সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর কৌশলের অভাবে পোশাক কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ সময় অপচয় হয়। ফলে পোশাকের উৎপাদন সময় ও খরচ বৃদ্ধি পায়। এতে কারখানার উৎপাদনও কমে যায়। তাই এ অপচয় রোধে আধুনিক উৎপাদন কৌশল বা 'লিন ম্যানুফ্যাকচারিং' প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার কারখানায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন। তৈরি পোশাক মালিক সমিতি বিকেএমইএর উদ্যোগে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এ সভা হয়। সভায় বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান এর সভাপতিত্ব করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিককালে পোশাক শিল্পে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যবস্থাপনাগত মান উন্নয়নের জন্য শ্রমিকের সময়ের সঠিক ব্যবহার খুবই জরুরি।
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া শিল্প উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর শিল্প উন্নয়ন ব্যতীত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিকেএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন কৌশল ঠিক করে কারখানার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর কৌশলের অভাবে পোশাক কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বিভিন্ন অপচয়মূলক কাজের জন্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পোশাকের উৎপাদন সময় ও খরচ বৃদ্ধি পায়। এতে কারখানার উৎপাদনশীলতাও কমে যায়। এজন্য আধুনিক উৎপাদন কৌশল, যা 'লিন ম্যানুফ্যাকচারিং' নামে পরিচিত ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক কৌশলের প্রয়োগ ঘটানো ছাড়া আমাদের বিকল্প কিছু নেই। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিকেএমইএর দ্বিতীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সহ-সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) শারাফাত জামিল এবং জিটিজেডের প্রতিনিধি লুতফুল কবির।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পোশাক শিল্পে সফলতার মূলমন্ত্র হলো একটি সুসংগঠিত উৎপাদন ব্যবস্থা। একটি কারখানার সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে পোশাকের লিড টাইম মেনে চলা এবং উৎপাদন খরচ কমানো যায়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়ার্ক স্টাডি কৌশল, কারখানার মানবসম্পদ, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, উৎপাদন এবং পুঁজির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে। এছাড়াও লিন ম্যানুফ্যাকচারিং সিস্টেম কারখানাতে কার্যকরী করে ডাটা ব্যাংক ও অপারেশন বুলেটিন ডাটা ব্যাংক তৈরি করতে হবে।
মতবিনিময় সভার আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিকেএমইএর পিআইসি সেলের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সজীব সেন ও রূপালী বিশ্বাস। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন জিটিজেডের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ড. ডায়েট্রিচ স্টোজ, বিকেএমইএর পরিচালক মনসুর আহমেদ, শফিকুজ্জামান প্রিন্স, এএসএম কামরুল এহসান, আলমগীর কবীর, মহিউদ্দিন ফারুকি, সচিব সুলভ চৌধুরী ও প্রডাক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট সেলের কর্মকর্তারা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


