somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সানবীর খাঁন অরন্য রাইডার
আঁচলের ঘ্রাণে বিমোহিত হতে মনে প্রেম থাকা লাগে। চুলের গন্ধ নিতে দুহাত বাড়িয়ে দেয়া লাগে। হাহাকার থাকা লাগে। দুনিয়া ছারখার হওয়া লাগে। সবাই আত্মা স্পর্শ করতে পারে না।আমার সমস্ত হাহাকার ছারখারে তুমি মিশে আছো।

আজও কিছু মানুষ পাকিস্তান সমর্থনকে জায়েজ করার জন্য ক্রিকেটের সাথে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা আফ্রিদির সাথে গণহত্যা না মেশানোর পরামর্শ দেয়

০২ রা মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাকিস্থানের ছক্কার মার দেখে তালি দেওয়া মানে নিজের মায়ের বস্ত্রহরন দেখে তালি দেওয়া।পাকিস্থানের চারের মার দেখে তালি দেওয়া মানে নিজের চোখের সামনে বোনের ধর্ষণ দেখে তালি দেওয়া বলেই মনে হয় আমার,আজও কিছু পাকি অবৈধ সন্তান আলো বাতাস ভোগ করে পাকি বাবাদের নাম নেয় কি নির্ভয়ে।এক একটা ম্যারী মি আফ্রিদী যখন আমি দেখি মনে থেকে একটা কথাই আসে"ভাই বাদ দেন এক একটা বাংপাকী জারজ এক এক ফোঁটা শুক্রানুর চরম অপচয়"
চলেন একটা গল্প বলি---
১৯৮০ সালে ভারত সফরের যাবার পথে একটা ছোট্ট সফরে ঢাকা এবং চিটাগাংয়ে দুটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলতে প্রথমবারের মত স্বাধীন বাংলাদেশে আসে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আসিফ ইকবালের নেতৃত্বে এ দলে ছিল তৎকালীন পাকিস্তানের সব তারকা ক্রিকেটাররা। ছিলেন তৎকালীন হার্টথ্রব ক্রিকেটার ইমরান খানও।
বিমানবন্দরে বিমান এসে থামার পর দেখা গেল প্রচুর তরুনী ভিড় করে আছে টারমাক ঘিরে, এক অভূতপূর্ব চাঞ্চল্য তাদের মাঝে। শেষবারের মত আয়নায় মুখ দেখে নিচ্ছেন তারা, শত হলেও তাদের স্বপ্নের পুরুষ ইমরান খান আসছেন…
দরজা খুলে দেখা দিলেন ইমরান, হাত নেড়ে অভিবাদন জানালেন তার নারীভক্তদের। নিচে নেমে হাত জোড় করে বললেন, নমস্তে… ইমরান খানকে সামনাসামনি দেখবার অভাবিত শিহরনে উপস্থিত নারীরা উপেক্ষা করে গেলেন সেই নমস্তে সম্বোধন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকি শুয়োররা আমাদের মা-বোনদের ভারতীয় মালাউন বলে গালি দিত, সেনাদের উপর জেনারেলদের অর্ডার ছিল, যতটা সম্ভব এই ইন্ডিয়ান নারীদের ভিতর সাচ্চা পাকিস্তানী বীজ বপন করে দিয়ে আসতে হবে। যেন এই দেশের পরের প্রজন্ম সাচ্চা পাকিস্তানী মুসলমান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে…
যুদ্ধশেষে এক পাকি অফিসার সহজ গলায় জানিয়েছিল, “আমাদের কাছে টিক্কা খানের নির্দেশনা ছিলো, যে একজন ভালো মুসলমান কখনোই তার বাবার সাথে যুদ্ধ করবে না। তাই আমাদের যত বেশী সম্ভব বাঙালী মেয়েদের গর্ভবতী করে যেতে হবে।”
ইমরান যে তার পূর্বপুরুষের মত তখনও, স্বাধীনতার নয় বছর পরেও তাদের ভারতীয় হিসেবে বিবেচনা করতেছে, সেইটা এয়ারপোর্টের টারমাকে দাঁড়ায়া শিহরনে কাঁপতে থাকা মেয়েদের মনে একটাবারের জন্যও আসল না। কিন্তু মিডিয়া সেই জিনিসটা ক্যাচ করল, প্রচার হবার পর কিছু তেজী বাঙালী যুবক স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ বাঙলা গালিতে ভরে দিল পাকিস্তানীদের। কিছু মিডিয়ায় পাকিস্তানী ক্রিকেটারদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হল, পাকিস্তানীরা তাদের পূর্বপুরুষদের ধারা বজায় রেখে বরাবরের মত নিতান্তই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করল বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে, বাঙ্গালীদের… ফলাফলটা হয়তো তারা কল্পনাও করতে পারেনি।
জানুয়ারির দুই তারিখে প্রথম দুইদিনের ফ্রেন্ডলি ম্যাচের টি- ব্রেকের সময় কিছু অতি সাধারণ শান্ত, মছুয়া(পাকিস্তানিরা আমাদের মাছ খাওয়াকে ব্যঙ্গ করে আমাদের মছুয়া বলে) বাঙালী ছেলে মাঠের ভেতর ঢুকে গেল। তারপর পাকিস্তানীদের ড্রেসিংরুমে ঢুকে যে পাকিস্তানীরা আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও ঠাট্টা করেছিল, তাদের সাউন্ড ছাড়া বাঙলা মাইর দিল। মাইর হইল, শব্দ হইল না। এই মাইরের কোন বাপ-মা, দাদা-দাদি কিংবা আত্মীয়-স্বজন নাই। পাকদলের স্পিনার ইকবাল কাসেমের হাত ভেঙ্গে গেল, অন্য ক্রিকেটাররা গুরুতর আহত হল… ম্যাচ এবং সফর ওইখানেই পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়…
এরপর অনেকদিন বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক বরফশীতল ছিল। পাকিস্তানী ক্রিকেট বোর্ড কিংবা অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা অবশ্য তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চায়নি। অবশ্য তারা যেখানে ৭১রের জন্যই ক্ষমা চায়নি, সেখানে এইটা তো বড়ই মামুলি ব্যাপার…
তারপরও আজো কিছু মানুষ পাকিস্তানকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে সমর্থন করে, তারপরও কিছু মানুষ পাকিস্তান সমর্থনকে জায়েজ করার জন্য ক্রিকেটের সাথে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা আফ্রিদির সাথে গণহত্যা না মেশানোর পরামর্শ দেয়
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:৩৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তবু একদিন হেমন্ত এলে অবকাশ পাওয়া যাবে

লিখেছেন অধীতি, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২০

“সুজাতাকে ভালোবাসতাম আমি-
এখনো কি ভালোবাসি?
সেটা অবসরে ভাববার কথা,
অবসর তবু নেই;
তবু একদিন হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে
এখন শেলফে চার্বাক ফ্রয়েড প্লেটো পাভলভ ভাবে
সুজাতাকে আমি ভালোবাসতাম কি না।”


তবুও একদিন হেমন্ত আসে কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৯ নিশীথে ফুটেছে ফুল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৪

বাইরের জানালার পাশে গভীর রাতে ফুটে ওঠা ফুলের সৌন্দর্য রহস্যময়, আকর্ষণীয় মনে হলো বলেই থমকে দাঁড়ালাম। ক্যামেরায় ধরলাম। ফুল আর কলি যেন কথা বলে উঠলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×