somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাফলং এ একদিন...

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকেই ঘুরে বেড়ানোর একটা প্রচন্ড নেশা ছিল। কিন্তু বাসা হতে অনুমতি পাওয়া খুব কষ্টকর ছিল। কলেজে উঠার পর বাসার কড়া নিয়ম কানুন হতে একটু রেহাই পেলাম। সময় পেলেই ঢাকার বাইরে কোথাও ঘুরে আসার চেষ্টা করি। সাধারণত প্রায় প্রতি ঈদের ছুটিতেই কোথাও না কোথাও যাওয়া হয়। কখনও বন্ধুদের সাথে কখনও ফ্যামিলির কারও সাথে। গত রোজার ঈদেও আমি আর ভাইয়া মিলে ঠিক করলাম কোথাও ঘুরতে যাব। একদিনের ভ্রমণ। অনেক আলাপ আলোচনার পর ঠিক করলাম এবার সিলেটের জাফলং এই যাব।

যেহেতু একদিনের ভ্রমণ তাই আগে থেকে তেমন কোন প্রস্তুতিই নেইনি আমরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের পরদিন বিকেল বেলা বেড়িয়ে পড়লাম। ইচ্ছে ছিল ট্রেনে যাব। তাই প্রথমেই কমলাপুর রেল স্টেশনে যাই। কিন্তু আগে থেকে টিকেট না কাটায় কোন টিকেট পেলাম না। কি আর করা অগ্যতা বাসে চেপে যাওয়াই ঠিক হল। বাসে যাওয়ার জন্য রাত ১১টার দিকেই সায়দাবাদ বাস স্টেশন এ চলে গেলাম। টিকেটের দাম ৩০০টাকা থেকে শুরু। রাত ১২টার দুটো টিকেট কাটলাম। উত্তেজনার বশে কিভাবে যে এক ঘন্টা পার হয়ে গেল বলতেই পারব না। বাস, ট্রেনের দেরি করে আসার যে বদনামটা ছিল তার ব্যতিক্রম করে ঠিক ১২টা বাজেই বাস ছেড়ে দিল। আমার ভ্রমণের স্বল্প অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যে যাই বলুক বাস ভ্রমেণের সবচেয়ে ভাল ও উপযুক্ত সময় হল রাত। এমনিতেই ঈদের পরদিন, তারওপর ছিল রাত ১২টা এরকম নিরিবিলি বাস ভ্রমণ সত্যিই মনোমুগদ্ধকর।

আমার সিটটা ছিল জানালার পাশে। আমার পাশের সিটে ভাইয়া গভীর ঘুমে মগ্ন। বাসের প্রায় সকলেই ঘুমুচ্ছে। কিন্তু ঘুমের চেয়ে আশেপাশের দৃশ্যই আমাকে বেশি টানছিল। অনেকেই হয়ত বলবেন রাতেরবেলা আবার কিসের দৃশ্য? কিন্তু রাতেরবেলা চাঁঁদের আলোয় যে আকর্ষণ তা যে দেখেছে শুধু সেই বুঝবে। রাত প্রায় ২টার দিকে আমরা বিখ্যাত ভৈরব ব্রীজ্ এ এসে পৌঁছুলাম। ব্রীজটা রাতের বেলা আরও দৃষ্টিনন্দন লাগছিল।





অবশেষে ভোর ৫.৩০টার দিকে আমরা পৌঁছলাম সিলেটের কদমতলী। ভোরের হালকা কুয়াশায় মোড়া সিলেট শহরটিকে অপূর্ব দেখাচ্ছিল। সিলেটকে বলা হয় মাজারের শহর। সিলেটে এসে মাজারে যাব না, তা হয় নাকি?? সামান্য খোঁজখবর করে জানতে পারলাম সি.এন.জি. কিংবা টেম্পু জাতীয় গাড়ি পাওয়া যায়। যেগুলো হযরত শাহ্‌জালাল (রাঃ) এর মাজারে যায়। জনপ্রতি ২০টাকা করে। সেখান হতে সি.এন.জি. তে চড়ে আমরা হযরত শাহ্‌জালাল (রাঃ) এর মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। জায়গাটা বেশি দূরে নয়। প্রায় ২৫-৩০ মিনিটের মাথায় পৌঁছে গেলাম মাজারে। কি বিশাল আকার!!! সত্যিই বিস্ময়কর। হাজার হাজার লোকের সমাগম সেখানে। কেউ এসেছে নিজেদের মনোবাসনা পূরণের উদ্দেশ্য কেউবা আমদেরই মতো ঘুরতে। অনেক প্রাচীন কবর দেখতে পেলাম। এদের বেশিরভাগই হযরত শাহ্‌জালাল এর শিষ্য ছিলেন। জালালি কবুতর নামে একরকম কবুতর দেখলাম। সেগুলো নাকি শুধু ওখানেই পাওয়া যায়। মাজার এর বিভিন্ন জায়গায় দেখলাম কুসংস্কারাছন্ন লোকদের কিছু ভন্ড ঠকিয়ে যাচ্ছে। যা দেখে সত্যিই খারাপ লাগল। ওখানে আমরা প্রায় ঘন্টাখানেক কাটালাম। মাজারের বাইরে সকালের নাস্তা খেয়ে সি.এন.জি. তে চড়ে রওনা দিলাম হযরত শাহ্‌পরাণ (রাঃ) এর মাজারের উদ্দেশ্যে। জনপ্রতি ভাড়া লেগেছিল ৩০টাকা। ৪০-৪৫ মিনিটের মাঝে পৌঁছে গেলাম সেখানে। ভেতরে ভেতরে জাফলং এ যাওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলাম। তাই, সেখানে আর বেশি সময় কাটাইনি। তবে মাজারের দেয়ালগুলোর পুরার্কীতি নকশাগুলো দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়ে ছিলাম। শাহ্‌পরাণ (রাঃ) এর মাজারের গেইট থেকেই জাফলং এ যাওয়ার জন্য বাস, টেম্পু পাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৬০টাকা। সেরকম একটা টেম্পুতে করে আমরা রওনা দিলাম আমাদের জাফলং এর উদ্দেশ্যে। পাহাড়ি আকাবাকা রাস্তা, চিকন একটা রোড যার চারপাশে শুধু পাহাড়। বেশ লাগছিল ভ্রমণটা। রাস্তার পাশে ভারতের বিশাল বিশাল পাহাড় আর ঝর্ণা
দেখতে দেখতে প্রায় দুই ঘন্টা পর সকাল দশটার দিকে পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে। জাফলং এ।


