somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

খলিলুর রহমান ফয়সাল
আমি ভাল না খারাপ দূর থেকে নয়, কাছে এসে মিশে বন্ধু হয়ে দেখুন৷

আজরাতে

২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সুরমা পুরান ব্রিজের নিচে কয়েকজন নারী দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে কমবয়সী জন শুধু লাল পেটিকোট পরে আছেন। তিনি একটু পরপর হাসতে হাসতে গড়িয়ে পরছেন। পাশের নারীটি তাকে ধমকের সুরে বলে উঠলেন- ”ঘরে খাওন নাই, রাস্তায় কাস্টুমার নাই, আরেকজনের শইল্যে হাসি আহে। অতো দেমাক ভালা না।” পেটিকোটওয়ালির কড়া লিপস্টিকের ঠোটে আবারো হাসির বান ডাকে। গাজা খেয়ে টলতে টলতে এক যুবক আসে। যুবককে দেখে নিয়ন আলোর নিচের নারীরা লোভাতুর নয়নে তাকিয়ে থাকে। এমন সময় একটা রিকশা সাই করে গাজাখুরের প্রায় গা ঘেসে চলে যায়। খেকিয়ে উঠে গাজাখুর- ”ঐ শুয়রের বাচ্চা, চোখের মাথা খাইছস নাকি?”

টুটুলের আজ মন ভাল নেই। মন খারাপ থাকলে সে রিকশা করে শহরে ঘুরে। “ড্রাইভার সাহেব, আস্তে চালান। আমার অতো তাড়াহুরা নাই।” ফোনটা বের করে রুমির নম্বরে আবার ডায়াল করলো। দু:খিত এই মূহুর্তে আপনার ডায়াল করা নম্বরটি বন্ধ আছে, একটু পর আবার…. রুমি খুব জেদী। অল্পতেই সম্পর্ক শেষ করে দেয়। বিয়ের আগেই যদি এরকম করে, বিয়ের পর না জানি কি করবে। বন্দরে লোকারণ্য এলাকায় চিৎকার কেরে গান গেয়ে উঠে টুটুল- আশা ছিল মনে মনে প্রেম করিব তোমার সনে…বন্দর পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজের কাজ করা শ্রমিকরা টুটুলের গান শুনে হেসে উঠে।

আজাদের বাড়ি বগুড়ায়। সিলেট আছে পাঁচ বছর ধরে। প্যাসেঞ্জারের গান শুনে নিজের পরিবারের কথা মনে পরে গেল- কতদিন বউ পোলারে দেহিনা। পোলাডা নিশ্চয় এখন আব্বা ডাক শিখে গেছে। ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে সেদিন ফোন দিয়েছিল। কিশোরী বউ ফুপিয়ে কেঁদেছে। “সিলেট তোমার কে আছে গো? তুমি কি আরেকটা বিয়া করছো? ক্যান তুমি বাড়িত আহো না?” আজাদ কিছু বলতে পারে না। বউ ছাড়া রাতে তার ঘুম আসে না, শুধু এপাশ ওপাশ করে। সারারাত মন ও শরীরের সাথে যুদ্ধ করে, সকাল বেলা লাল টকটকে চোখ নিয়ে আবার রিকশা নিয়ে বেড়ুয়। বাড়তি ইনকামের আশায় বৃষ্টির দিনেও সারা রাত রিকশা চালাবে। সামনের ইদে বগুড়া যাবার ইচ্ছা। ভাবতে ভাবতে জিন্দাবাজার চলে আসে। এক প্যাসেঞ্জার বিদেয় করে আরেক দুজন পেয়ে যায় সে।

মুন্নি তান্নি দুই বোন। পর্দানশীল পরিবারের মেয়ে। সন্ধ্যে হলেই মুরগীর মতো খোপে ঢুকতে হয়। রাতে তাদের ছেলে বন্ধুরা যখন ফেইসবুকে ঘুরাঘুরির স্ট্যাটাস দেয়; দু:খে মরে যেতে ইচ্ছে করে। কেন যে মেয়ে হয়ে জন্মালাম। তবে কেনাকাটার নাম করে তারা রাতে শহরে ঘুরে। মা আর কাজের মেয়েকে অন্য রিকশায় তুলে দিয়ে দুবোন এ দোকান থেকে ও দোকান যায়। কেনাকাটা মূখ্য নয়, ইচ্ছে করেই দেরী করে তারা। আজ প্রায় এগারটা বেজে গেল। রিকশায় উঠেই তান্নির দরদ মাখা কথা- ”আপা তোর বিয়ে হয়ে গেলে, তুইতো দুলাভাইয়ের সাথে ঘুরতে পারবি। আমি কার সাথে ঘুরবো।” বোনের সাথে মজা করার জন্যই মুন্নি বলে- “তুই রিকশাওয়ালার সাথে ঘুরবি। এই ড্রাইভার তুমি আমার বোনকে বিয়ে করবা। এই দেখো আমার বোনটা পরীর মতো সুন্দর।” তান্নি মজাটা হজম করতে পারে না। জেলরোডের কাছে এসে রাগে দুঃখে রিকশা থেকে লাফ দেয় সে।

