somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুপারম্যান ও ক'জন পদার্থবিদ..

২০ শে জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আহা! লাল জাঙ্গিয়া পড়ে সুপারম্যান কতোই না খেল দেখালেন। কিন্তু বেকে বসলেন পদার্থবিদরা । মোটামুটি হাতা গুটিয়ে মারমার কাটকাট করে সবাই ভাবতে বসলেন। একজন বললেন "ব্যাটা ওড়ে কিভাবে পাখনা ছাড়া?"

প্রফেসর রিচার্ড মুলার জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান পড়ান ক্যালিফোর্নিয়ায়। ছোট বেলায় বেজায় ভক্ত ছিলেন। তাই সাফাই গাইবার সুরেই বললেন, "ইয়ে আমি একটু বিরক্তই হই ব্যাপারটায়। আমার মনে হয় সুপারম্যান আসলে উড়তে পারেনা, কিন্তু লাফ মারতে পারে ভালো । দুম করে একটা লাফ দেয়, তারপর বাতাসের স্রোতকে ব্যবহার করে একটু উড়বার ভাব নেয়"। একটু ভেবে আবার বললেন, "আবার এও সম্ভব ব্যাটার চামড়া দিয়ে প্রবল বেগে জলীয় বাষ্প বের হয় আর নিউটনের 3য় সূত্র অনুসারে সে উড়তে থাকে"

স্ট্যানফোর্ডের ধামড়া ছাত্র অ্যান্ডি লিফার বলল, "ধূর। ফিজিক্স মেনে কি এসব হয়, মানলে তো সেটা হত বাস্তব জীবন, এবং অবশ্যই বোরিং"

ক্যালিফোর্নিয়া সোসাইটি অব ফিজিক্সের এড মার্টি আর পারলেন না। হাতে ঘুষি মেরে বললেন, "যত্তোসব ফাজিলের দল, বলে কিনা এক্স-রে ভিশন। আরে এক্স-রে ভিশন কাজ করতে হলে তো আয়না লাগবে দেখার জিনিসটার পিছনে যা রিফ্লেক্টর হিসেবে কাজ করবে। সুপারম্যানকে সাথে করে তাই সব সময় একটা বড়সর আয়না রাখতে হবে! এখানেই শেষ না, সুপারম্যানের এই ক্ষমতা থাকতে হলে তার চোখ থেকে অকল্পনীয় পরিমানের এক্স-রে রেডিয়েশন ছড়াতে হবে। মুস্কিল হল ওই পরিমান রেডিয়েশনের ফলে সে যার দিকে তাকাবে তার-ই নির্ঘাৎ মরন, তা সে লোইস লেন হোক আর লেক্স লুথার"

প্রফেসর মুলারের ফর্সা মুখটা লাল হওয়া বাকি ছিল । এবার তাও হয়ে গেল। বললেন , "ননসেনস! সব কিছুকে লিটারেলী ধরলে কিভাবে হবে? ছোটবেলায় আমারো তো এক্স-রে গগলস ছিল, মেয়েদের জামার নিচে কতো কিছুই না দেখতাম তাতে। আমার ধারনা এক্স রে ভিশন আসলে নিউট্রিনো ভিশন। নিউট্রিনোতে এমন হতেই পারে.."

তবে মুলার চিপায় পড়ে স্বীকার করলেন যে সুপারম্যান যদি লোইসকে নিয়ে বুলেটের গতিতে উড়তে যায় তবে লোইসের ভর্তা হয়ে যাবার সম্ভাবনা 99%! আর আলোর বেগে ছুটলে, দেখা যাবে সে যুবকই থাকবে, কিন্তু অশতীপর বৃদ্ধ হয়ে যাবে তার প্রিয়জনেরা, অন্তত রিলেটিভিটি তাই বলে। তারমানে দুমদাম উড়া উড়ি করলে লোইসের সাথে ডেইট করার আশা ছাড়তে হবে.. ঘন্টা তিনেক সবের্াচ্চ বেগে উড়লে হয়তো দেখা যাবে লোইস বুড়ি হয়ে পটল তুলেছে

মুলারের নরম ভাব দেখে লিফার আবার শুরু করে, "ফাজিলটা সমুদ্র থেকে একটা পুরা দেশ তুলে ফেলে! এটা কি সহ্য করা যায়? কনসার্ভেশন অব মোমেন্টাম অনুযায়ী এই কীর্তির ফলে পৃথিবীর কক্ষচূ্যত হবার কথা!"

পাশেই ছিল চেন। খ্যাক্যখ্যাক করে হেসে যে যোগ করে, "আমার তো মজাই লাগে, চোখের পলকে কাপড় বদলানো দেখে! ব্যাটা সাথে কয় সেট জামা রাখে রে?"

মুলার দেখলেন বিপদ। সাহস করে বললেন, "আমি কিন্তু অমানুষিক শক্তির একটা ব্যাখ্যা পাই"

মার্টি হা করে তাকায়!

"কৃপটন গ্রহে আমার ধারনা মহাকর্ষ অনেক অনেক গুন বেশী। তাই প্রানীদের অনেক শক্ত পোক্ত হতে হয়। সেই প্রানীরা পৃথিবীতে হাজির হলে তুলনামূলক কম মহাকর্ষে তাদের শক্তি তো বেশী মনে হতেই পারে!", বেশ একটা ভালো যুক্তি দেখাতে পারার ভঙ্গিতে বললেন মুলার।

মার্টি কিন্তু এবার একটু ভ্যাবাচেকাই খেয়ে গেল এটা শুনে। লিফার কিছু না পেয়ে বললেন, "হুমম.. শালার বারো ডলারই জলে গেল.."
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ১০:০৫
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×