somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নন্দ ঘোষ অমানুষরা

২৮ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত মাসের ২৭ তারিখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে অনিয়ম দেখতে পেয়ে ডাক্তাররা অমানুষ, গবীরের রক্তচোষা বলে মন্তব্য করেন। মিডিয়া সাথে এটি লুফে নেয়। অনেক পত্রিকা প্রথম পাতায় দু-তিন কলামে ছাপে। এমন মন্তব্য তো যেনো তেনো মানুষের নয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের। এর আগেও ইনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ ধরণের মন্তব্য করে জনগনের ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন। অন্য কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবাদ জানানো হয় নি। প্রথম আলোর ৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ চিকি?সকদের পক্ষ নিয়ে একটি কলাম লেখেন। এর প্রতুত্তোর দিতে দেরি করেন নি ডা. মিজানুর রহমান। ৯ মার্চ প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় অত্যন্ত মার্জিত ভাষায় তার বক্তব্য তুলে ধরে আগের বক্তব্যের জন্য কোনো চিকি?সক আহত হয়ে থাকলে তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। ঘটনাটা এখানে শেষ হলেই ভালো হত। কিন্তু ১১ মার্চ প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় ‘মানুষ চিকি?সা নিতে ‘অমানুষ’দের কাছেই যাবে’ শিরোনামে একটি উপসম্পাদকীয় লেখেন সাংবাদিক মশিউল আলম। তার লেখার ধরণ দেখে মনে হল তিনি বিশেষ কারণে ডাক্তার নামক অমানুষগুলোর প্রতি ক্ষিপ্ত। আমার ধারণা সাংবাদিক সাহেব ডাক্তারদের নিয়ে সমাজে প্রচলিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার কলাম লিখেছেন।

লেখাটির শুরুতে সাংবাদিক সাহেব হেলথ ওয়াচ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের একজন চিকি?সক প্রতিটি রোগীর পেছনে গড়ে সময় দেন ৫৪ সেকেন্ড। মেনে নিচ্ছি প্রতিবেদনটি নিরপেক্ষভাবে করা হয়েছে। বাংলাদেশে রোগী ও চিকি?সকের অনুপাত কত? ৪ হাজার রোগীর বিপরীতে একজন চিকি?সক। ভারতে ১৭০০ : ১, কিউবায় সবচেয়ে বেশি ১৭০ জনে একজন। সে হিসেবে চিকি?সক কিন্তু খুব বেশি নন। ৭ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ জানান, তার জেলা ভোলায় সব মিলিয়ে ৮০ জন চিকি?সকের বিপরীতে মাত্র ২০ জন চিকি?সক আছেন। এ ব্যাপারে তিনি অভিযোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে ৭১ বিধিতে চিঠি দিলে ভোলা থেকে আরোও কয়েকজন চিকি?সককে সরিয়ে নেয়া হয়। (দৈনিক প্রথম আলো, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১২) যদি ৫ জন চিকি?সককে সরিয়ে নেয়া হয় তাহলে প্রায় ১৮ লাখ জনগনের জন্য চিকি?সক মাত্র ১৫ জন। একজন চিকি?সকের ভাগে পড়ে ১ লাখেরও বেশি।

বিভিন্ন হাসপাতালে আগত রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় বর্হিবিভাগের একজন চিকি?সককে দিনে ৮০-১০০ জন রোগীকে দেখতে হয়। রোগী প্রতি ১০ মিনিট করে সময় দিলে মোট সময় লাগে প্রায় ১৭ ঘন্টা আর ৫ মিনিট করে হলে প্রায় ৯ ঘন্টা। কোন রোগী ৯ ঘন্টা অপেক্ষা করে চিকি?সককে দেখাবেন বলে মনে হয় না। ডাক্তার দেখাতে গিয়ে দেরি হলে বিরক্তির শেষ থাকে না। সাংবাদিক সাহেব কি পারবেন এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চিকি?সক দেখাতে? পারবেন বলতে যে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে কোনদিন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সিরিয়াল এগিয়ে আনেন নি?

