
বাংলাদেশের স্কুল-কলেজে শিক্ষকেরা আমাদের কিছু মিথ্যা কথা শেখান, তার মধ্যে একটি হল একমাত্র বাঙালিরাই ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে। এটা ডাহা মিথ্যা কথা।
১৯৪৯ সালে রচিত ভারতের সংবিধানে বলা হয়, ভারতে ১৯৬৫ সালের মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করা হবে হিন্দিকে। এর বিরোধিতা শুরু করে দক্ষিণ ভারতের লোকেরা। এই আন্দোলন সবচেয়ে তীব্র হয়ে ওঠে তামিলভাষী মাদ্রাজে। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়। এতে সরকারি হিসাব অনুসারেই দু’জন পুলিশসহ মারা যায় ৬০ ব্যক্তি। কিন্তু বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৫০০ জন। এই আন্দোলনের ফলে হিন্দিকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পরিকল্পনা বাদ দেয় ভারত সরকার।
১৯৩৭ সালের জুলাই মাসে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী চক্রবর্তী রাজা গোপাল আচারি মাদ্রাজ প্রদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর হিন্দিভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। মাদ্রাজর তামিলভাষী মানুষ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। প্রায় তিন বছর ধরে এই আন্দোলন চলে। এ সময় পুলিশের হাতে প্রতিবাদকারী দু’জন ছাত্রের মৃত্যু ঘটে, আটক অবস্থায়। এ সময় পুলিশের হাতে বন্দী হয় এক হাজার ১৯৮ জন ব্যক্তি।
১৯৬১ সালের মে মাসের ১৯ তারিখ আসামের বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলনকারী এগারোজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
১৯৭৬ সালের জুন মাসের ১৬ তারিখ সাউথ আফ্রিকায় প্রায় সাত শত স্কুলের শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়, তাদের ভাষা আন্দোলনকে থামানোর জন্যে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
