somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যশোরের কামাল হত্যা মামলায় ১৪ জনের যাবজ্জীবন

১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যশোর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক হক প্রতিবাদের প্রকাশক ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত মৎস্য খামারী মোস্তফা কামাল হত্যা মামলায় ১৪ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক মঞ্জুরুল বাছেদ এ রায় দেন। রায় শেষে ১৪ জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

দণ্ডিতরা হচ্ছে, যশোর সদর উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মনি মহুরির ছেলে ছোট খোকন, ওসমান মোড়লের ছেলে ইউনুস, আব্দুল কাদেরের ছেলে জাহাঙ্গীর, মৃত শুকুর মোল্লার ছেলে রবিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীরের ছেলে মুরাদ, হাশেমের ছেলে বিপুল, মৃত ওসমান মোড়লের ছেলে হাশেম, মৃত ফটিক গাজীর ছেলে রেজাউল, মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে হাফিজুর, হাশেমের ছেলে তরিকুল, নুরুল ইসলামের ছেলে ইমরোজ, মিজানুর রহমানের ছেলে রিয়াজ, ভাতুড়িয়া গ্রামের মৃত জবেদ আলীর ছেলে কাসাই রওশন ও বিরামপুরের মৃত সাহেব আলী মহুরির ছেলে মিরাজ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সদর উপজেলার নারানপুর বর্মনপাড়ায় মোস্তফা কামাল উদ্দিনের হক ইন্টিগেটেড ফামিং কমপ্লেক্স নামে একটি মৎস্য খামার রয়েছে। এ খামার নিয়ে নারানপুর গ্রামের হাশেম, রেজাউল, ছোট খোকন ও হাফিজুরের সাথে পূর্ব থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তারা প্রায় মোস্তফা কামাল উদ্দিনকে হুমকি ধামকি দিত।

এক পর্যায়ে তারা খামার ছেড়ে দেবার জন্য মোস্তফা কামাল উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দেয়। তিনি বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে বিভিন্ন সময় অবহিত করেন। হুমকির মাত্র বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার জন্য তিনি কোতয়ালি থানায় ২০০৭ সালেল ৫ মে ৮ জনের বিরুদ্ধে জিডি করেন।

মোস্তফা কামাল উদ্দিন ২০০৭ সালের ১ জুন ফজরের নামাজ পড়ে মোটরসাইকেলযোগে তার মৎস্য খামারে উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। খামারের রাস্তায় আসামি রেজাউলের পুকুর পাড়ে পৌছেলে হাশেম, রেজাউল, ছোট খোকন ও হাফিজুর, ইমরোজ, ইউনুস, তরিকুল, জাহাঙ্গীরসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জন তারর উপর হামলা চালায়। এসশয় অভিযুক্ত ইমরোজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে তারা মোস্তফা কামাল উদ্দিনকে বেধড়ক মারপিট করে শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ ভেঙ্গে দেয়।

এক পর্যায়ে হামলাকারীরা থারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেটে কুপিয়ে তারর মৃত্যু নিশ্চিত করে। খামারে কর্মরত কর্মচারী আক্তার গাজী ও তোফাজ্জেল হত্যাকান্ডটি দেখে ফেলে। এ সময় হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে আসে এবং মোস্তফা কামাল উদ্দিনের বাড়িতে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। এঘটনায় নিহতের ভাই অ্যাডভোকেট মোস্তফা আওয়াল উদ্দিন ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

২০০৮ সালেল ১ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা এস আই অপূর্ব হাসান এজাহার ভুক্ত ৮ আসামিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিঠ দাখিল করেন। এজাহার ভুক্ত অন্য আসামিরা হলো, রবিউল ইসলাম, মুরাদ, বিপুল, মিরাজ, রিয়াজ, কসাই রওশন, নারানপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আজমিনুর রহমান ও মৃত ওমর আলীর ছেলে কুবাদ।

দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার জন্য এ মামলাটি যশোর থেকে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আদালতে স্থানন্তর করা হয়। এখানে মামলার আসামিরা দ্রুত জামিন লাভ করায় মামলার বাদী মামলাটি অন্য আদালতে স্থানন্তরের জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানান। আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি রাজশাহীরর দ্রুত বিচারর ট্রাইবুনাল আদালতে বিচারের জন্য পাঠায় হাইকোর্ট।

স্বাক্ষ্য প্রমানে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় আদালত অভিযুক্ত ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জনকে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হজার টাকা করে জমিানা অনাদায়ে আরো ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।

এছাড়া এ মামলার অন্য দু’ আসমি কুবাদ ও আজমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করেন বিচারক।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মোস্তফা আওয়াল উদ্দিন ও তার মা মাসুদা হক জানান, তারা রায়ে সন্তুষ্ট নন। মোস্তফা কামলা উদ্দিনকে খুচিয়ে খুচিয়ে নৃশ্বংস ভাবে হত্যা করেছে অভিযুক্তরা। তাদের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল।

উল্লেখ্য, মোস্তফা কামলা উদ্দিন ২০০০ সালে শ্রেষ্ট মৎস্য খামারী হিসেবে রাষ্ট্রীয় পুরুস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি নিহত হওয়ার পর অনয়িমিত প্রকাশনার কারণে তার প্রকাশনার সাপ্তাহিক হক প্রতিবাদ পত্রিকাটির প্রকাশনা বাতিল করে প্রশাসন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:১৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×