somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সীমাহীন(!) মহাবিশ্বে মানুষের জ্ঞানের মুল্য কতটুকু? তার স্পর্ধা কি করে হয় প্রতিষ্টিত মহাবিশ্বের মডারেটর'কে অস্বীকার করার? লজিক ফজিক সবকিছুই ধুলা বালির মত উড়ে যাবারই তো কথা, তাই না?

০৫ ই এপ্রিল, ২০২২ বিকাল ৪:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হইয়াছে আবেগ থেকে, সৃষ্টি হয়েছিল বেগ'এর। সেই বেগ এখনো চলমান। মহাবিশ্বের প্রতিটি গালাক্সি একে অপর থেকে প্রচন্ড বেগে দুরে চলে যাইতেছে। এই গতির কারণেই সৃষ্টি হয় ফিজিক্সের সুত্রাবলী। আরো ভেতরে চলে কেমিস্ট্রির কারসাজি। চলে কোথাও কোথাও লাইফ সেল'র কারসাজি। এইসবের কারণ হইতেছে মহাবিশ্বের শুরু হইয়াছে এক মহা পরাক্রমশালী সত্বার ইচ্ছায়। অদৃশ্য সব সুতোয় তিনি এই মহাবিশ্বের প্রতিটি অনু পরমাণুর খবর রাখেন, পরিচালনা করেন তিনি। তাঁর ইশারায় তারার পতন ঘটে আবার জন্মও হয়। মৃতকে তিনি জীবিত করেন, জীবিতকে সঠিক সময়ে মৃত্যু দেন।
তিনি আমাদের আকল (কমন সেন্স দান করেছেন), এখানেই উনার দ্বায়িত্ব শেষ হইবার কথা কিন্তু তিনি আরো গাইড লাইন দিয়েছেন। এই আকল দিয়েই চিনে নিতে হবে ইশ্বর আছেন কি-না। ইশ্বরের চাওয়া আসলে কি? তিনি আমাদের কমন সেন্সের বাইরে যে জ্ঞান দিয়েছেন তাহা উনার জ্ঞানের সমুদ্র থেকে এক বিন্দু শিশির মাত্র। এই জ্ঞান দিয়ে আসলে ইশ্বরের সৃষ্টিজগত সম্পর্কে কনফিডেন্স সহকারে কোন কিছু বলা যায় না। তাই আমাদের যে জাগতিক জ্ঞান কিংবা লজিক, উহা দিয়ে ইশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করা অসম্ভব। তবে খুবই সম্ভব আকল থেকে উনাকে বুঝতে পারা, উনাকে জানা সম্ভব। এরাই আসলে প্রকৃত পক্ষে সফল, যারা ইশ্বরকে চিনতে পেরেছে। এদের লক্ষণ হইতেছে এই যে, ইনারা শান্ত প্রকৃতির হন, অশান্তির পথে হাঁটেন না, মিথ্যা কথা বলেন না, সর্বদা ইশ্বরের প্রশংসা করে বেড়ান। তাদের কাছে আপনি লজিক খুজলে এঁরা হাসবেন।

