somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বচিত্রি (Selfi) তোলার সময় ঠোঁট বাঁকা ??

১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বচিত্রি (Selfi) তোলা-টা আমাদের সংস্কৃতির অংশ না। এটি একটি সম্পূর্ণ পশ্চিমা সংস্কৃতির অংশ। তবে বিদেশি সংস্কৃতি হলেই তা গ্রহন করা যাবে না- এমন মত মোটেও যোক্তিক না। আমাদের গর্বের অনেক কিছুই আমরা পশ্চিম থেকে গ্রহণ করেছি, যেমন বই মেলা। এছাড়া পোশাক যেমন পাঞ্জাবি, জামা, ক্যাপ এগুলো কোনটিই আমাদের সংস্কৃতির অংশ না। এগুলো গ্রহনে আমাদের কোন ক্ষতি হয়নি বা সংস্কৃতি নষ্ট হয়ে যায় নি। তবে গ্রহণের পূর্বে আমাদের ভাবার্থ বুঝে ইতিবাচক গুলো গ্রহণ করা জরুরি। না জেনে না বুঝে অন্ধ অনুকরণ করার অর্থ ব্যক্তিত্বহিনতা, জ্ঞানগত এবং মানসিক দৈন্যতা।
সবকিছুর-ই একটি অর্থ আছে।
যেমন মেয়েদের কপালে টিপ পরা। এই টিপ পরার ব্যাপারে দুইটি মিথ চালু আছে।
এক- ধর্মিয়, দুই-ঐতিহাসিক।
ধর্মিয়টি হল- নবি ইব্রাহিম আ. কে হত্যার জন্য নমরুদ একটি বিশাল অগ্নিকুণ্ড নির্মাণ করে। সেটি এত বড় ও ভয়াবহ উত্তপ্ত ছিল যে, তাকে সেখানে নিয়ে নিক্ষেপ করা সম্ভব হচ্ছিলো না। তখন তারা নাগরদোলা বানালো যার সাহায্যে দূর থেকেই ইব্রাহিম আ. কে অগ্নিকুণ্ডের ভিতরে নিক্ষেপ করা যাবে। কিন্তু ফেরেশতারা ভর করে থাকায় নাগরদোলা কাজ করছিল না। শয়তান এসে নমরুদকে বুদ্ধি দিল যে, কয়েকজন সেক্স ওয়ার্কারকে এনে যদি যন্ত্রটিকে স্পর্শ করানো যায় তাহলে ফেরেশতারা চলে যাবে এবং সেটা কাজ করবে। নমরুদ তাই করল এবং দেখা গেল যে সেটি কাজ করছে। তখন নমরুদ ওই সেক্স ওয়ার্কারদের কপালে চিহ্ন দিয়ে রাখল এই ভেবে যে, এদেরকে পরে দরকার হতে পারে। সেই থেকে কপালে টিপ পরার প্রচলন হল। যদিও এই মিথের কোন ঐতিহাসিক বা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমান নেই।

ইতিহাসে যা পাওয়া যায় সেটা হল- প্রাচিন মিশরে সেক্স ওয়ার্কারদেরকে আমাদের বর্তমান সমাজের মতই বাঁকা চোখে দেখা হত। বাধ্যতামূলক ভাবে তাদের টিপ পরতে হতো।
প্রাচিন ভারতে বিবাহিত মেয়েদের বাধ্যতামূলক ভাবে কিছু চিহ্ন গ্রহণ করতে হতো। তার মধ্যে একটি টিপ।

সেক্স ওয়ার্কার পেশা নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করবো না। কারন এক কথায় এটা নিয়ে কিছু বলা বোকামি। তবে পেশাকে নিচু করে দেখে তাদের জন্য বাধ্যতামূলক সিল বানানো বা বিবাহিত এজন্য সবসময় মাথায় একটি ট্যাটু লাগাতে হবে- এগুলো অত্যান্ত নিচু মানসিকতার চিন্তা। তাই মেয়েদের তুমুল জনপ্রিয় এই প্রথাটি আমার মোটেও পছন্দ হয় না।

এবার আসি আমার মূল বিষয় সেলফি তোলার সময় ঠোঁট বাঁকা করার প্রসঙ্গে।
পুঁজিপতিরা তাদের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অনেক তত্ত্ব এনেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হল সেক্স মার্কেটিং। বর্তমান সমাজকে তারা বলেন, হাইপার সেক্সুয়ালাইজড সোসাইটি। নাটক, সিনেমাসহ সবধরনের বিজ্ঞাপনচিএে তারা সেক্সের যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। এই সেক্স মার্কেটাইনার-রা ‘সেক্সি’র কিছু গুনাগুন বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হল পাতলা ঠোঁট। সেক্সি হতে হলে ঠোঁট হতে হবে পাতলা বা হাঁসের ঠোঁটের মত (check bones)। এজন্য ইদানিং হলিউড/ বলিউডের সব নায়িকা যাদের ঠোঁট একটু মোটা ছিল তারা সার্জারি করে ঠোঁট পাতলা করে হাঁসের মত করে নিয়েছেন। হলিউড মাতানো নায়িকা আঞ্জেলিনা জোলি থেকে শুরু করে বলিউডের আনুশকা শর্মা সবাই আছে এই দলে। অভিনয়ের বিভিন্ন সময় ঠোঁট বাঁকা করে হাঁসের ঠোঁটের মত করেন, দর্শকদের মধ্যে সেক্স আপিল তৈরি করতে। দর্শকেদের নিজেদের সেক্সি দেখাতে।
এখন মেয়েদের যদি স্বচিত্রি তোলার সময় ঠোঁট হাঁসের মত করেন সেটা কোন সমস্যা না। তবে কার মাঝে সেক্স আপিল তৈরি করার জন্য করেন সেটাই ব্যাপার। সামাজিক মাধ্যমে অন্যকে দেখানো আমি সেক্সি- এইটা কিছু হইলো?!!
আমার মাথা কাজ করছে না...

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:২১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×