একজন চিকি?সক এতজন রোগী দেখতে গিয়ে তার অবস্থা কি হয় আমরা কি কোনদিন ভেবে দেখেছি? ডাক্তাররা অমানুষ বলেই কি এক সাথে এত রোগী দেখা সম্ভব? যে কেউ হাসপাতালের বর্হিবিভাগে কোন চিকি?সকের সাথে ১-২ সপ্তাহ রোগী দেখার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলে বুঝতে পারবেন এটা কতটা কষ্টের। বর্হিবিভাগে কাজ করতে গিয়ে আমার যেটা মনে হয়েছে একেকটা সময় একেক রোগে প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। যেমন এখন সিজনাল ফ্লু বেশি হচ্ছে। বেশিরভাগ রোগীই এতে আক্রান্ত। এদের লক্ষণ সবারই মোটামুটি একই। তাই একই রোগী বারবার দেখতে দেখতে চিকি?সক ওই বিষয়ে পারদর্শীতা অর্জন করেন।
কোন চিকি?সক যদি অন্য রোগীর জন্য সময় বাঁচাতে গিয়ে এমন রোগীদের তাড়াতাড়ি দেখে বিদায় করেন তাহলে ক্ষতি কি? ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে যদি সাংবাদিক সাহেব কিছুক্ষণ বসে পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে নিশ্চিত দেখবেন বেশিরভাগ লোকই এসে ডাক্তারকে বলবেন আমাকে প্যারাসিটামল ও গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট দেন। কি করবেন জিজ্ঞেস করলে বলবেন লাগবে তাই দিবেন। কোন চিকি?সক যদি তার অন্যথা করেন তাহলে হুমকি-ধামকি, মারধরের শিকার হবেন। কত ডাক্তার লাঞ্চিত হলেন, কেউ তো একটা কলাম লিখে এর প্রতিবাদ করলেন না। নাকি ডাক্তাররা সমাজের নিরীহ প্রাণি। জটিল রোগীদের ব্যাপার আলাদা। তারা আসলে অবশ্যই সময় নিয়ে দেখতে হবে। আমার বিশ্বাস এ ধরণের রোগীদের ডাক্তাররা সময় নিয়েই দেখেন।

সাংবাদিক সাহেব বলেছেন দেশে ৬ হাজার কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি হয়েছে। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১০ সালে ওষুধ বিক্রি বেড়েছে চারগুনের বেশি। আমি একটি পরিসংখ্যান দেয়ার লোভ সামলাতে পাচ্ছি না। ২০০৯ সালে আমেরিকায় ওষুধ বিক্রি হয়েছে ২৭৯ বিলিয়ন ডলার। দেশের জনসংখ্যা ৩১ কোটি। সে তুলনায় ১৬ কোটির বাংলাদেশে কি কম ওষুধ বিক্রি হয় নি। একবছরে আমেরিকায় ওষুধ বিক্রি বেড়েছে শতকরা ৫.৫ ভাগ।Bharat Book Bureau, Global Pharmaceutical Market Forecast to 2012 গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১-১৩ সালে বিশ্বব্যাপী ওষুধের বাজার ৬.৫ শতাংশ বাড়বে। কম মুল্যে ওষুধ প্রাপ্তি, মানুষের আয় ও রোগবালাই বেড়ে যাওয়ায় এ ব্যবসা বাড়বে। এবছরে যদি ওষুধের বিক্রির পরিমান ৫.৫ ভাগ বাড়ে তাহলে ১৬ বছরে ৪ গুন বাড়া আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দৈন্য দশা নির্দেশ করে।

সাংবাদিক মশিউল আলম আর দশজন সাধারণের মতই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন ওষুধ বিক্রি বাড়লে কোম্পানির লাভ, চিকি?সকের লাভ। একটু সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তা করলে বোঝা যাবে চিকি?সকের লাভ কতটুকু। বাংলাদেশের এক নম্বর ওষুধ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল। এর মালিক কি কোন চিকি?সক। প্রথম সারির দশটা ওষুধ কোম্পানির কয়টার মালিক চিকি?সকরা? স্কয়ার ফার্মা যদি বছরে হাজার কোটি টাকা লাভ করে তারা কি বলতে পারবে কোন চিকি?সককে এর এক শতাংশ লাভ দিয়েছে। হ্যাঁ তারা যেটি করে তাহল তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে তাদের কোন প্রডাক্ট সম্বন্ধে চিকি?সকদের জানায়। এজন্য তারা প্যাড, কলম, ওষুধের স্যাম্পল (কোন কোন কোম্পানি একটা করে ওষুধ দেয়) ও ছোটখাটো উপহার দিয়ে থাকে। ওষুধ সম্বন্ধে জানা না থাকলে ডাক্তাররা ওই ওষুধ লিখবে কিভাবে? কোন চিকি?সক ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া উপহার দিয়ে সংসার চালাতে সক্ষম নয়। সাংবাদিক সাহেব এটা লেখার আগে নিশ্চয় একবার ভাবা উচিত ছিল আপনি কত বড় অপবাদ দিচ্ছেন। একদিন কোন ডাক্তারের সাথে থেকে দেখুন না ডাক্তাররা প্রতিদিন কি পারিমানে গাড়ি-বাড়ি উপহার পান।

