নিউ ইয়র্ক : গত ২৯ মার্চ শনিবার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এলামনাই এসোসিয়েশন।
নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের পালকি রেস্টুরেন্টে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক কাজী ইসমাঈলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মনির হায়দার।
প্রধান অতিথি সাংবাদিক মনির হায়দার বলেন, অতীতের সব সরকার নিজের স্বার্থে রাষ্ট্রকে ব্যবহার করছে। কেউ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনুযায়ী রাষ্ট্রকে পরিচালানা করেনি।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার ৪ দশকেও রাষ্ট্রের মধ্যে ইনসাফ কায়েম হয়নি। বাংলাদেশকে নির্মাণ করতে সব রাজনৈতিদক দলকে বেদাবেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হবে।
চট্রগ্রাম এ্যালাম এসোসিয়েশনের উদ্দেশ্য মনির হায়দার বলেন, আপনারা প্রবাসে শুধু সরকারের সমালোচনা কেন করবেন? দেশ বিনির্মানে প্রবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে গঠন মূলক সমালোচনা এবং দেশের জন্য কাজ করবেন।
সভাপতি অধ্যাপক কাজী ইসমাঈল বলেন, প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। এজন্য চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সবাইকে রাজনৈতিক মতাদর্শ উর্দ্ধে উঠে কাজ করতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, বিজয় বা স্বাধীনকতা দিবস আসলেই শুধু মুক্তিযুদ্ধাদের খোজ খবর নেয়া হয়। অন্যান্য সময় অনেক মুক্তিযুদ্ধা এখনো অর্থ কষ্টে বিনা চিকিৎসায় মরলেও কেউ খবর রাখেনা।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর হানানির কথা চিন্তা করলে মুক্তিযুদ্ধারা দেশ স্বাধীন করতো না। আমার সন্তানরা জিজ্ঞাস করে কেন দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি? স্বাধীনের ৪৩ বছরে এসে তাদের সঠিক জবাব দিতে পারিনা।
ড. শেলী বলেন, স্বাধীনতা দিবসে আমাদের সবার আনন্দ করার কথা ছিলো। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আনন্দ করতে পারেনা।
বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের বলেন, প্রবাস থেকে আমরা দেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি। দেশে কোন হানাহানি দেখতে চাইনা। আমরা চাই দেশ ভালো থাকুক। আমাদের স্বজনার নিরাপদ থাকুক।
সামছুল আলম মজনু বলেন, সমাজের সর্ব স্তরে বহুদা ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে জাতি। স্বাধীনতার সুফল পেতে হলে মুক্তিযুদ্ধের মতো আবারো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
এটর্নী আব্দুল আজিজ বলেন, অতীতের সব সরকাই নিজের মতো করে স্বাধীনতার ইতিহাস সাজিয়েছে। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধা ও শহীদদের সঠিক তালিকা নেই।
সাধারণ সম্পাদক এমলাক হোসেন বলেন, স্বাধীন দেশে সরকার বিরোধী অনেক নেতা কর্মী মামলা মাথায় নিয়ে ফেরারী জীবন যাপন করছে। সরকারকে গণতন্ত্রের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুজেঁ বের করার আহবান জানান তিনি।
বাংলাদেশে সরকার বিরোধীদের উপর অত্যাচার নিপীড়ন চলছে অভিযোগ করে হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারকে লিবিয়া বা সিরিয়ার দিকে তাকানো উচিত। কোন অত্যাচারি শাসক ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনা।
বদরুল হক আজাদ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিশাল সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীন দেশে কোন প্রকার সংঘাত কাম্য নই।
আব্দুল্লাহ আল আরিফ বলেন, আমরা ভূগৌলিকভাবে স্বাধীন হলেও অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা আসেনি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এমলাক হোসেন ফয়সলে পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন মানবাধিকার নেতা মাহতাব উদ্দিন, ড. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ কবির কিরন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, হাবিবুর রহমান চৌধূরী, আবুল হাসেম শাহাদাৎ, আব্দুর রহমান ও ইমতিয়াজ উদ্দিন প্রমূখ।
ন্

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



