somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সানবীর খাঁন অরন্য রাইডার
আঁচলের ঘ্রাণে বিমোহিত হতে মনে প্রেম থাকা লাগে। চুলের গন্ধ নিতে দুহাত বাড়িয়ে দেয়া লাগে। হাহাকার থাকা লাগে। দুনিয়া ছারখার হওয়া লাগে। সবাই আত্মা স্পর্শ করতে পারে না।আমার সমস্ত হাহাকার ছারখারে তুমি মিশে আছো।

স্বপ্ন দৃশ্যপট

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাবার রুমের সামনে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে ছেলেটা, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে। অনুশোচনা আর অনুতাপের আগুনে পুড়ছে সে, ক্ষমা চাওয়া তো দূরে থাক, কিভাবে বাবার সামনে দাঁড়াবে, সেটাই বুঝতে পারছে না। ক্রিকেটটা দুইজনেই প্রানের চেয়েও বেশি ভালবাসে, তবে তার বাবার চাওয়াটা আরও বিস্তৃত । ছেলে ক্রিকেটার হবে, জাতীয় দলে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নামবে, এই স্বপ্নটুকু সফল করতে গত কয়েক বছর দিন রাত খাটছেন বদিউল আলম। ঠিক এখানেই ঘোর আপত্তি ছেলের, পরিশ্রম বা খাটাখাটনি ব্যাপারটায় একেবারেই আগ্রহ নাই তার।
অথচ মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিভাটা জন্মগত তার, কিন্তু ফুটওয়ার্কে গোলমাল আর শর্ট বলে দুর্বলতাটা খুব চোখে লাগছে ইদানিং। প্রতিদিন ভোরে ছেলেকে তুলে দেন বাবা। যেন সে প্র্যাকটিসে একটু আগে আগে গিয়ে এটা নিয়ে বাড়তি কাজ করে, বড্ড একঘেয়ে আর বিরক্তি লাগে ছেলেটার। গতকাল এই নিয়েই কথা কাটাকাটি, সাত সকালে ঘুম থেকেই উঠেই ছুটতে পারবে না সে। মেজাজ হারিয়ে ফেললেন বাবা, উঁচু গলায় বকা শুনে রেগে গেল ছেলেও। “ খেললাম না তোমার বালছালের ক্রিকেট, কি করবা তুমি? “ কথাটা শুনে নির্বাক কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলেন বাবা, আর একটা কথাও বললেন না, বেরিয়ে গেলেন ওর রুম থেকে। মাথা ঠাণ্ডা হবার পর নিজেকে লাত্থি মারতে ইচ্ছে হয়েছে ছেলেটার, কিভাবে সে বলতে পারল কথাটা? সে কি জানে না, এই মানুষটা তার জন্য কি ভয়ংকর পরিশ্রম করছে?
সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে হুট করে পর্দা সরিয়ে ঢুকে গেল ছেলেটা, বাবার পা’টা জড়িয়ে ধরবে আজ। ঢুকেই এক বিচিত্র দৃশ্য চোখে পড়ল তার, জানালার পাশে কালো কাপড়ে ঢাকা যে ছবিটা ছিল, সেটা থেকে কাপড়টা সরে গেছে। রাজপুত্রের মতো চেহারার একটা ছেলে, হাসিহাসি মুখে তাকিয়ে আছে,সামনে নিশ্চল দাড়িয়ে বদিউল আলম। ধীরপায়ে বাবার পাশের গিয়ে দাঁড়াল ছেলেটা, আস্তে করে জিজ্ঞেস করল, উনি কে বাবা?
