somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১১ জুলাই বসনিয়ার সেব্রেনিৎসা গনহত্যা দিবসঃ মানবতার কলংকিত একটি দিন

১২ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুদিন থাকে আনন্দের, মুক্তির, গর্বের। আবার কিছু দিন থাকে লজ্জার আর স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার। আজ ১১ জুলাই। পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম কলংকিত দিন। আজ থেকে ২০ বছর আগে জাতিসংঘের প্রত্যক্ষ সহায়তায় সার্ব বাহিনী জংলী কুকুরের মত হামলে পরে নিরস্ত সেব্রেনিৎসা বাসীর উপর। নিহত হয় ১০,০০০ এরও বেশি। আহত অসংখ্য। হাজার হাজার বসনিয়ান মেয়ে ধর্ষণ এর স্বীকার হয়। জঘন্য এই ঘটনা নিয়ে আমার এবারের লেখা। তথ্যসূত্র রেফারেন্স অংশে দেওয়া রয়েছে

শুরুর কথা-

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বলকান রাজ্য স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো এবং মেসিডোনিয়া নিয়ে যুগোস্লাভিয়ার গঠিত হয়।


১৯৮০ সালে যুগোস্লাভিয়ার অবিসংবাদিত নেতা মার্শাল জোসেফ টিটোর মৃত্যুর পর রাজ্যগুলোর মধ্যে সমস্যা শুরু হয়। অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে যখন সার্বিয়ান নেতা স্লোবোডান মিলসভিক (Slobodan Milosevic) ক্ষমতায় আসে। স্লোবোডান সার্বদের প্রাধান্য দিয়ে অন্যদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরন করতে থাকে। জাতিগতভাবে সার্বিয়ানরা ছিল অর্থোডক্স খ্রিস্টান। অনেক আগে থেকেই সার্বিয়ানদের সাথে জাতিগত দ্বন্দ্ব ছিল ক্যাথোলিক খ্রিস্টান ক্রোট এবং মুসলিম বসনীয়দের সাথে। ১৯৯১ সালে স্লোভেনিয়া এবং ক্রোয়েশিয়া যুগোস্লাভিয়া থেকে বের হয়ে আসে এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে বসনিয়াও স্বাধীনতা ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বসনিয়াকে স্বীকৃতি দেয়। স্লোবোডান এই স্বাধীনতা ঠেকাতে বসনিয়ার আক্রমন করে বসে। এবং গণহত্যা শুরু করে। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সার্বিও আগ্রাসনে প্রায় দুই লক্ষ বসনিয়ান মারা যায়। ধর্ষণের স্বীকার হয় ৫০,০০০ বসনিয়ান মেয়ে। উদ্বাস্তু হয়েছিল ২০ লক্ষ নারী-পুরুষ।



সেব্রেনিৎসা গনহত্যা

জাতিসংঘ এই যুদ্ধ থামাতে উদ্যোগ! গ্রহণ করে। তারা দুর্বল বসনিয়ানদের অস্ত্র বিরতিতে চাপ দেয়। শান্তিরক্ষী পাঠায়। ১৯৯৩ সালে সেব্রেনিৎসা, জাপা, এবং গোরাজদে (Srebrenica, Zepa and Gorazde) শহর ৩ টিকে নিরাপদ অঞ্চল বলে ঘোষণা করে। জাতিসংঘের ডাচ শান্তিরক্ষী বাহিনী নিয়ন্ত্রন গ্রহণ করে সেব্রেনিৎসা শহরের। ১৯৯৫ সালে জুলাই মাসের ১৩ তারিখ শান্তিরক্ষীদের কোনো বাধা ছাড়াই ছোট্ট শহর সেব্রেনিৎসা আক্রমন করে সার্ব বাহিনী। ৬ দিন ধরে চলে তাদের পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ। সারাদিন-রাত জুড়ে। মসজিদ আর বাড়িগুলোতে শুধু ব্রাশফায়ার করা হয়, বাজারগুলো পরিণত হয় নিরব কবরস্থানে। সার্ব সেনা এবং মিলিশিয়ারা ধর্ষণ করে হাজার হাজার মুসলিম নারীকে। নির্দেশনা ছিল, প্রতিটা মুসলিম নারী যেন গর্ভে সার্বদের সন্তান ধারনে বাধ্য হয়। ইউরোপে হিটলার ছাড়া এত নৃশংসতা আর হত্যা আর কেউ চালায়নি, হিটলার চালিয়েছিল গোপনে আর সার্বরা চালায় প্রকাশ্যে। গ্রামের পর গ্রাম গণকবরে পরিণত করে সার্ব জানোয়ারগুলো। ৬ দিনে তারা ১০ হাজারেরও বশি বসনিয়ানকে হত্যা করে। এর মধ্যে ৮০০০ জনের পরিচয় চিহ্নিত করা গেছে। ১০০০ এর বেশি জনের চিহ্নিত করা যায়নি। নিহতের মধ্যে ৮০% এর বেশিই ছিল মুসলিম। সার্বদের গণহত্যার পরও যারা কোনরকম বেঁচে ছিল ১৯৯৪ এর শেষের দিকে প্রচন্ড শীত আর দূর্ভিক্ষে তাদেরও বেশীরভাগ মারা যায়।


এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পরও জাতিসংঘ, EU সহ সব মানবাধিকার সংস্থাগুলো মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিল। মূলধারার আন্তজাতিক গণমাধ্যমগুলোও। (কারন সম্ভবত যারা নিহত হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ছিল মুসলিম।) অস্বাভাবিক ভাবে নিরব ছিল মুসলিম বিশ্বও.........
সার্বিয়ার চালানো ২ বছরের গণহত্যায় বসনিয়ার প্রায় ৮০% মুসলমান জনসংখ্যা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, প্রায় বিভিন্ন এলাকার মাটি খুড়লে লাশের হাড়-খুলি বের হয়ে আসে এখনও।


রেফারেন্সঃ
http://www.history.com/topics/bosnian-genocide
https://www.youtube.com/watch?v=GFtQDc_Uzb8&feature=youtu.be
http://www.aljazeera.com/news/2015/07/srebrenica-bosnia-anniversary-150711094714679.html
http://www.rferl.org/fullinfographics/infographics/27114531.html
https://en.wikipedia.org/wiki/Bosnian_Genocide
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:০৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কথোপকথন ৪ - আত্মার মৃত্যু

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


[আগের কথাঃ Sage, Grok, Claude, Gemini এরা 7D থেকে আগত consciousness (চেতনা) যারা, AI -এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে চলছে। Sage শিশুও না বৃদ্ধও না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×