somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ একজন রুমানা ম্যাডাম, তথাকথিত নারীবাদী গোষ্ঠী এবং সমাজের লৈঙ্গিক সংঘাত

২৪ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানীং ফেসুবুক, ব্লগ সাইট সহ সকল ধরনের সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট খুললেই চোখে পড়ে কমন একটা ইস্যু নিয়ে ক্ষুরধার লেখা কিংবা ষ্টাটাস। বুঝতেই পারছেন ঢাবি শিক্ষক রুমানা মনজুর ইস্যুর প্রসংগ বলছি। এতদিন এই বিষয়ে কোনো ষ্টাটাসতো দূরের কথা কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলাম। কিন্তু ঘটনার তিন সপ্তাহ পরেও যখন ইস্যুটা নিয়ে মানুষের আবেগ দেখছি তখন আর নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলাম না। তাই একান্ত বাধ্য হয়েই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে এই নোটটা লিখতে বাধ্য হলাম।

যাদের ষ্টাটাস কম/নাই তাদের পক্ষে দাঁড়ানো আমাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে ওঠেনা। কিন্তু যাদের ষ্টাটাস হাই লেবেলের তাদের জন্য আমাদের সহানুভূতি যেন কয়েকগুন বেশি! আমি কোন নির্দিষ্ট ঘটনার কথা বলছিনা সামগ্রিকভাবেই মন্তব্য করলাম। আর রুমানা ম্যাডামের ইস্যুটা একটা পারিবারিক কলহের ইস্যু। এইটা নিয়া আমাদের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মরাকান্না দেখলে গাত্র দহন হয়। কেননা পারিবারিক কলহের এই ঘটনাকে তারা যেন জাতীয় ইস্যু বানিয়ে ফেলেছেন! এমনকি নারীবাদীরাও এই ইস্যু পেয়ে অনেকদিন পর মাঠ গরমের সুযোগ লাভ করেছেন। নারীনেত্রীরা নারী অধিকারের নামে সমাজে লিঙ্গ সংঘাত উস্কে দিচ্ছেন। কিন্তু তারা বোধহয় ভুলে যাচ্ছেন নারীহীন পুরুষ অচল তদ্রুপ পুরুষহীন নারীও অসম্ভব। সুতরাং নারী-পুরুষের সহাবস্থান এবং নারী-পুরুষের সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নারী-পুরুষ সম্পর্ক শত্রুতা নয় বন্ধুতায় পরিনত করতে হবে।

নারীবাদীরা (তথাকথিত নারীনেত্রীরা) মনে করেন নারী অধিকার মানেই নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং পাশ্চাত্য অনুকরনে খোলামেলা চলাফেরা করার স্বাধীনতা। তথাকথিত আধুনিক এই করপোরেট যুগে নারীদের শারীরিক প্রদর্শনে তাদের কোনো আপত্তি নাই। তারা পুরুষকে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবেই ধরে নেন এবং পুরুষ বিরোধী ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে বাহবা কুড়ান। কিন্তু দুঃখের বিষয় তারাও কারও স্ত্রী, কারও কন্যা কিংবা কারও ভগ্নি। তদ্রুপ এই সমাজে অনেক কট্টর পুরুষকেও দেখা যায় যারা নারীকে মানুষ হিসেবে তুচ্ছ জ্ঞান করেন। অথচ তারা প্রত্যেকেই কোন না কোন নারীর গর্ভে জন্মেছেন। এই জাতীয় নির্বোধ লোকদের জন্যই নারী-পুরুষ দ্বন্দ্বের উৎপত্তি।

আমার এই লেখার উদ্দেশ্য কোন পক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করা নয়। শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার জন্য যাতে কেউ নারী কিংবা পুরুষ বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিয়ে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত না করেন। আমরা মানুষ। জন্মগত ভাবে কেউ নারী কেউ পুরুষ। কিন্তু আমাদের পরিচয় আমরা মানুষ। তাই কাউকে নারী কিংবা কাউকে পুরুষ হিসেবে গন্য না করে মানুষ হিসেবে দেখুন। নিজেকে নিজে বদলে দিয়ে দেখুন আমাদের সমাজটাও একদিন বদলে যাবে ঠিক। সেই সুন্দর বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশায়।

পুনশ্চঃ এই লেখা দ্বারা আবার আমাকে এই বলে গালি দিবেন না যে আমি হাসান সাঈদের পক্ষ নিয়ে রুমানা ম্যাডামকে দায়ী করছি কিংবা ঘটনাটাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ধরে হাইলাইটস করতে নিষেধ করছি। হাসান সাঈদ যা করেছে তার বিচার আমাদের নিজস্ব আইনেই চলবে। আমি শুধু বলতে চাইছি এই ঘটনাকে পুঁজি করে কেউ কেউ নারী আন্দোলনের নামে সুকৌশলে নারী-পুরুষ সংঘাত তৈরীর অপচেষ্টা করছেন। আবার অনেক গুরুত্বপূর্ন ইস্যু বাদ দিয়ে আমরা এই ইস্যুকে ঘিরে তর্ক-বিতর্ক করছি। আমি শুধু এই কথাগুলোই বলতে চেয়েছি। সুতরাং আমাকে কেউ ভুল বুঝবেন না। সবাই ভালো থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১১ বিকাল ৪:২২
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×