আমার মনে হয় যারা ঢাবির মধ্য দিয়ে মেট্রোরেলের বিরোধিতা করছে তারা মেট্রোরেল কি এই জিনিসটাই জানে না।
মেট্রোরেলের পিলারের নিচে যদি বস্তি বসে তাহলে সেটা ঢাবিরই ব্যারথতা। কুড়িল বা বনানির ফ্লাইওভারের পিলারের নিচে কোন বস্তি নেই। এখন তো ঢাবির ভিতরে মেট্রোরেলের কোন পিলার নেই,তাহলেও ঢাবির ফুটপাত আর রাস্তাঘাটে যেখানে সেখানে পায়খানা-প্রসাব ছড়িয়ে থাকে কেন? আর ময়লা আবর্জনা তো ঢাবির সব জায়গায়। বরঞ্চ বনানি ফ্লাইওভারের নিচে দিনে সুবাসিত ফুলের বাগান আর রাতে ঝলমলে রঙ্গিন আলোর খেলা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।
মেট্রোরেল কি জিনিস এটা বোঝার জন্য একটু কষ্ট করে দিল্লী, নাহলেও কলকাতা ঘুরে আসা উচিত। দিল্লীর মেট্রোরেল এতই আধুনিক যে দিল্লীর মেট্রোতে চড়ার সময় আমি কতগুলো আমেরিকানকে এর প্রশংসা করতে শুনেছি।
কলকাতার মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হয়েছে ৩২ বছর আগে। তবে দিল্লীর মেট্রোরেলের তুলনায় সেটা কিছুই না। কিন্তু কলকাতাতে সার্কুলার রেল আছে। ১ মিনিট ২মিনিট ৩মিনিট ৪ মিনিট পরপর সেগুলো চলাচল করে। ভাড়া সমগ্র কলকাতার যেকোন স্টেশনে ৫রুপি। পুরো কলকাতাতে ১০০’র বেশি রেল ষ্টেশন আছে। সেই স্টেশনগুলোতে গাদাগাদা পাবলিক টয়লেট আছে। সেগুলো সম্পূর্ণ ফ্রী। সবাই সেই টয়লেটগুলোই ব্যাবহার করে। এজন্য কলকাতার ফুটপাতে প্রসাবের নহর বয়ে যায় না। ঢাকার রেল ষ্টেশন মাত্র ৬টা। আর ঢাকার ফুটপাতে প্রসাবের পরিমান……….। এতো গেল পুরুষদের প্রসাবের পরিমান, তারা না হয় ফুটপাতের ধারে প্রসাব করতে পারলো, কিন্তু দিনে চার-পাঁচ ঘন্টা যানজটে আটকে থাকা মহিলা যাত্রীরা কিভাবে বাথরূম চেপে রাখে সে কষ্টের কথা কেও কি জানে। কারণ ঢাকার পাবলিক টয়লেটের কি হাল সেটা আমরা সবাই জানি। যদি মেট্রোরেল হয় তবে প্রতিটি স্টেশনে নিশ্চয় নিরাপদ এবং পরিস্কার টয়লেটের ব্যাবস্থা থাকবে।
মেট্রো রেলের দরজা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া স্টেশনের বাইরে খোলে না। আর এটি পুরোপুরি এসি। অর্থাৎ এর জানালা খোলা যায় না। অর্থাৎ মেট্রোরেলের মধ্য থেকে কোন ময়লা বাইরে ছুড়ে ফেলা একেবারেই সম্ভব না। কিন্তু বর্তমানে ঢাকায় চলাচলকারী সব বাস আর প্রাইভেট কার থেকে সহজেই ময়লা আর থুতু ফেলা সম্ভব।
তবে ব্যাক্তিগত ভাবে আমিও ঢাবির মধ্য দিয়ে মেট্রোরেল চাই না। কারণ দুপক্ষের ছাত্ররা যখন তখন নিজেদের মধ্যে মারামারি করে মেট্ররেলের দিকে ইট ছুড়ে মারবে, টিকিট না কেটে মাগনা উঠতে না পারার কারনে ষ্টেশন ভাঙ্গচুর করবে, নিজেদের কোন দাবি আদায়কে কেন্দ্র করে ফ্লাইওভারের উপর উঠে ট্রেন রাস্তা অবরোধ করবে। তার চাইতে সেটা না হওয়াই ভালো।