চিকি?সা বিজ্ঞান অনেক এগিয়ে গেছে। নতুন নতুন টেস্ট আবিষ্কার হয়েছে। যেমন আগে মাথার কোন সমস্যা ধরতে হলে এক্সরের ওপর নির্ভর করতে হত। এতে অনেক রোগ নির্ণয় করা যেত না বা করলেও ভুল হওয়ার সম্ভবনা বেশি। কিন্তু বিজ্ঞানের আগ্রগতির ফলে আবিষ্কার হয়েছে সিটিস্ক্যান ও এমআরআই। এটি মাথার ভেতরের ছবি তোলে নির্ভুলভাবে। ফলে রোগ নির্ণয় সহজ হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে সিটিস্ক্যান ও এমআরআই আবিষ্কারের পর মস্কিষ্কের ক্যান্সার আক্রান্তের হার বেড়েছে। এর মানে হল এগুলো আবিষ্কারের পর মস্তিষ্কের ক্যান্সার নির্ণয় করা সহজ ও নির্ভুল হয়েছে। আগে অনেকেই হয়তবা মারা যেত মস্তিষ্কের ক্যান্সারে যেটা আমরা জানতাম না। এর ফলে কি হচ্ছে? একদিকে রোগ নির্ণয়ের ফলে চিকি?সা করা সহজ হচ্ছে। বেড়েছে গড় আয়ু। এক্সরে করতে ১৫০-৩০০ টাকা লাগে আর এমআরআই, সিটিস্ক্যানে খরচ ৩০০০-৬০০০ টাকা। ডাক্তররা যদি কমিশন বাণিজ্যে দোষমুক্ত হতে চেয়ে সিটিস্ক্যান-এমআরআই না করে শুধু এক্সরে করে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা চালান তা স্বাভাবিক বুদ্ধি সম্পন্ন কেউ মানবেন বলে মনে হয় না। উল্টো কোন সমস্যা হলে ডাক্তারের কলার চেপে ধরে বলবেন, টাকার চিন্তা কে করতে বলেছে? যত টাকা লাগুক খরচ করতাম। এ নিয়ে মামলা হবে, ডাক্তারকে রিমান্ডে নেয়া হবে। অসহায় চিকি?সকরা কি করবেন? টেস্ট দিলেও দোষ না দিলেও মামলা। কমিশন বাণিজ্য হয়েও থাকে তাহলে তা বন্ধ করা জরুরী। কোন চিকি?সক যদি এমন করে থাকেন তবে তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। যে প্রতিষ্ঠানগুলো এ বাণিজ্যের সাথে জড়িত তাদেরও শাস্তি হওয়া দরকার। তবে আশার কথা হল এখন অনেক ডায়াগনোস্টিক সেন্টার এ কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করেছে। একটা কথা মাথায় রাখা দরকার ডাক্তাররা শুধু কমিশনের টাকা পাওয়ার জন্য টেস্ট দেন না। কোন রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হলে অবশ্যই টেস্ট করতে হবে। আমরা বাইরের দেশে চিকি?সা নিতে গেলে অনেক টেস্ট করি কিন্তু কখনও চিন্তা করি না সেখানের ডাক্তার এত টেস্ট দিল ক্যানো। শুধু দেশি ডাক্তার হলে মাথায় আসে কমিশণ বাণিজ্য।

ডাক্তাররা যে স্যাম্পল পান তা নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে গবীর রোগীদের জন্য পুওর ফান্ড গঠন করা হয়। অসহায় কোন রোগীকে এ ফান্ড থেকে সাহায্য করা হয়। অমানুষ চিকি?সকরা তাদের বেতনের পয়সা জমান এ ফান্ডে। কমিশন বাণিজ্য থেকে প্রাপ্ত অর্থও আসে এ ফান্ডে। কত রোগী যে এ ফান্ড থেকে সহায়তা পান তার হিসাব রাখে না বা মিডিয়ায় ঘটা করে প্রচারের ব্যবস্থাও করে না। শুধু অসহায় রোগীর আর্শীবাদ চান তারা। সাংবাদিক সাহেব মিথ্যা বলছি কিনা খোঁজ নিয়ে দেখুন না। যদি মিথ্যা বলি আমাকে মিথ্যাবাদী অপবাদ দিয়ে শত শত কলাম লিখলেও কষ্ট পাব না। আর যদি সত্যি বলি দিন না একটা বড় কলাম লিখে।

