somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চুরি করছে প্রশ্ন ফাঁসকারীরা আর বুটের লাথি, রাইফেলের বাঁটের বারি খাচ্ছে সাধারণ মেধাবীরা!

০১ লা অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন নাইন টেনে পড়তাম বাংলায় একটা রচনা পড়েছিলাম ‘দুর্নীতি ও তার প্রতিকার’। প্রথম লাইনটা ছিল এ রকম- ‘যা নীতি বহির্ভূত তাই দুর্নীতি’।এখন বাংলাদেশে যা চলছে তার কোনটা নীতি, আর কোনটা দুর্নীতি তা আলাদা করা অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।কারন আমাদের দেশে শুধুমাত্র পয়সা চুরিকেই দুর্নীতি হিসেবে ধরা হয়! অন্য সকল অসৎ অনৈতিক কার্যক্রমকে দুর্নীতি হিসেবে ধরাই হয় না!! কাজেই আমরা সত্যিকার অর্থেই কোনটা দুর্নীতি আর কোনটা নীতি সেটা আলাদা করতে ভুলে গেছি! বাংলাদেশে অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবে তারা নির্যাতনের শিকার হবে!

আজকের প্রথম আলোর শেষের পৃষ্ঠার নিউজ, “রাজধানীর শাহবাগ থানার ‘সার্ভিস ডেলিভারি রুমে’ ঢুকিয়ে মেডিকেলে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পিটিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ওই শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে টিএসসি থেকে শাহবাগের দিকে যাওয়ার পথে টেনেহিঁচড়ে পুলিশ তাঁদের তুলে নিয়ে যায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের টেনেহিঁচড়ে পুলিশ শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যায়। পরে বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতিতে পুলিশ ওই শিক্ষার্থীদের ‘সার্ভিস ডেলিভারি রুমে’ ঢোকায়। এ সময় ওই কক্ষের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রফ্রন্টের মহানগর শাখার সভাপতি নাঈমা খানম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সোফায় শুইয়ে শার্ট খুলে রাইফেলের বাঁট দিয়ে পুলিশ পেটায়”।

এই হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে নৈরাজ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি।আচ্ছা কেউ যদি বলে বাংলাদেশ দিন দিন অসভ্য হয়ে উঠছে,তাহলে কি সে ভুল বলবে? কোটি কোটি টাকা চুরি করেছে প্রশ্ন ফাঁসকারীরা আর নির্যাতন করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে যারা কথা বলছে তাদের উপর! কি হওয়ার কথা ছিল! আর হচ্ছেটা কি? বাংলাদেশ কি মগের মুল্লুক হয়ে যাচ্ছে? নাকি জোর যার, বাংলাদেশ তার?

“এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ” এই বিলবোর্ডে সারা ঢাকা শহর ছেয়ে গেছে। আর আমরা সেই সংবাদে খুশি হয়ে বসে বসে তামুক খাচ্ছি। আর দেখছি কি করে একটা দেশের পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যর্থ হয় একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে!

প্রথমবার যখন পিইসির, জেএসসির,এসএসসির, এইচএসসির প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল সরকারদলীয় বুদ্ধিজীবী হিসেবে সমধিক পরিচিত ডঃ জাফর ইকবাল অনেক চিল্লাচিল্লি করেছিলেন। কিন্তু সরকার কান দেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি ডঃ ইকবালের কথায়।অধ্যাপক ডঃ ইকবালের ইমেইলে পরিক্ষার আগের দিন প্রশ্ন পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।পরের দিন তিনি মিলিয়ে দেখেছেন সেই প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে! আর সরকার উল্টো অস্বীকার করেছে পুরো বিষয়টা।

আরে দুইশো টাকায় নীলক্ষেত, আজিমপুর চায়না বিল্ডিং গলিতে প্রশ্ন কিনতে পাওয়া যায় এ কথা আমার ছাত্র আমার নিজের কাছে বলেছে। কিনে এনে দেখিয়েছে। আমিও পরে মিলিয়ে দেখেছি।আর মাগনায় পাওয়া গেছে ফেইসবুকে! আর অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী, এক কালের বামজীবী নুরুল ইসলাম নাহিদ এই ‘ওপেন সিক্রেট’ নৈরাজ্যকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন; আরও খোলাসা করে বললে একের পর এক পরিহাস করেছেন।শুনেছি পয়সার ব্যাপারে নাহিদ সাহেব এখনো ১০০ ভাগ সৎ লোক। তবে একটা কথা স্বীকার করতেই হবে আমরা যারা প্রশ্নফাঁসের বিষয়টা সরেজমিনে দেখলাম তাদের শ্রদ্ধা সম্ভবত তিনি আর কোন কালেই পাবেন না!

গত সরকারের হাজারও অপকর্মের ভিড়েও এহসানুল হক মিলনকে আজও অনেকে মনে করে তাঁর নকল বিরোধী ভুমিকার জন্য। আমি দুঃখিত, কারন আমাকে এ কথা বলতে হচ্ছে; নুরুল ইসলাম নাহিদ ব্যক্তিগত ভাবে টাকা পয়সার ব্যাপারে যতই সৎ হন না কেন, তার কথা মানুষ যুগ যুগ ধরে মনে করবে গভীর অশ্রদ্ধা নিয়ে।কারন সেদিন যদি তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নিতেন তাহলে প্রশ্ন ফাঁসের সর্বশেষ ঘটনাটি,যা ঘটেছে মেডিকেলের ভর্তি পরিক্ষায়, ঘটতো না।

মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র লক্ষ লক্ষ টাকার বাণিজ্যই হয়নি; লুটপাট হয়েছে কোটি কোটি টাকার । সরকার যদি পুনরায় ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা না করে তাহলে আমরা ধরে নেব সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক হোমরা চোমরা ওয়ালারাও এই মহাদুর্নীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত! না হলে কেন সরকারের এত অনীহা পুনরায় ভর্তি পরিক্ষা নিতে? এই নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীরা সরকারের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?

চোর দের হাত যদি এতই লম্বা হয়ে থাকে তাহলে সরকারকে বলবো, রাইফেল দিয়ে না পিটিয়ে দেশের প্রতিবাদী মানুষদেরকে ধরে ধরে মেরে ফেলুন, লঞ্চে করে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়ে আসুন। তারপর আপনারা আপনাদের পেয়ারের দুর্নীতিবাজদের নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকুন।আপনাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা, মধ্যম আয়ের দেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করুন! কেউ আপনাদের ঝামেলা করবে না।

কারন একটা জিনিস মাথায় রাখবেন রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য আপনারা প্রতিবাদী মানুষদের থামিয়ে রাখতে পারলেও, লুটপাটকারিদের খপ্পরে পরে সর্বস্বান্ত হওয়া কোটি কোটি বাংলাদেশীকে দীর্ঘ সময়ের জন্য দাবায়ে রাখতে পারবেন না......

সরদার মাটি মাসুম
০১ অক্টোবর,২০১৫




সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৪৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×