— “ও আমার বন্ধু।“ ধীরকণ্ঠে বলতে শুরু করেন বাবা। “ওর নাম জুয়েল, আবদুল হালিম খান জুয়েল। ছোটবেলা থেকে প্রচণ্ড ডানপিটে ছিল ও, দুষ্টুমিটা ছিল ওর ধ্যানজ্ঞান। একটু বড় হতেই অবশ্য সেটা ক্রিকেটে বদলে গেল। সারাদিন কেবল ক্রিকেট আর ক্রিকেট। খেলতোও সেইরকম। আজাদ বয়েজ ক্লাবের হয়ে ওপেনিংয়ে নামতো, ৪৫ ওভারের ম্যাচ। ধুমধাড়াক্কা বাইড়ানির চোটে বিপক্ষ দল চোখে অন্ধকার দেখত, নাকের জল-চোখের জল এক হয়ে যেত বোলারদের। স্লগ সুইপটা অসাধারন খেলত, বল জিনিসটা যে পেটানোর জন্য, এইটার সবচেয়ে বড় উদাহরন ছিল ওর ব্যাটিং। উইকেট কিপিং করত, মাঠ মাতিয়ে রাখতো সবসময়। জন্মরসিক ছিল শালা। একটা জুটি দাঁড়ায়ে গেছে, উইকেট পড়তেছে না, দেখা গেল উইকেটের পিছে দাঁড়ায়েই বান্দা একের পর এক রসিকতা করে যাইতেছে। বেচারা ব্যাটসম্যান হাসতে হাসতেই আউট… কি বিপদ, দেখোতো…
বলতে বলতে গর্বের হাসি ফুটে ওঠে আলম সাহেবের মুখে, অবাক বিস্ময় ছেলের চোখে, “উনার আর আমার নাম তো একেবারেই এক, আমিও তো ওপেনিংয়ে ব্যাট করি। অথচ তুমি তার সাথে দেখা করায়ে দেওয়া তো দূরে থাক, তার ছবিটা পর্যন্ত দেখতে দাও নাই এতদিন…” অভিমানে গাঢ় শোনায় ছেলের গলা…
মলিন হয়ে গেল পিতার মুখ, কোথেক্কে চাপা এক বিষাদ ভর করল তার গলায়, “স্টেডিয়ামে ওর স্লগ সুইপ দেখে এক পাকিস্তানী কোচ বলছিল, “’ও এইখানে কি করতেছে? ওর তো ন্যাশনাল টিমে চান্স পাওয়ার কথা। ‘“ সত্যিই জুয়েলের জাতীয় দলে চান্স পাওয়ার কথা ছিল, পাকিস্তানের সেরা ওপেনার ছিল ও। কিন্তু ও যে বাঙ্গালী , তখন পাকিস্তানে একটা বাঙ্গালী কুকুরবিড়ালের চেয়েও নিকৃষ্ট ছিল। ১৯৭১ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি। কমনওয়েলথ টেস্টে পাকিস্তান টিমের ওপেনার হিসেবে রকিবুল হাসান নামলো, প্রথম বাঙ্গালী ক্রিকেটার, ব্যাটের উপর ভুট্টোর নির্বাচনী প্রতীক সোর্ডের পরিবর্তে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা আর জয় বাঙলা লেখা স্টিকার জ্বলজ্বল করতেছে। এইটা দেখে স্টেডিয়ামে তো কেবল জয় বাঙলা আর জয় বাঙলা গর্জন। বেলা একটায় ইয়াহিয়া জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করলো, রেডিওতে এই ঘোষণা শুইনা কাজী কামাল চিল্লায়া উঠলো, ইয়াহিয়ার ঘোষণা, মানি না, মানবো না। পাশ থেকে গলা মিলাইলাম আমরা, জুয়েল, রুমি, বাশার, হ্যারিস- বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো… খেলা তো সেইখানেই পণ্ড, আমরা রাস্তায় নাইমা আসলাম, জনতার লাভাস্রোত…
—তারপর কি হইল, বাবা? খুব ধীর গলায় জিজ্ঞেস করে ছেলেটা।
— ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী হায়েনাগুলা ঝাঁপায়ে পড়ার পর বাঙ্গালী হতবুদ্ধি হইয়া গেল। দুঃখ না, কষ্ট না, মানুষ বিস্ময়ের ঘোর কাটায়ে উঠতে পারতেছিল না। এইটা কি হইল? আমাদের মধ্যে প্রায় সবাই তখনও বাইচা আছি, কিন্তু মুশতাক ভাইয়ের কোন খোঁজ নাই। জুয়েল ২৭ তারিখ আশরাফুলরে নিয়ে বাইর হইয়া গেল। ঢাকা জেলা ক্রীড়া ভবনের সামনে আসতেই ওরা মুশতাক ভাইরে খুইজা পাইল। বুলেটে বুলেটে ঝাঁজরা বুকটা, নির্বিবাদী , সদা হাস্যজ্বল মানুষটার নিষ্প্রাণ দেহটা খোলা আকাশে নিচে পড়ে আছে। আজাদ বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মুশতাক ভাইয়ের আপন শত্রুও এই অপবাদ দিতে পারবে না যে, তিনি কাউরে কোনোদিন একটা গালি দিছেন বা কোন ক্ষতি করছেন। রাত নাই, দিন নাই, খালি ক্রিকেট নিয়া পইড়া থাকতেন। বিনা অপরাধে এইভাবে মরতে হবে, এইটা হয়তো তার কল্পনাতেও ছিল না। নিষ্প্রাণ চোখ দুইটাতে তাই নিখাদ বিস্ময়। মুশতাক ভাইয়ের সেই দৃষ্টি জুয়েলেওর মাথায় গাঁইথা গেল, ব্যাট ফালায়া তুইলা নিল স্টেনগান, পাকি শুয়োরগুলারে মারতে হইব, দেশটারে স্বাধীন করতে হইব…
—তারপর? স্তব্ধ গলায় প্রশ্ন করে ছেলেটা।
— খেলার মাঠে মারকুটে ব্যাটসম্যান জুয়েল ছিল প্রচণ্ড বুদ্ধিদীপ্ত, সাহসী আর ঠাণ্ডা মাথার এক যোদ্ধা। মেলাঘরে মেজর খালেদ মোশাররফ আর ক্যাপ্টেন এটি এম হায়দারের কাছে দুই মাস ট্রেনিং নিয়া জুলাইয়ে আমরা ঢাকায় আইসা হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতিতে গেরিলা আক্রমন শুরু করলাম। আমাদের তারছিঁড়া কর্মকাণ্ডে ক্ষেইপা গিয়া খালেদ মোশাররফ আমাদের নাম দিছিলেন ক্র্যাক প্লাটুন। ফার্মগেট চেকপোস্ট অপারেশন, দারুল কাবাব অপারেশন, সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট অপারেশন ইত্যাদি বেশ কয়েকটা অপারেশনে পাইক্কাগুলার পুরা জান কাঁপায়া দিলাম। জমের মতো ভয় পাইত তখন আমাগোরে, সন্ধ্যার পর বাইরেই বাইর হইত না। এরমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ অপারেশনে পাকিগুলার গুলিতে জুয়েলের তিনটা আঙ্গুল ভাইঙ্গা গেল, হাড় ভাইঙ্গা গুলি ওইপাশ দিয়া বাইর হইয়া গেল। দ্রুতই ব্যান্ডেজ করা হইছিল, কিন্তু ঠিকঠাক ট্রিটমেন্ট হয় নাই। ওরে ডাঃ আজিজুর রহমানের কাছে নিয়া যাওয়া হইল। ব্যান্ডেজটা খুইলা তো তিনি আঁতকাইয়া উঠলেন, আঙ্গুল তিনটা মনে হয় আর রাখা গেল না। ক্যামনে জানি জুয়েল ডাক্তারের মনের কথা পইড়া ফালাইল, মিনতি কইরা কইল,
— দেশ স্বাধীন হইলে আমি ন্যাশনাল টিমের হইয়া ওপেনিংয়ে নামুম, ক্যাপ্টেন হমু। আঙ্গুল তিনটা রাইখেন স্যার, প্লিজ…
—“উনার আঙ্গুল তিনটা কি পরে ভালো হইছিল, বাবা? উনি কি ন্যাশনাল টিমের ওপেনার হইতে পারছিলেন?” প্রশ্নটা করতে গিয়ে গলাটা কেঁপে গেল ছেলেটার।
