প্রথম আলোতে চিঠি পত্র বিভাগে প্রকাশিত PRIVATE VARSITY সম্পর্কিত একটা চিঠির জবাবে আমার লেখা,
" ছাগল কি আর গাছে ধরে?"
এই পোস্ট টি পড়ুন।
মেধার মূল্যায়ন
আসনস্বল্পতা ও পছন্দসই বিষয়ে সুযোগ না পাওয়ার কারণে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রীকেই বেছে নিতে হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু আমাদের সমাজের অনেক মানুষেরই ধারণা, যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তারা হয়তো প্রকৃতপক্ষে মেধাবী নয়, কিংবা টাকার জোরেই গ্র্যাজুয়েশন করছে। প্রকৃতপক্ষে দৃশ্যটি এমন নয়।
আমাদের দেশে বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী আছে, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছে এবং তারা আসলেই ভালো ছাত্রছাত্রী। তাই যেকোনো সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও তাদের সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এটা আমাদের সাধারণ বিবেচনা দিয়েই উপলব্ধি করা উচিত। যদি একটি কক্ষে পাঁচটি চেয়ার থাকে, কিন্তু ছয়জন লোক ঢুকে যায়, তাহলে তো অবশ্যই বাড়তি একজনকে ঘর থেকে বের হয়ে আসতে হবে ও বিকল্প কোনো পথ খুঁজতে হবে। তাই যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক বেসরকারি ও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর মেধাকে মূল্যায়ন করা উচিত নিরপেক্ষভাবে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয়।
দিপা সরকার
খিলক্ষেত, ঢাকা
সংবাদটি দেখতে নিচে ক্লিক করুন
Click This Link
দীপা সরকার, আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আপনি যে কথাটা বলেছেন তার পুরোটাই মিথ্যা । এখন প্রশ্ন হল আপনি জেনেশুনে মিথ্যা বলেছেন নাকি না জেনে মিথ্যা বলেছেন? সে যাই হোক, অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আপনি একটা বড় ধরনের মিথ্যা বলেছেন। বাংলাদেশের বেসরকারি ভারসিটির মান যে কি, সে সম্পরকে আমরা ভালভাবে অবগত আছি। আপনার লেখা পড়ে মনে হল আপনি বেসরকারি ভারসিটির ছাত্রী। প্রথমে আসি মেধাবীর প্রশ্নে। আসলে মেধাবী কারা? বাংলাদেশের অনেক উচ্চ শিক্ষিত মানুষ ই জানে না, বাংলাদেশের একমাত্র মেধাবী হইল ব্লগার মেঘদুত বুয়েট, ঢাকা ভার্সিটি , মেডিকেল কলেজের সার্টিফিকেট একমাত্র পুরো দুনিয়ায় তারই আছে। মেধাবী অন্য জিনিস। সেটা বোঝার ক্ষমতা সারাদুনিয়ায়া শুধু তারই আছে। এটা অবশ্য আপনাকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। কারন, আমাদের দেশে এই মেধাবী শব্দটার যত অপব্যবহার হয় পৃথিবীর অন্য কোন দেশে হয় বলে মনে হয় না। তো এই দেশে আছোস কি করতে? অন্য দেশে গিয়া মর। এদেশের পত্র-পত্রিকায় যেভাবে মেধাবী শব্দের অপব্যবহার করে (এই দেশে কপিরাইটকৃত রেজিস্টার্ড মেধাবী একমাত্র তিনিই)......থাক , সে কথা আপনাকে বলে লাভ নেই। এবার আসি আসল কথায়। কারা বেসরকারি ভারসিটিতে পড়ে? এক কথায় বলা যায়, যাদের ব্লগার মেঘদুতের মত যোগ্যতা নেই আর মোটামুটি টাকা খরচ করতে পারে (যেন টাকা পয়সা হাতের ময়লা) এমন এমন পরিবারের আদরের দুলাল/দুলালিরা (উনি উনার পরিবারে নির্যাতিত, আদর সোহাগ কোনদিনও পান নাই) শুধুমাত্র একটা সার্টিফিকেটের জন্য বেসরকারি ভার্সিটিতে পড়ে। আপনি বলতে পারেন,”এই কথার প্রমান কি?” প্রমান ব্লগার মেঘদুত নিজে। এই ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি নাম করা বেসরকারি ভারসিটিতে তার শত্রুরা পড়ে (আহসান উল্লাহ, সিটি, ইস্ট-ওয়েস্ট, এশিয়া-প্যাসিফিক, ব্রাক,নর্দান, ইউ আই ইউ ইত্যাদি) । ওদের সবকটি ভার্সিটির সিলেবাস উনার টপ টু বটম সব মুখস্ত। যারা স্কুল- কলেজে তার থেকে ২০০-৩০০ (১১০০ নম্বরের মধ্যে) নম্বর বেশী পেত তাদের CGPA 3.5 থেকে 3.9 পর্যন্ত ওঠে। আর পাবলিক ভারসিটে তে তার CGPA ৩.