”খুনটা না করলেও পারতাম”- মনে মনে ভাবে কবির। জেলখানায় বসেও শহরের চিৎকার চেচামেচি কানে আসছে তার। একটু পর খাবার দিবে। জেলখানায় একটা ছোট্ট কক্ষে গাদাগাদি করে ঘুমাতে হয় তাকে। কোন রাতেই তার ঘুম আসে না। খুব ইচ্ছে ছিল মডেল হবে। মায়ের কানের দুল চুরি করে কিছু টাকা পেয়েছিল। সেগুলো দিয়ে এক পরিচালককে ম্যানেজ করে ফেলেছিল। শিবগঞ্জের এক মেসে বন্ধু নাসিরের সাথে থাকতো আর এমসি কলেজে ইকোনমিক্স এ পড়তো কবির। একদিন নাসির মদ খেয়ে এসে কবিরের মাকে নিয়ে খারাপ খারাপ কথা বলতে শুরু করলে। রক্ত উঠে গেল মাথায়। যতক্ষণ নাসির না মরে যায় ততক্ষণ প্যান্টের বেল্ট দিয়ে তাকে পিটিয়েছিল কবির। বিভৎস লাশটি গুম করেও ফেলেছিল। কিন্তু হঠাৎ মনে হলো সে ভিলেনের মতো বাঁচতে চায় না। সে নায়ক, নায়কের মতোই বাঁচবে। সিনেমার শেষে যেমন নায়ক জেল থেকে বেড়িয়ে আসে, সেও একদিন বেড়িয়ে আসবে।

ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন হিরোইন ডেইজি। পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান চুন্নুর ছবিতে ডেইজির প্রথম অভিনয় সারাদেশে সাড়া পরে গেছে। প্রতিদিন কোননা কোন নতুন অফার পাচ্ছে। নাটক, বিজ্ঞাপন, উপস্থাপনা এমনকি গান গাওয়ারও অনুরোধ পাচ্ছে ডেইজি। তবে ডেইজি চলচ্চিত্র ছাড়া আর কিছুই ভাবে না। হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে বসেছে আজ। কয়েকটা পাতা পড়ে আর ছাদে চাঁদ দেখে হাটাহাটি করে। হঠাৎ চুন্নু সাহেবের ফোন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধরে- “আরে নায়িকা ঘুমাও নাই? আচ্ছা তুমি মৌসুমীর- কাল তো ছিলাম ভাল, আজ আমার কি হলো; গানটি তো দেখেছো। আমি এটা রিমেইক করবো আমার মতো করে। অভিনয় করবা?” ডেইজি হুমায়ূনে মজে ছিল। চাঁদ থেকে চোখ নামিয়ে হাতের ঘড়ির দিকে তাকালো- রাত তিনটা। “চুন্নু ভাই, আমি কি মৌসুমী আপুর মতো এক্সপ্রেশন দিতে পারবো? পারবো না।” বলেই ফোনটা রেখে দেয় ডেইজি।

বালুচর পয়েন্টে দুই যুবক সিগেরেট হাতে নিয়ে হাটছে। আজ রাতের আকাশে অর্ধেকটা চাঁদ। একটু পরপর মেঘেদের দল ঢেকে দিচ্ছে। রাতজাগা পাখিরা কেউ কেউ সুখ কেউ কেউ এক বুক কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছে। তাদের কোন কষ্ট নেই। তারা হাটছে তো হাটছেই, হাটছে তো হাটছেই। নরম হাওয়াটা খারাপ লাগছে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০২০ রাত ৩:০১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন মরুঝড়: রেড নোটিশের খোঁজে আরিয়ান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:১৬



দুবাইয়ের জুমেইরাহ বিচের বিলাসবহুল পেন্টহাউসের কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের কৃত্রিম দ্বীপগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলেন সায়েম চৌধুরী। একসময় ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×