খুব ধীর পায়ে জানালার পাশে গিয়া দাঁড়ালেন বদিউল আলম, বুকের ভেতর থেকে যেন একরাশ হাহাকার বেরিয়ে এল, “জুয়েল প্রায় সময়ই হাসতে হাসতে বলত, পাকিস্তান তো ভাইঙ্গা দিতাছি, খালি স্বাধীন বাংলাদেশটা হইতে দে, দেখবি ক্যামনে পাইক্কাগুলারে হারাই। ওপেন করতে নাইমা পিটাইতে থাকুম, পিটাইতে পিটাইতে ছাল বাকলা তুইলা ফেলুম। শালার আঙ্গুল তিনটায় গুলি না লাগলেই আর সমস্যা হইত না। কবে যে ভালো হইব কচু, কবে যে ব্যাট ধরতে পারুম…
— “উনার আঙ্গুলগুলো আর ভালো হয়নি, বাবা? উনি কি আর খেলতে পারেন নাই?” ছেলেটার গলাটা খুব ক্ষীণ শোনায়…
— ২৯শে আগস্ট রাতে আজাদদের বড় মগবাজারের বাসায় অভিযান চালায় পাকিস্তানী সেনারা, তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল আলবদর কর্মী কামরুজ্জামান। আহত জুয়েলের সাথে সেই রাতে ওই বাসায় ছিল কাজী কামাল, আজাদ, টগর, বাশার। সবাইকে এক লাইনে দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করছিল, হাতিয়ার কিধার হ্যায়, অউর মুক্তি কাহা হ্যায়? পাথর মুখে দাঁড়ায়ে ছিল সবাই, কেউ জবাব দেয় নাই। আরও উন্মত্ত হয়ে যায় পাকিস্তানী সেনারা। জুয়েলের হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা দেখে হঠাৎ ভাঙ্গা আঙ্গুলগুলো শক্ত করে চাইপা ধরে এক সেনা, মোচড়াতে থাকে, চিবায়ে চিবায়ে জিজ্ঞেস করে,হাতিয়ার কাঁহা হ্যায় বোল… জুয়েলের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস।
হঠাৎ কাজী কামাল এক পাকি সার্জেন্টের অস্ত্র ছিনিয়ে পালায়ে যায়, ক্ষোভে অপমানে বাকিদের হাতকড়া পরিয়ে কুকুরের মতো মারতে মারতে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায় পাকি শুয়োরগুলা। প্রচণ্ড টর্চার করা হয় ওদের উপর, কিন্তু একটা কথাও বের করা যায় নাই। জুয়েলের ভাঙ্গা আঙ্গুলগুলো বারবার মুচড়াইছে ওরা, অবর্ণনীয় যন্ত্রনায় চিৎকার করে ওঠে ও, কিন্তু একটা কথাও বলে নাই, সামান্য তথ্যও দেয় নাই। সেপ্টেম্বরের চার তারিখে আলবদর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামির নির্দেশে এবং তত্বাবধানে মেরে ফেলা হয় ওদের, ক্র্যাক প্লাটুনের বীর যোদ্ধাদের লাশটা পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায় নাই…
বলতে বলতে গলা ধরে আসে বদিউল আলমের, পেছন থেকে বাবাকে জড়িয়ে ধরে হাওমাও করে কাঁদতে শুরু করে ছেলেটা। “ স্বাধীন বাংলাদেশ টিমে খেলার স্বপ্ন ছিল ওর, ওপেনিংয়ে ব্যাট করার স্বপ্ন ছিল। জুয়েলের স্বপ্নটা কিভাবে হারায়ে যাইতে দেই বল? জুয়েলরে ক্যামনে হারায়ে যাইতে দেই?” ছেলের কাছে এর চেয়ে বেশি কৈফিয়ত দিতে পারেন না বাবা, অসম্ভব যন্ত্রণায় গলা বুজে আসে তার…
দৃশ্যপট-২
