somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিন্দুরা মুসলিমদের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক

২৪ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশের হিন্দু এবং মুসলিম সমাজের মধ্যে বিভিন্ন কারনে ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে নানা কুসংস্কার ছিল যার সুযোগ নিয়েছে ধর্ম ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন সময়ে অনেক সমাজ সংস্কারক জন্ম নিয়েছে এবং তাদের অসাধারণ চিন্তা ভাবনা দিয়ে সমাজে এনেছেন পরিবর্তন। যেমন হিন্দু সমাজে বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায়, জোত্যিরিন্দ্র ঠাকুর প্রমুখ। তারা হিন্দু সমাজে প্রচলিত সতী-দাহ, বিধবা বিবাহ না হওয়া, কৌলান্য ইত্যাদি কু-প্রথার বিলোপ ঘটান। মুসলিম সমাজেও হাজি শরীয়াতুল্লাহ, তিতুমীর, সৈয়দ আমীর আলী একটা পরিবর্তন আনেন। এই পর্যন্ত ঠিক আছে।
তবে ব্যাপার হল হিন্দু সমাজের সংস্কারকগন নিজেরাও সংস্কারক মুক্ত ছিলেন না। জোত্যিরিন্দ্র ঠাকুর কঠিনভাবে জমিদারী প্রথার পক্ষে এবং সাধারন মানুষের সম্পদের অধিকারের বিরোধী ছিলেন। রামমোহন রায় যখন ইউরোপ যান তখন সাথে একটি গরু এবং একজন ব্রাহ্মণ পাচক নিয়ে যান কারন তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ ইউরোপের মানুষ অচ্ছুত-ম্লেচ্ছ তাদের হাতে তৈরি খাবার তার জন্য নিষিদ্ধ। বর্তমানে সিংহভাগ হিন্দুই সকল এসব কুসংস্কার থেকে মুক্ত। তারা উপরের কুসংস্কার থেকে মুক্ত তো বটেই এমনকি তাদের সংস্কারকগন যে সকল কুসংস্কার এর মধ্যে ছিলেন তা থেকেও মুক্ত অর্থাৎ তাদের থেকেও আধুনিক। তারা আর অচ্ছুত, জাত-পাত বিচার করে না। মুসলিমদের সাথে একই সাথে খায়, খেলে, কোলাকুলিও করে। অন্যদিকে মুসলিমদের একটা বড় অংশ এখনও সেই আগের অবস্থাতেই আছে। তারা শরীয়াতুল্লাহ বা তিতুমীর থেকে আরও ভালভাবে মানবে কি উল্টো তাদের সংস্কার থেকে বহু দূরে। এখনও তারা মাজারে পূজা করে, অদ্ভুত কিছু অনুষ্ঠান পালন করে (যেমন তাজিয়া মিছিল), পীর পূজা করে, এমনকি পীরকে আল্লাহ মানে। কয়েকদিন আগে এক ছোট ভাই বলেছিল, দেওয়ান বাগী ভণ্ডের ভক্তরা নাকি তার পায়ের আঙ্গুলই নাকি চিকন বানিয়ে ফেলছে চুষতে চুষতে। যদিও বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায়, জোত্যিরিন্দ্র ঠাকুর এখন বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক না তবে শরীয়াতুল্লাহ, তিতুমীর বা আমীর আলীকে এখনও শতভাগ প্রাসঙ্গিক।
সুতরাং আমাদের আবেগ যাই বলুক, হিন্দুদের ধর্ম নিয়ে যতই মজা করুক কিছু আম জনতা। বাস্তবতা হল বাংলাদেশের বেশিরভাগ হিন্দু মুসলিমদের একটা বড় অংশের চেয়ে ১৫০ থেকে ২০০ বছর বেশি আধুনিক।
পুনশ্চঃ আমি সকল মুসলিম এর কথা বলিনি। আমি পীর ও মাজার পন্থীদের কথা বলেছি। তাদের সংখ্যা নেহাত কম না।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১২:৩০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×