তবে প্রথম পর্যায়ে তো উত্তরা থেকে আগারগাও পর্যন্ত মেট্রোরেল ব্যাবস্থা চালু হবার কথা,সেটির সুবিধা ভোগ করার পর আমাদের সকলের মাঝে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে আশা করি।
আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। পৃথিবীর সবচাইতে অবহেলিত বিশ্ববিদ্যালয় এটি। কোন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য কোন আবাসিক হলের ব্যাবস্থা নেই। সবাই পুরানো ঢাকায় শুয়োর গাদাগাদি করে থাকে। আর আমরা যে সকল ভাগ্যবান বাসায় থাকি, তাদেরকে ভয়ঙ্কর ভাবে সদরঘাটে আসতে হয়। পাবলিক বাসে মিরপুর থেকে সকাল সাতটায় রওনা দিলে সদরঘাট পৌছাতে সাড়ে দশটা বেজে যায়। মেট্রোরেল চালু হলে আসতে কতোটা কম সময় লাগবে তা শুধু আমরা ভুক্তভোগিরাই অনুধাবন করতে পারি। ঢাবির অনেক ছাত্রও তো উত্তরা থেকে আসে। তারাও তো খুব কম সময়ে আসতে পারবে।
তবে ভার্সিটি বাসে ভার্সিটি আসলে পাবলিক বাসের চাইতে কম সময় লাগে। এর কারণটা হচ্ছে ভার্সিটি বাস অনেক সময় রং সাইড দিয়ে চলাচল করে। এই অভ্যাস ত্যাগ করা উচিৎ। যদিও আমি নিজেও এর সুবিধাভোগী কিন্তু এটি পরিহার করা উচিৎ। পাবলিক বাসে অনেক বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ব্যাক্তি ,মহিলা, বাচ্চা-কাচ্চা চলাচল করে। তারা যদি তিন-চার ঘন্টা বাসে থাকতে পারে তাহলে ভার্সিটির তারুণ্যে প্রাণোচ্ছল তরুণরা কেন আইন মেনে সঠিক রুটে চলতে পারবে না? তাদের এই নিয়ম না মানাটাই যানজট আরো বাড়ায়। আর ভিআইপিরা তো স্বর্গের দেব-দেবী। তাদের কথা সম্পূর্ণ বাদ।
ঐতিহ্য শুধু টিকিয়ে রাখা না, ঐতিহ্য তৈরী করতেও জানতে হয়। কলকাতার মেট্রো স্টেশনগুলো রবীন্দ্রনাথের কবিতা, তার আঁকা ছবি, নেতাজির ভাষণ, কালীঘাটের পটশিল্প ইত্যাদি দিয়ে সাজানো। ৩২ বছর আগে তো এগুলো ছিলো না। কিন্তু এখন তো এগুলো কলকাতার ঐতিহ্য।
স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে সবচাইতে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। আমরা চাই ভূমিকম্পে এখানকার ছাত্ররা দ্বোতলা-তিনতালা থেকে লাফ দেবে না। যেখানে গার্মেন্টসে নাইট ডিউটিতে থাকা অশিক্ষিত শ্রমিকরাও হূড়োহুড়ি করে আহত হয়নি। আমরা বরঞ্চ চাই ঢাবিরা আহতদের সেবা করবে। তারা সব বিপদের মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে সব ভালো কাজের নেতৃত্ব দেবে। তারা বরঞ্চ ঢাকার যানজট কমানোর জন্য মেট্রোরেল, মনোরেল, পাতালরেল, সার্কুলার রেল, ট্রাম, বাস র্যাপিড ট্রানজিট ইত্যাদি গনপরিবহনের জন্য আন্দোলন করবে। আমরা তাদের কাছে সবচাইতে ভালো কিছু প্রত্যাশা করি।
আমি কাউকে আঘাত করে কথা বলতে চাইনি। কিন্তু প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘন্টা রাস্তায় আটকে থাকার কষ্ট থেকে বলতে বাধ্য হয়েছি। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