বিশ্বকাপ ফাইনাল। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালের পর আর পাকিস্তানকে হারানো হয়নি, খুব কাছে গিয়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তাই যদিও বা-ঙ-লা-দে-শ বা-ঙ-লা-দে-শ স্লোগানের ঢেউয়ে গ্যালারীতে কান পাতা দায়, তারপরেও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভবনা নিয়ে কথা বলার মানুষ নাই বললেই চলে। আশা করবার মতো কোন উদাহরণই যে নাই নিকট অতীতে। তবে একজন মানুষ এখনো আশা ছাড়েন নাই। প্রচণ্ড অসুস্থ তিনি, ডাক্তার বলছে, সামান্যতম উত্তেজনাও ডেকে আনতে পারে বিপদ। কে শোনে কার কথা, স্টেডিয়ামে চলে এসেছেন ভদ্রলোক। আজ যে তার ছেলের অভিষেক। নিয়মিত ওপেনার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই নতুন একজনকে সুযোগ দিতে হয়েছে। কিন্তু ফাইনাল ম্যাচের মতো এতো বড় পরিসরে মাত্র ২১ বছরের এক তরুনের অভিষেক ঘটাবার কোন ইচ্ছেই ছিল না বেশিরভাগ নির্বাচকের। কিন্তু প্রধান নির্বাচকের অনড় যুক্তি, এই ছেলের খেলা আমি দেখছি, পুরাই বাঘের বাচ্চা। আমি ওর উপর বাজি ধরতে চাই। অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ই তো খেলল, পাকিস্তানরে তো হারাইতে পারলাম না। দেখি না ওরে খেলায়া কি হয়…
ব্যাট হাতে মাঠে নামতেছে বাংলাদেশ দলে ওপেনার আবদুল হালিম খান, ডাকনাম জুয়েল। ওকে নামতে দেখে গ্যালারীর এক কোনায় বসে থাকা মানুষটার চোখ হঠাৎ ভিজে গেল। অনেক অনেকদিন আগে জুয়েল নামে আরেকটা ছেলেও ঠিক এইভাবে ব্যাট হাতে ওপেনিংয়ে নামতে চাইছিল, স্বাধীন বাংলাদেশ দলের ওপেনার হয়ে। আকাশে দিকে তাকায়ে বোধহয় সেই হাসিখুশি ছেলেটাকে খুঁজলেন বদিউল আলম, গর্ব আর আনন্দের এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো তার মুখে, আপনমনে বললেন, দেখ জুয়েল, আমি তোর স্বপ্নকে হারাইতে দেই নাই, তোকে হারাইতে দেই নাই…
ঠিক তখনই আম্পায়ার ঘোষণা ক্রলেন, “প্লে” । উমর গুলের প্রথম বল, অফ স্ট্যাম্পের একটু বাইরে, অসাধারন কনফিডেন্সের সাথে কাভার ড্রাইভ করল অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান। ধারাভাষ্যকারের গলায় বিস্ময়, হোয়াট আ শট… হোয়াট আ টাইমিং!! নিজের শারীরিক অবস্থার কথা খেয়ালই থাকলো না বদিউল আলমের, আনন্দে লাফ দিয়ে উঠলেন, উচ্ছ্বাসিত হলেন বাচ্চা শিশুর মতো। পরের বল, এবার একটু শর্ট, ব্যাটটাকে ধরে কচু কাটা করার মতো করে পুল করল ব্যাটসম্যান, তিনটা ফিল্ডারের মাঝখান দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বল সীমানার বাইরে। আউটস্ট্যান্ডিং প্লেসমেন্ট, ওয়াও, ধারাভাষ্যকার পারলে এখনই মাঠে নেমে যান।
