
এক- গত কয়েক বছরে বিশ্ব রাজনীতিতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। আমেরিকা নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বকে চীন-রাশা, ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান জোট একটা ভাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। সিরিয়ায় ইঙ্গ-মার্কিন গংদের রাশা-চীনের কাছে প্রথম পরাজয়। আগামী কয়েক বছরে এই নতুন জোটের প্রভাব বাড়বে। এশিয়াতে এই জোট পশ্চিমাদের আধিপত্য খর্ব করবে সেটা অনেকটাই নিশ্চত। পাকিস্তান এশিয়াতে এই জোটের একটা বড় গুটি। আমেরিকার সাথে পাকিস্তানের প্রকাশ্যে বাক-যুদ্ধ এই জোটের পরিকল্পনার একটা অংশ। যতদিন যাবে পাকিস্তানের প্রভাব বাড়বে।
দুই- চীন পাকিস্তানে বিশাল বিনিয়োগ করেছে। আগামী কয়েক বছরে পাকিস্তানে চীনের প্রজেক্ট গুলো দৃশ্যমান হবে।
তিন- মার্কিন ব্লকের টাকার কুমির সউদি আরবের সাথে ধর্মীয় কারনে পাকিস্তানের সম্পর্ক ভাল। এমবিএস ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে পাকিস্তানে।
অর্থাৎ আগামী কয়েক বছর পরে যদি যুদ্ধ হয়, পাকিস্তান ছোট দেশ, ভারতকে বোমা মারতে হবে খুবই হিসাব করে কারন বোমা যদি চীনা প্রজেক্টে পরে তাহলে ভারতের অবস্থা কি হবে সেটা পাগলেও বোঝে। বহুদিন ধরে তারা অপেক্ষায় আছে অরুণাচল দখলের একটা উপলক্ষের জন্য। আবার বন্ধু সউদি প্রজেক্টে বোম পরলে সউদি রাজপরিবার চটবে। হিসাবটা একটু জটিল।
চার- রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সাথে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর নিয়মিত যৌথ মহড়া হচ্ছে। পাকিস্তান স্ব-প্রনোদিত হয়েই রাশার সাথে সামরিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করছে।
পাঁচ- মুখে যাই বলুক কাস্মীরের মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় এবং প্রশিক্ষণ দেয় পাকিস্তানই। আমেরিকা আফগান ছাড়া শুরু করেছে। আমেরিকা ছাড়া মাত্রই আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসবে তালেবানরা। আর সব যোদ্ধাদের পাঠিয়ে দেবে কাস্মীরে। রাশা-আমেরিকাকে হারানো আফগান যোদ্ধাদের ভারতের মোকাবেলা করা সহজ হবে না।
ভারতের একটা প্রধান সমস্যা ভারতের আশেপাশে সমর্থন করার কেউ নেই। এমনকি ভারতের আজীবনের বন্ধু আওয়ামী লীগও চীনা ব্লকের দিকে এগোচ্ছে। গত বছর প্রকাশ্যে ভারতের পক্ষে থাকার ঘোষণা দিলেও, এবার যুদ্ধ বিরোধী শান্তির কথা বলছে মূলত চীনকে খুশি রাখতে। নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপের ক্ষমতায়ও চীনপন্থীরা।
কিন্তু পাকিস্তানের সাথে প্রতিবেশী চীন, রাশিয়া, ইরান রয়েছে। এদের সাথে দিনে দিনে পাকিস্তানের সম্পর্ক দৃঢ় হচ্ছে।
বর্তমানে যুদ্ধের ফলাফল মাঠে না, টেবিলে নির্ধারিত হয়। পাকিস্তান সেই হিসাব ভালভাবেই কষে নিয়েছে। আগামী ৫/১০ বছর পরে যুদ্ধ হওয়া মানে অনেকটা ভারতের জন্য মরন ফাঁদ। তাই ভারত এখন এমন পাগল হয়ে গেছে।
ঘটনা যাই হোক শান্তিকামীর পোশাক পরে পাকিস্তান এখন যুদ্ধ লাগাবে না। তারা সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে, হঠাৎ করে ভয়াবহ দ্বায়িত্বশীল বা যুদ্ধ বিরোধী হয়ে গেছে ব্যাপারটা তা না।
ইমরান খানের অভূতপূর্ব এই কূটনৈতিক সফলতা, ভবিষ্যৎ যুদ্ধে নিশ্চিত ভাবেই পাকিস্তানকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




