১৯৫২ সাল। ২১ ফেব্রুয়ারী। একটা মেয়ে হাজার হাজার মানুষের সামনে গান গাচ্ছেন স্টেজে উঠে?
আচ্ছা ১৯৫২ সালের প্রেক্ষাপটে একটা কি আপনাদের চিন্তায় এসেছে কখনো?
কিন্নর কণ্ঠে মেয়েটি গেয়ে চলেছেন- বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা গানটি। ভাবা যায়?
সমাবেশটি ছিল ভাষা আন্দোলনের সমাবেশ। স্থান রাজশাহী ভুবন মোহন পার্ক। ঢাকার সাথে তাল মিলিয়ে পুরো বাংলাদেশে চলছে কর্মসূচী।
ও হ্যাঁ, মেয়েটার নাম ই বলা হয়ে উঠে নাই। জাহানারা। জাহানারা অন্যতম প্রধান একজন ভাষা সৈনিক।
**
তৎকালীন সময়টা এখনকার মত ছিল না। মেয়েরা ইচ্ছে করলেই যা খুশি করতে পারত না, ইচ্ছে করলেই মার্কেটে বাজারে যেতে পারত না। এই সময়েই প্রেক্ষিতে আজগুবি শোনালেও এটা বাস্তব ছিল।
২২ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২। ঢাকা শহরে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে সমাবেশ। আচ্ছা সমাবেশে কি শুধু ছেলেরাই আসবে?
নাহ, প্রাণের দাবীর কাছে কোন ছেলে মেয়ে নারী পুরুষ ভেদাভেদ নাই। মেয়েদেরকেও শামিল করতে হবে এই সমাবেশে। কিভাবে করা যায়?
তিন চার জন মেয়ে পালকি গাড়িতে করে মাইকিং করছে, ভাবতে পারছেন এদের প্রয়াস? রাজশাহী কলেজের হোস্টেলের কাছে তারা পৌঁছাতেই পুলিশ তাদের তাড়া করে?
আশ্রয় দেয় কে জানেন?
একজন মৌলভী।
ও হ্যাঁ, সেই মহিলাদের নাম টাই বলা হল না, হাসিনা বেগম, হাফিজা বেগম, ফিরোজা বেগম।
ইনারা কেউ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
এযুগের প্রীতিলতারা ক্যামন জানি না, হয়তবা অসাধারণ হয়ে উঠবেন সময়ের পথচলায়। কিন্তু নিরবে নিভৃতে কিছু আংসাং প্রীতিলতা সবসময় সব সমাজেই এসেছেন, প্রচারবিমুখ এইসকল প্রীতিলতার জন্য ভাষার এই মাসে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা আর সম্মান।
হালের ছেলেমেয়েদের কাছে ভাষা আন্দোলন মানেই ঢাকার রাজপথ, ভাষা আন্দোলন মানেই সালাম বরকত রফিক জব্বার। কিন্তু তাদের পেছনেও অপরিচিত কিছু মুখ ছিলেন, নীরবে নিভৃতে কাজ করে গেছেন দেশের ত্বরে, ভাষা আন্দোলন সমগ্র দেশ জুড়েই হয়েছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