তারপরের এক ঘণ্টা স্রেফ টর্নেডো বয়ে গেল মাঠে, নাকের জল-চোখের জল এক হয়ে সরিষা ক্ষেত দেখতে শুরু করল পাকিস্তানী বোলাররা। বদিউল আলম ফিরে গেলেন সেই সময়ে, সেই কাভার ড্রাইভ, সেই স্লগ সুইপ, সেই লফটেড শট। ২৪ তম ওভারের শেষ বলে যখন আউট হল জুয়েল, পাকিরা উৎসব করতে ভুলে গেল। মাইরের চোটে এমনি তব্দা লাইগা গেছে ওদের যে, বিশ্বাসই করতে পারতেছে না জুয়েল আউট হইছে। দলের রান তখন ১৮২, জুয়েলের নামের পাশে জ্বলজ্বল করতেছে ১২১ রানের ইনিংস। মাথা উঁচু করে দর্শকের অবিশ্রান্ত করতালির মধ্যে দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেল ছেলেটা, মুখে এক টুকরো হাসি লেগে আছে, সেই পুরনো অমলিন এক টুকরো হাসি।
বেশ কয়েক ঘণ্টা পর। পাকিস্তান ৩২৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছে। মাশরাফির প্রথম ওভারেই দুই উইকেট পড়ে গেল পাকিস্তানের, প্রথম স্পেলে গেল চারটা। খাবি খেতে থাকা পাকিস্তানের ইনিংসে হাল ধরল মিসবাহ উল হোক আর সরফরাজ আলী। মাত্র ২৫ ওভারে ২১৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচটা যখন প্রায় বের করে নিয়ে যাচ্ছে ওরা দুইজন, তখনই সেকেন্ড স্পেলে মাশরাফি নিজেই বোলিংয়ে আসলো। কিন্তু নাহ, মিসবাহকে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে প্রায় সবাই মার খেয়েছে, সবচেয়ে বেশি ঝড়টা গেছে সাকিবের উপর। জুয়েলের সেই বিস্ফোরক ইনিংসের পর ধস নেমেছিল, কিন্তু এক প্রান্তে সাকিবের অপরাজিত ৮১ রানেই বাংলাদেশ ৩২৬ রানের পুজি দাঁড় করাতে পেরেছিল। বাট বোলিংয়ে প্রথম স্পেলে সেই ধারটা ধরে রাখা যায় নাই, কিন্তু মাশরাফি সাকিবের উপরেই ভরসা রাখল। ৪২ নাম্বার ওভারটা করতে আসলো সাকিব, আর প্রথম বলেই বুঝায়া দিল কেন তাকে এই গ্রহের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার বলা হয়। ২৪৭ রানে পাকিস্তানের ষষ্ঠ উইকেট পড়ল, ক্রমেই ম্যাচ বের করে নিতে থাকা মিসবাহ ৯৭ রানে সাকিবের অসাধারন এক আর্মারে বোল্ড হয়ে গেল। সেই ওভারের ৪র্থ বলে সরফরাজ এবং শেষবলে সাইদ আজমলকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচ বাংলাদেশের আয়ত্বে নিয়ে এল সাকিব। স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে কেবল শহীদ আফ্রিদী ছাড়া আর কেউ নেই ক্রিজে।
দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চোখ বন্ধ করে ছয় মারতে গিয়ে আউট হয়ে যায় বলে বিশেষ বদনাম আছে আফ্রিদির। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে ম্যাচ তার কাছে পুরোপুরি ভিন্ন একটা ব্যাপার, বাংলাদেশের সাথে হিসাবটা পাকিস্তানের বরাবরই পুরনো। তাই এইটা স্রেফ একটা ম্যাচ না, এইতা আরও অনেক কিছু। একাত্তরে কানে ধরে নাকে খত দিতে হইছিল এই বাঙ্গালীদের সামনে, ৯৯ য়ের বিশ্বকাপে সেই লজ্জার সে নিজেই একটা অংশ। সুতরাং একজন পাকিস্তানি হয়ে আরেকবার এই মছুয়া বাঙালিদের কাছে হারবে সে? কিভাবে সহ্য হবে তার?