কিছু ছবি...............।




ঝর্ণাগুলো সত্যিই সুন্দর। তাই না?



দুঃখের বিষয় কি জানেন ঝর্ণাগুলো শুধু দূর থেকেই দেখতে পারবেন। কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, এগুলো ভারতের সীমানায় পড়েছে।






জাফলং বাজারের পাশেই জাফলং নদী। ওখানে অনেক নৌকা পাওয়া যায়। দশটাকা জনপ্রতি ভাড়ায় নদী পার করে। নদীটি যে কাউকে মুগ্ধ করার ক্ষমতা রাখে। বেশি গভীর না। পরিষ্কার পানি। একজন পূর্ণবয়ষ্ক লোকের গলা পর্যন্ত ডুবতে পারে সর্বোচ্চ। কিন্তু স্রোতের টান প্রচুর। সাতার না জানলে বিপদে পড়তে পারে যে কেউ। নদীতে প্রচুর নৌকা দেখতে পাওয়া যায়। প্রায় সকল নৌকাকেই পাথর বহন করতে দেখা যায়।











ঘাট থেকে নৌকা পাওয়া যায়। সেই নৌকা দিয়ে ঝুলন্ত সেতু দেখতে গেলাম। ঘাট থেকে দেখা গেলেও অনেক দূর।




নৌকা ভাড়া করার সময় সাবধানে থাকতে হয়। এরা প্রচুর ভাড়া চায়। ২০০টাকায় অবশেষে আমরা নৌকা ঠিক করলাম।
পানির নিচে পাথর। সেই পাথরের উপর দিয়ে হাঁটা সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা।










অনেকেই দেখলাম এখানে গোসল করছে। তাই আমরাও ওখানেই সেরে নিলাম গোসলটা। বেশ মজা হয়েছিল।






অনেক মজা করে করলাম। প্রায় ২ ঘন্টা কাটানোর পর দুপুর ১টার দিকে আবার ফিরে এলাম জাফলং বাজার এ। এখান থেকে এক হোটেল এ দুপুরের খাবার খাওয়ার পর এবার রওনা হলাম চা বাগান এর উদ্দেশ্যে।
নদী পার হয়ে ভ্যানগাড়ি পাওয়া যায়। তাতে করে চা বাগান দেখতে গেলাম।




কি বিশাল এগুলোর আকার মনের হয় যেন শেষ নেই।




চা বাগান দেখে বিকেলের দিকে ফিরে এলাম জাফলং বাজার। সেখান থেকে বাসে চড়ে দেখতে গেলাম তামাবিল পয়েন্ট।




এখান দিয়েই ভারতীয় গাড়ি বাংলাদেশে ঢুকছে আবার বাংলাদেশি গাড়ি ঢুকছে ভারতে।



ভাবলাম দেখি একটু ভারতে ঘুরে আসা যায় কিনা??
একটু এগুতেই দেখি.........




পাশে দেখি আবার বি.জি.বি ক্যাম্প। থাক বাবা!! দরকার কি!! ;) এই ভেবে চলে এলাম।
ওখান থেকে বাস ধরে আবার সিলেটের কদমতলী ফিরে আসি। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমেছে।
তারপর ঢাকার বাস ধরে ফিরে আসলাম আবার সেই ব্যস্ত ঢাকায়।
মাঝে মাঝে এরূপ নিরিবিলি কোথাও ঘুরতে গেলে আসলেই ভাল লাগে।। হোক না তা একদিনের ভ্রমণ।
সৌজন্যেঃ টিউনার সাকিব.ব্লগস্পট.কম
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৫ দুপুর ২:০৫
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিদায় নানা পাটেকার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৫৭



৯০ দশকের শুরুর দিকের কথা, সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে যখন বাসভবনে ফিরেছি, রুটিন মাফিক গোসল খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোবো কিন্তু টিভি অন করে দেখি একটি সিনেমা শুরু হচ্ছে -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×