০০ উঠাতে হিমশিম খেতে হয়। তার বন্ধুরা যারা CGPA 3.5 থেকে 3.9 তোলে তিনি নিজ উদ্যোগে তাদের রুমে রুমে গিয়ে তার তৈরী শর্ট সাজেশনের উত্তর কপি দিয়ে আসতেন, আর এটা করতে তাকে বইও খুলতে হয়না। কারন, যারা বই লিখছে তারা কাছ থেকে প্রব্লেম সলভ করে নিয়ে গেছে। “ আর তার কিন্তু, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটা বেসরকারি ভারসিটিতে admission test দেয়ার experience আছে(ঠেলার নাম বাবাজী, উনি প্রথম বারে চান্স পান নাই সরকারীতে)। ওরা যে প্রশ্ন করে, তার মান বলতে কিছু নেই, তাই উত্তরও উনি দিতে পারেন নাই। বুয়েট, মেডিকেল, ঢাকা ভারসিটি বা অন্য পাবলিক ভারসিটির সাথে তার প্রশ্নের মানের আকাশ-পাতাল পার্থক্য(পার্থক্য দেখিয়া তিনি আকাশ থেকে পাতালে ধপাত করিয়া পড়িলেন)। আর একটা সহজ উদাহরন দিলে আপনার বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেখা যায় (প্রোগ্রামিং, বিজনেস থিওরি...) তাতে পাবলিক ভার্সিটি গুলো্র সাথে বেসরকারি ভার্সিটি গুলোও সমান তালে ভালো করছে (এই দেখিয়া উনার মাথার আরেকখানি তার ছিড়িয়া গেছে)। বেসরকারি ভার্সিটি ল্যাব গুলোর অবস্থা তো মোটামুটি ভালো। ওদের মান এখন অনেক ভালো।
আপনি বলেছেন,”আমাদের দেশে বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী আছে, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছে এবং তারা আসলেই ভালো ছাত্রছাত্রী।“ আপনার কথার উত্তরে বলি ,” বেসরকারি ভার্সিটি স্টুডেন্টরা যদি অক্লান্ত পরিশ্রম করে , তাহলে বলতে হয় ব্লগার মেঘদুত জীবন বাজী রেখে, মরণপণ, হাড্ডাহাড্ডী, Do or Die পরিশ্রম করে পাশ করেন। ভাল স্টুডেন্ট কি সেই সম্পরকেও আপনার নুন্যতম ধারনা নেই, ব্লগার মেঘদুতকে দেখে ধারণা নিন। আপনি বলেছেন,” এটা আমাদের সাধারণ বিবেচনা দিয়েই উপলব্ধি করা উচিত। যদি একটি কক্ষে পাঁচটি চেয়ার থাকে, কিন্তু ছয়জন লোক ঢুকে যায়, তাহলে তো অবশ্যই বাড়তি একজনকে ঘর থেকে বের হয়ে আসতে হবে ও বিকল্প কোনো পথ খুঁজতে হবে।“ আপনার এই কথার উত্তরে বলি,” মেঘদুত সাহেব একাই ৫ টি চেয়ার দখলের ক্ষমতা রাখেন, উনার চেয়ে যোগ্য ম্যাধাবী এই বাংলার মাটিতে আর দ্বিতীয়টি কেউ পয়দা হয় নাই। তিনি তো পারলে কুকুরের গলার সারটিফিকেটও(চেইনকে তিনি সার্টিফিকেট মনে করেন, বোকচোদ কোনহানকার) ছিনিয়ে নিতে কুণ্ঠাবোধ করেনা।
দয়া করে পত্র-পত্রিকায় নিজেদের মেধা সম্পরকে ল্যাদানো বন্ধ করে উনার মেধাকে পেপার পত্রিকা, টিভি, রেডিও, ইন্টারনেট, ব্লগ, ফেসবুক, এলাকার চা এর দোকান, পুড়ির হোটেল, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, রাস্তাঘাট, ফেরীঘাট, ট্রেন স্টেশন, কবরস্থান সব জায়গায় লাদিয়ে বেড়ান।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১২ সকাল ৯:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


