somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারের দায়িত্বশীলদের বক্তব্য অযৌক্তিক -বিশেষজ্ঞগণ ঃ আন্তর্জাতিক বাজারদরের সাথে তুলনা যথার্থ নয়

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পণ্যের দাম বেশি0
মাথাপিছু আয়ও তুলনার যোগ্য নয়0

এ বি সিদ্দিক : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্যের তুলনা করা অপ্রাসঙ্গিক ও অযৌক্তিক। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্বল এবং মাথাপিছু আয় একেবারেই কম। চীন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা আমেরিকা, এমনকি ভারতের মাথাপিছু আয় আর বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ের মধ্যে বিশাল ব্যবধান।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক বাজারদর তুলনা প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রী, অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মইন খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার দরের সাথে বাংলাদেশের বাজারদর তুলনা করা অপ্রাসঙ্গিক। আমাদের অর্থনৈতিক প্রেক্ষিত আর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষিত এক নয়। চীন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার মতো দেশে মাথাপিছু আয় বার্ষিক ৪০/৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু বার্ষিক আয় মাত্র কয়েক শত ডলার। বিশ্বের সিংহভাগ দেশের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে শতভাগ বেশি। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আয়-ব্যয়ের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য। আয় সীমিত, ব্যয় বাড়ছেই। সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে যত কথাই বলুক না কেন, দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা বুঝেন সরকারের কথা। তিনি আরো বলেন, মানুষের কাজ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে। পাশাপাশি লাগামহীনভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। বেসরকারি বাজার গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ক্যাব-এর সভাপতি কাজী ফারুক বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের বাজার মূল্যকে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সাথে তুলনা করছে যা অযৌক্তিক। কারণ- বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দেখতে হবে। দেখতে হবে টাকার মূল্যমান। যুক্তরাষ্ট্রের ১ ডলার বাংলাদেশের ৭০ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের আর বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এক নয়। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় কত সেটা সরকারকে দেখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থান নেই, বাড়ছে বেকারত্ব আর দারিদ্র্য, শিল্পায়ন নেই, কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে। আয়-ব্যয়ের বৈষম্য বেড়েই চলছে। তিনি আরো বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে মনে হয়- সরকার ব্যবসায়ীদের সাথে পেরে উঠছেন না। বাজার সিন্ডিকেটের হাতেই রয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, ধনী-গরিবের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে যেটা অস্বাভাবিক, মানুষ যেন অসহায়।
বার বার বাণিজ্যমন্ত্রী যে কথাটি বলছেন বা বলতে চাইছেন তা হলো আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি তাই বাংলাদেশেও পণ্যের দাম বাড়ছে। আসলে এই কথা কতটুকু সত্য? ধরা যাক ডালের কথা। কারণ ডাল সিংহভাগই আমদানি করতে হয়। সর্বশেষ যে তথ্য পাওয়া গেছে (ইন্টারনেটের মাধ্যমে) তাতে বাংলাদেশী মুদ্রায় কানাডায় ১ কেজি ডাল ২৮/৩০, আমেরিকায় ৭০/৭৫, অস্ট্রেলিয়ায় ৫৩/৫৪, ভারতে ৯০/১০৫, তুরস্কে ৬০/৬২ টাকা। ভোজ্য তেল (সয়াবিন) কানাডায় ৪৫/৬৫, আমেরিকায় ৭০/৭২, নেপালে ৮৫/৮৬, মালয়েশিয়ায় ৩৩/৩৫ টাকা। বাংলাদেশের বাজারে ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ডালের দাম ৪০-৪৫, ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১০০-১০৫, ২০০৯ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ১১০ থেকে ১২০ শতাংশ বেড়েছে। তেলের দাম ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৪৫-৪৮, ২০০৯ সালে ৯০ থেকে ৯৫ এবং ২০০৯ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ৮০-৮২ শতাংশ বেড়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে কত বেড়েছে? রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্য সংস্থা টিসিবির গতকাল বৃহস্পতিবারের বাজার মনিটরিং রিপোর্টে বলা হয়- গত এক বছরে ঢাকার বাজারে মোটা চাল ৩৩.৩৩, সরু ১৮.৯৯, মাঝারি ২১.৯৫, খোলা আটা ৫৫.৮১, খোলা ময়দা ১৯.৩৫, সয়াবিন (লুজ) ৪৭.৯২, পাম তেল ৬১.৬৭, রসুন ৫০.০০, হলুদ ৭৫.৩৬, চিনি ৭.০২, শতাংশ বেড়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কত বেড়েছে?
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নেই। আসলে একথা কতটুকু সত্য? দেশে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এবং মাইডাস নামক একটি বেসরকারি সংগঠন যৌথ সমীক্ষা চালায় বাজার মূল্যের ওপর। এতে বলা হয়- চার কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে ১. ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ২. চাঁদাবাজি ৩. মধ্যস্বত্ব ভোগীর দৌরাত্ম্য এবং ৪. অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়। এসব কারণে যদি দাম বাড়ে তা হলে সরকার তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিয়ে যে অভিযোগ সেটা নতুন কিছু নয়। এটা সরকার ইচ্ছা করলেই ভাঙতে পারে। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে ব্যবসায়ীরা বার বার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েও কোনো সুফল পায়নি। সরকার তেলের দাম বাড়ায়, দলীয় চাঁদাবাজ আর পুলিশের সালামীর কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান ঢাকা মহানগর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য শেষ হতে পারে।
ভোক্তাসাধারণ মনে করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সরকার নানা কথা বলছে, যা অনেকটা অন্ধকে হাতি দেখানোর মত। বাণিজ্যমন্ত্রী গত বুধবার তার দফতরে বলেছেন, তাদের সরকারের দুই বছরের শাসনামলের দেড় বছরই বাজার স্থিতিশীল ছিল। গত ছয় মাসে নাকি দাম কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া তিনি বহুবার বলেছেন যে, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল আছে। অর্থাৎ তিনি এক এক সময় এক এক কথা বলছেন।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×