সারকথা হইল লজিক মানুষের জন্য একটা টুল(!)। বিজ্ঞান বলেন যুক্তিশাস্ত্র বলেন কিংবা সাহিত্য প্রত্যেকটি গ্রন্থই হইতেছে মানুষের চিন্তার জন্য একেকটি উপায়/টুল। যেকোন একটা দিয়ে সারা মানব জগত ব্যখা করতে গেলেই সমস্যা। লজিক এর কাজ হইতেছে গণনা কিংবা সমস্যার সমাধানের পন্থা খুঁজে বের করা তবে অবশ্যই ইহ-জাগতিক পর্যায়ের। জাগতিক ঘটনার বাইরের কিছু ব্যাখা করার সাধ্য আসলে মানুষের নাই কারণ মানুষ এই মহা বিশ্বের তুলনায় অতি নগণ্য। অতএব ধর্ম/আধ্যাত্মিক ব্যাপারে জাগতিক জ্ঞানের প্র‍য়োগ মোটামুটি বলদামির পর্যায়ে পড়ে। আধ্যাত্মিক জ্ঞান মানুষ থেকে মানুষে ট্রান্সফার হওয়া খুবই কঠিন। তবে উন্মুক্ত মন নিয়ে যদি কেহ কোন আধ্যাত্মিক শিক্ষিত ব্যক্তির সহিত অনেক দিন থাকেন তবেই ইহা ধীরে ধীরে ট্রান্সফার হইয়া যাইতে পারে(সীমিত)।
যার যার আধ্যাত্মিক শক্তি/জ্ঞান অর্জন করিতে হইবে স্বেচ্ছায় সাধনায়, মেডিটিয়েশন/নামাজের মাধ্যমে। তবেই না মানুষ জন্তু থেকে ইনসান এর পর্যায়ে সিদ্দি লাভ করিতে সক্ষম হইবে। সে যদি শুধু জাগতিক লজিক লজিক করে, কস্মিনকালেও সে ইনসান তথা মানুষ স্তরে উপনীত হইতে পারিবে না। (দেখতে তো সকলেই মানুষ, কর্মে কয় জনা?)
তাই আমার আহবান থাকবে, পরম শক্তিশালী সত্বার প্রতি অভিমুখি হয়ে তার শক্তির, জ্ঞানের কাছে আত্মসামর্পন করা। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ। মানুষ হইতে পারা এখানেই নিহিত।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০২২ বিকাল ৪:০০
২১টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে কি ইনফ্লেশান শুরু হয়েছে?

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:০৩



আমি দেশ থেকে দুরে আছি, দেশের কি অবস্হা, ইনফ্লেশান কি শুরু হয়েছে? কোভিড ও ইউক্রেন যুদ্ধ মিলে ইউরোপ, আমেরিকাকে ভয়ংকর ইনফ্লেশানের মাঝে ঠেলে দিয়েছে; বাংলাদেশে ইহা এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছদ্মবেশী রম্য!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৩৪



আমার ফেসবুকে একটা নামমাত্র একাউন্ট আছে। সেখানে যাওয়া হয় না বলতে গেলে। তবে ইউটিউবে সময় পেলেই ঢু মারি, বিভিন্ন রকমের ভিডিও দেখি। ভিডিওগুলোর মন্তব্যে নজর বুলানো আমার একটা অভ্যাস। সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৪৬

ঘোওওল....মাখন.....মাঠায়ায়ায়া.....

আমার ছোট বেলায় আমাদের এলাকায় ২/৩ জন লোক বয়সে প্রায় বৃদ্ধ, ঘোল-মাখন বিক্রি করতেন ফেরি করে। তাঁদের পরনে থাকত ময়লা ধুতি মালকোঁচা দেওয়া কিম্বা ময়লা সাদা লুংগী পড়া। খালি পা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাঠের আলোচনায় ব্লগারদের বই!

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:২৬

আমার আত্মজরা আমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাঝে যে বৈশিষ্ট্য নিয়ে মাঝেমাঝে হতাশা প্রকাশ করে! সেটা হচ্ছে আমার খুব অল্পে তুষ্ট হয়ে যাওয়া ( আলাদা ভাবে উল্লেখ করেছে অবশ্যই তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'সহবাসের জন্য আবেদন'...

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ রাত ১০:১৯



রোকেয়া হলে আবাসিক ছাত্রী হিসেবে দীর্ঘ ৭বছর কেটেছে। হলের নানা গল্পের একটা আজ বলি। হলের প্রতিটি কক্ষে ৪টা বেড থাকলেও থাকতে হতো ৫জনকে। মানে রুমের সব থেকে জুনিয়র দুইজনকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×