তাই ডাকবিশেষজ্ঞ আফ্রিদি হঠাৎ করেই অতিমানব হয়ে উঠলো। একের পর এক বল আছড়ে পড়তে থাকলো সীমানার বাইরে। রিকোয়ার্ড রানরেট যতই কমতে লাগলো, গ্যালারীতে কিছু শুয়োরশাবকের আফ্রিদি আফ্রিদি চিৎকার ততই প্রকট হয়ে বাজতে লাগলো কানে।
বদিউল আলম তাকিয়ে আছেন । শুন্য দৃষ্টি। এক পাশে বিশাল স্কোরবোর্ড দেখাচ্ছে, পাকিস্তান নিড এনাদার ফরটিন রান ফ্রম সিক্স বলস, ওয়ান উইকেট ইন হ্যান্ড। ছুটে আসছে মাশরাফি, লাস্ট ওভারের প্রথম বল। অসাধারন আউট সুইঙ্গার, চোখ বন্ধ করে মারায় বল ব্যাটের ধারেকাছেও এল না। ২য় বলটাও স্ট্যাম্পের উপর ছিল, এবারও তেড়েফুঁড়ে হাঁকাতে গেল আফ্রিদি, এবারও মিস। চার বলে ১৪। চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষন নিজেকে বোঝাল , কি করছে সে?
জীবনে তো অনেকবারই অন্ধের মত আউট হয়েছে, দলের প্রয়োজন ছুড়ে ফেলে এসেছে, আজকেও কি সে তাই করতে চাচ্ছে? মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে গেল সে, শান্ত দৃষ্টিতে মাশরাফিকে দৌড়ে আসতে দেখলো, তারপর ঠাণ্ডা মাথায় চমৎকার প্লেসমেন্টে বলটা নিয়ে ফেলল গ্যালারীতে। স্টেডিয়ামের হৃদপিণ্ডটা হঠাৎ যেন থমকে গেল। ৪র্থ বলটা ইয়র্কার দিতে চেয়েছিল মাশরাফি, লো ফুলটস হয়ে ব্যাটের সামনে পড়ল। আবারো ছয়। নিঃস্পন্দ হয়ে গেল হাজার হাজার মানুষ, হতভম্ব মাশরাফির হতাশাটা যন্ত্রণা হয়ে ছড়িয়ে পড়ল মাঠের প্রতি ইঞ্চিতে, প্রতিটা মানুষের হৃদয়ে। শেষ দুই বলে দরকার দুই রান। তবে কি আজো হল না?
বদিউল আলম তাকিয়ে আছেন, কিন্তু কিছুই দেখছেন না। ভোতা একটা ব্যথা ছড়িয়ে পড়ছে ভেতরে, এ যন্ত্রণার কোন সীমা পরিসীমা নেই। ভাসাভাসা দেখতে পেলেন, ৫ম বলটা হল। মাশরাফির স্লোয়ার, প্রথমে পেসে বিভ্রান্ত হলেও শেষমেষ গায়ের সবটুকু জোর দিয়ে মেরেছিল আফ্রিদি, অনেক অনেক উপরে উঠেছে বল, গন্তব্য লং অফের সীমানা। তখনই হঠাৎ এক বিচিত্র দৃশ্য চোখে পড়লো আলম সাহেবের। মিড অফ থেকে উল্কার বেগে ছুটছে একটা ফিল্ডার, চোখ দুটো বলের দিকে। ছেলেটার নাম জুয়েল, আবদুল হালিম খান জুয়েল। ছেলেটা প্রানপনে দৌড়াচ্ছে, কানে ভেসে আসছে টুকরো টুকরো কথা, “দেশ স্বাধীন হইলে ন্যাশনাল টিমে খেলুম, ওপেনিংয়ে নামুম, ক্যাপ্টেন হমু। আঙ্গুল তিনটা রাইখেন স্যার, প্লীজ” হঠাৎ কেউ একজন চিৎকার করল, হাতিয়ার কাঁহা হ্যায় বৌল। মটমট শব্দ হল, তিনটা ভাঙ্গা আঙ্গুল কেউ একজন মোচরাচ্ছে, তীব্র আর্তচিৎকার, মাগো…
অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য দেখলো আফ্রিদি। মিড অফের ফিল্ডারটা দৌড়াতে দৌড়াতে সীমানার কাছে আচমকা এক লাফ দিল, মাটি থেকে অনেকটা উপরে, শিকারি ঈগলের মত হঠাৎ ডান হাতে ছোঁ মেরে লুফে নিল বলটা, তারপর পড়ে গেল, মাটিতে, সীমানার এ পাড়ে। তারপর হঠাৎ যেন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটলো, একশোটা বজ্রপাত হল একসাথে, কয়েকশো কিলোমিটার বেগে সুনামি আছড়ে পড়লো উপকূলে। কিন্তু না, এসবের কিছুই স্টেডিয়ামে এরপরের মুহূর্তে সবকটা মানুষের অসামান্য আনন্দের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসের স্রোতকে বোঝাতে পারবে না, ব্যাখ্যা করতে পারবে না এ অনির্বচনীয় অনুভূতিকে…
