
শূন্য। হুমায়ন আহমেদ এর লেখা অন্যতম একটি সায়েন্স ফিকশন গল্প। প্রখ্যাত লেখক হুমায়ন আহমেদ খুব বেশি সায়েন্স ফিকশন গল্প লেখেননি। কিন্তু তার ঐ অল্প কিছু লেখার মধ্যে সায়েন্স ফিকশন এর মাঝে পাওয়া যায় অন্যরকম একটা স্বাদ।
এই গল্পটির নামকরণ পুরোপুরি সার্থক। কারণ, গল্পটির মূল বিষয়টিই হল শূন্য। গল্পটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হল মনসুর সাহেব। তিনি স্কুলের একজন গণিতের শিক্ষক। বয়ষ্ক লোক, থাকেন আজিজ খাঁ এর গুদামের দোতলার একটি রুমে, নির্বিরোধী, ভালো মানুষ। মনসুর সাহেবের প্রিয় বিষয় হল গণিত। সারাদিন গণিতের বিভিন্ন সমীকরণ নিয়ে ভাবেন। তবে তার প্রিয় হচ্ছে ফিবোনাক্কি সমীকরণ।
গল্পটির মূল কাহিনী শুরু হয় স্কুলের একটি ঘটনার মধ্যে দিয়ে। একদিন তিনি স্কুলে যথারীতি তার ক্লাশ নিতে যান। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেন অকারণেই তার চোখ থেকে পানি পড়ছে। এই বিষয়ে তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন না হলেও হেডমাস্টার এর পরামর্শে সেদিন সন্ধ্যাবেলায় ডাক্তার বজলুর রহমানের নিকট যান। কিন্তু ঝড় বৃষ্টির কারণে ইলেক্ট্রিসিটি না থাকায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি বজ্রপাতের আঘাতে জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরতেই তিনি এক রহস্যময় যুবকের দেখা পান। যে নিজেকে ফিবোনাক্কি নামে পরিচয় দেয় এবং বলে মনসুর রহমানকে সহায়তার উদ্দেশ্যে শূন্য মাত্রার জগত থেকে সে এসেছে। স্বাভাবিক ভাবেই মনসুর রহমান তাকে নিজের উত্তপ্ত মস্তিষ্কের কল্পনা হিসেবে ধরে নেন। ফিবোনাক্কি তাকে এক নতুন জগতের কথা জানায়। যেখানে সব কিছুই শূন্য আবার সব কিছুই অসীম। ফিবোনাক্কির উৎসাহে তিনি শূন্য মাত্রার সমীকরণ নিয়ে কাজ শুরু করেন। তার দাদা, বাবা দুজনেই এই রহস্যের সমাধান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দুজনেই অল্পবয়সে দুর্ঘটনাজনিত কারণে মারা যান। মনসুর সাহেবও ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপরেও তিনি তার কাজ চালিয়ে যান। সমাধান করার চেষ্টা করেন এই রহস্যের।
গল্পের শেষাংশে, তার অসুস্থতার পরিমাণ খুব বেড়ে গেল আজিজ খাঁ এবং হেডমাস্টার তাকে ঢাকার এক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালেই তার মৃত্যু ঘটে।
মনসুর সাহেব কি শূন্য রহস্যের সমাধান করতে পেরেছিলেন? জানতে পেরেছিলেন কে এই ফিবোনাক্কি? তার দাদা এবং বাবার মৃত্যু কি শুধুই দুর্ঘটনা? নাকি অন্য কিছু? কারা বাঁধা দেয় এসব গণিতবিদদের? কেন?
এসকল প্রশ্নের উত্তর পেতে পড়ে দেখতে পারেন বইটি। কথা দিচ্ছি আপনার সময় নষ্ট হবে না।
সৌজন্যেঃ টিউনারসাকিব.ব্লগস্পট.কম

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



