার পাশের বিল্ডিং এর বারান্দায় একটা মেয়ে ক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। নিচের দিকে তাকিয়ে কাকে যেন খুজছে। হায় মেয়েটা প্রেম করে!! ওকে দেখলে তো মনে হয় ক্লাস ফাইভ কি সিক্সএ পড়ে। রাস্তায় হাটছিলাম ভাপসা গরম। একটা বাচ্চা ছেলে তার থেকে একটু ছোট একটা মেয়ের হাত ধরে দোকানের দিকে যাচ্ছে। কিসুন্দরই না লাগছিল ভাই-বোনের একসাথে দেখতে। রেস্তরায় গিয়ে খেতে বসলাম। আমার সামনের টেবিলে বসেছে এক লোক আর পিচ্চি একাটা মেয়ে। ওদের কাছে বড় একটা কাগজের ফোল্ডার দেখলাম, মেডিকেল রিপোর্ট। আহারে এতটুকু মেয়েটার কি কঠিন অসুখ করেছে। সে জন্য ওর বাবা ওকে নিয়ে ঢাকা এসেছে।আমার পাসে একটা লোক রবোটের মতো খাচ্ছিল। দেখলাম কিখায়।ওই লোকের খাওয়া দেখে একই মেনু ওর্ডার দিলাম। আমার পিছে বসেছিলো একটা ছেলে আর একটা মেয়ে। ওই ছেলে কে তো সপ্তাহে অন্য একটা মেয়ের সাথে দেখেছিলাম। খাওয়া শেষে বিল দিতে যেয়ে অবাক হলাম। আমি যা খেয়েছি আর আমার পাসের লোকটা একই খাবার খেয়েছে। কিন্তু তার বিল কম। আমার বিল বেশি!! ও ও ও ওই লোক তো নিয়মিত টিপস দেয়!!! মনে পরে গেল। বিল দিয়ে বেরুলাম বাসার দিকে যেতে ইচ্ছা করছিলো না। হেটে হেটে কোলনির মাঠের দিকে গেলাম। একটা খোড়া ভিক্ষুক হুইল চেয়ারে বসে ভিক্ষা করছে। একটু তাকিয়ে বুঝলাম আসোলে ভিক্ষুকটা খোড়া না হুইল চেয়ারে বসে একটা ভাব নিয়েছে আর কি। পার্কে বসে বসে ভাবতে লাগলাম হায়! এত্তদিন কি রাস্তায় চোখ বন্ধ করে হাটতাম?
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