মাঠের সেই কোনায় অবশ্য তখন খুব বিচিত্র এক দৃশ্য দেখা গেল। জুয়েল নামের অভিষিক্ত সেই ছেলেটার হাতে তখনও সেই বলটা ধরা, তাকে বুকে নিয়ে কাঁদছেন বদিউল আলম। হাওমাও করে কাঁদছেন, বাবার কাঁধে মুখ গুঁজে হাওমাও করে কাঁদছে জুয়েলও। বাবার কাঁধে চড়ে বা-ঙ-লা-দে-শ বা-ঙ-লা-দে-শ স্লোগান দিচ্ছিল, হঠাৎ করেই ব্যাপারটা চোখে পড়ল ছোট্ট রুমির। বড়দের কাণ্ডকারখানা কখনই বুঝতে পারে না সে, এখনও বুঝলো না। এই অসম্ভব আনন্দের মুহূর্তে কেউ কাঁদে? অথচ দেখো তো, এই দুইটা মানুষ কি আকুল হয়ে কাঁদছে … আশ্চর্য তো…
ছোট্ট রুমি আরেকটু দূরে তাকালেই আরও আশ্চর্য একটা ব্যাপার দেখতে পেত। একটা রাজপুত্রের মত ফুটফুটে ছেলে, দুষ্টুমি ভরা হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে আকুল হয়ে কাঁদতে থাকা মানুষ দুটোর দিকে। কিন্তু কি আশ্চর্য, সেও কাঁদছে, হাসতে হাসতেই কাঁদছে। তার চোখটাও ভেজা, লাল হয়ে গেছে… আসলেই বড়দের কাণ্ডকারখানা বোঝা বড্ড মুশকিল…
উৎসর্গ- যারা ভোর এনেছিল…
পাকিস্তানের কাছে ২০০৩ সালের মুলতান টেস্টটা জিততে জিততে হেরে গিয়েছিলাম। ২০১২ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে দুই রানে হেরে গিয়েছিলাম। ২০১৪ সালে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া একজন আফ্রিদির ৫৯ রানের অতিমানবীয় ইনিংসটা জেতা ম্যাচটা হারিয়ে দিয়েছিল আমাদের। এই লেখাটার জন্ম হয়েছিল এরকম অসংখ্য ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে যাবার অবিশ্বাস্য যন্ত্রণায়, অসংখ্য অশ্রু ফোঁটায়, ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া সীমাহীন কষ্টে... যে পাকিস্তানকে চিরকালের মত হারিয়ে দিয়েছিল কিছু ক্র্যাক পিপল, যাদের কাছে আর কখনো হারবার কথা ছিল না, সেই পাকিস্তানের কাছে আমরা কেমন করে যেন হেরে যেতাম, কত অসংখ্য ম্যাচ কেমন করে যেন শেষ মুহুর্তে এসে জিতে যেত পাকিস্তান... খুব কষ্ট হত... অসহ্য কষ্ট... আজকে জিতে যাওয়ার পর সেই দিনগুলো খুব মনে পড়ছে... বুক ভেঙ্গে যাওয়া হেরে যাওয়া দিনগুলো... জুয়েলদের নির্বাক চেয়ে থাকার দিনগুলো... কেন যেন খুব মনে পড়ছে আজ...
জুয়েলরা কি দেখছে ওপার থেকে? কাঁদছে বোধহয়, তাই না? কাঁদুক একটু... প্রানভরে কাঁদুক...

রহমান রায়াদের থেকে সংকলিত
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৬ দুপুর ২:৪৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×