-গরীবদের দেখলে অন্ন সবার মতো আমারও মায়া লাগে।আমার এলাকায় কিছু ব্রাক স্কুল আছে।মাঝে মাঝে সকাল বেলা কিছু ছোট ছেলেমেয়েদের দেখি,যাদের হাতে থাকে কয়েকটা বই আর একটা প্লাস্টিকের কলমদানি,আর কলমদানির মধ্যে থাকে অনেকগুলো কাঠি,বুঝতে পারলাম কাঠিগুলো দিয়ে গননা শেখানো হয়।তাদের বেশিরভাগের-ই মুখখানা কালো,তবে বেজায় চকচকে,মনে হয়,যেন এইমাত্র তেল মেখে এসেছে।ছোট ছোট এই শিশুরা মুখখানা কেন গম্ভীর করে রাখে বুঝতে পারিনা।হয়তো তারা দেখিয়ে দিতে চায় যে তারাও পারে নিরক্ষরতা থেকে মুক্ত হতে।কিংবা হয়তো মনে মনে ভাবছে-আর কিছুদিন পরেইতো জীবনের প্রয়োজনে খাতা কলম ছেড়ে মাঠে নামতে হবে কিংবা বেচতে হবে ফুল কিংবা ডাকতে হবে-যাইবেন্নি ভাই যাত্রাবাড়ী?
-দারিদ্রতা বদলে ফেলা এতো সহজ বেপারনা,শিশুদের নিজের টাকায় পড়ালেখা করাব সেটাও তো সম্ভব না,তাহলে ওদের দিকে আমার করুনার দিকে তাকানোর মানেটা কি?ওরা কি করুনা চায়?সম্ভবত না।তবে যেটুকু করতে পারি তাহলো ওদেরকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে পারি,জীবন যুদ্ধে কিভাবে ভালভাবে টিকে থাকতে হয় তার সূত্রগুলো শেখাতে পারি,আর পারি অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে ওদেরকে মুক্ত করতে।সোজা কথায় জীবন যাপনের বিজ্ঞান শেখাতে।তাহলে পড়ালেখা কোন কারনে ছেড়ে দিলেও অন্য যেকোনো পেশায় গিয়ে মস্তিষ্কটার ব্যাবহারটুকু অন্তত করতে পারবে।আর উন্নত চিন্তা করতে পারলে যেকোনো পেশায় গিয়েই ভালো করা সম্ভব।যেহেতু শিশুদের আত্মবিশ্বাস ছোটবেলাতেই অবচেতনভাবে গড়ে ওঠে তাই আমরা শুধুমাত্র অই সব ইস্কুলের স্যার কিংবা ম্যাডামদের কিছু সেলফ ইমপ্রুভমেন্টাল বই(তুমিও জিতবে,উচ্চাকাংখার ম্যাজিক) ফ্রি গিয়ে দিয়ে আসবো।আগে স্যাররা শিখুক।তারপর তারাই শিশুদের বিখ্যাতদের গল্প শোনাবে,কিভাবে বড় বড় চিন্তা ভাবনা করা যায় সেগুলো শেখাবে,ওদের মনে সাহসের সঞ্চার করবে, মোট কথা ওদের আত্মবিশ্বাসটা বাড়িয়ে দেবে।আর আমরা জানি আত্মবিশ্বাস-ই হচ্ছে সকল সাফল্লের চাবিকাঠি।আপনাদের মতামত চাচ্ছি...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