সাংবাদিক সাহেব ক্যানো যে ডাক্তারদের প্রতি এত ক্ষুদ্ধ। তিনি লিখেছেন ডাক্তাররা প্রতিবার রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট আদায় করেন। ব্যাপারটা হাস্যকর। বিশ্বের সব মেডিকেল এথিক্সে আছে ডাক্তার রোগী দেখার পর ভিজিট নিতে পারবেন। এমনও আছে যদি কেউ ভিজিট না দেয় তাহলে ডাক্তার তার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করে ভিজিট আদায় করতে পারবেন। উল্টো দেশে বিল বেশি হলে হাসপাতাল ভাংচুর করে রোগী নিয়ে ভেগে যায় অনেকেই। সংবাদে লেখা হয় অপচিকি?সায় হাসপাতাল ভাংচুর । ভেতরের কথা কেউ কি জানতে চেয়েছেন কোন দিন।

বিশ্বের কি কোথাও আছে কাজ করার পর বেতন পাবেন না। এর ইতিহাস একমাত্র বাংলাদেশের মেডিকেল সেক্টরে আছে। মনে হয় ব্যাপারটা মশিউল আলমের জানা নেই। শিক্ষানবীশ চিকি?সক হিসেবে এক বছর শেষ করার পর এফসিপিএস, এমএস, এমডি কোর্সের জন্য তিন-চার বছর কোন বিশেষজ্ঞ চিকি?সকের অধীনে থেকে ট্রেনিং করতে হয়। এ ট্রেনিং শেষ হলে তাকে সার্টিফিকেট দেয়া হয়। এ সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ এফসিপিএস, এমএস, এমডি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারেন না। এ ট্রেনিং সম্পন্ন করার জন্য হাসপাতালগুলোতে এ ধরণের পদ আছে সেটাকে বলা হয় অনারারী মেডিকেল অফিসার। এ পদে কর্মরত ডাক্তাররা প্রতিদিন হাসপাতালে কাজ করেন। রাত জেগে রোগীর চিকি?সা দেন। মাস শেষে কত বেতন পান কোন দিন কি খোঁজ নিয়েছেন? মাসে প্রতিটি দিন কাজ করার পরও সরকার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটা কানাকড়িও দেয় না এদের। উল্টো এদের নিজ খরচে যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়া, থাকার ব্যবস্থা করতে হয়। কই কোনদিন তো কোন সাংবাদিকের কলমের মাধ্যমে তা প্রকাশিত হল না। এটা কি ডাক্তারদের মানবতা হরণ নয় ড. মিজানুর রহমান। পাকিস্থানের মত দেশও তো তাদের মাসিক ৩০ হাজার রুপি দেয়। কি ড. মিজানুর রহমান ডাক্তারদের রক্ত কে চুষে খাচ্ছে? কি সাংবাদিক সাহেব আশ্চার্য হলেন? আপনি কি পরবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিগ্রি নিয়ে কোন মিডিয়া হাউজে বিনা বেতনে ও নিজ খরচে ৩-৪ বছর কাজ করতে? পারবেন না। ডাক্তাররা অমানুষ বলেই সম্ভব।

ডাক্তাররা টাকা বানানোর যন্ত্র। ভালোই বলেছেন। একবার আজিজ সুপার মাকের্টের মেসগুলো ঘুরে আসুন। দেখবেন কত টাকা বানানোর যন্ত্র নিয়ে বসে আছেন তারা। একরুমে গাদাগাদি করে ৫-৬ জন থাকেন। সবাই অমানুষ ডাক্তার। টাকা বানাতে ব্যস্ত। হাসপাতালগুলো ঘুরে দেখুন না রাতে ডাক্তাররা কই ঘুমায়। তাদের জন্য সরকার ক্যামন এসি রুমের ব্যবস্থা করে রেখেছে। এমনও দেখেছি হাসপাতালের ফ্লোরে বইয়ের বালিশ বানিয়ে শীতে খালি ফ্লোরে শুয়ে থাকতে। তাও একদিন নয় বছরের পর বছর। কোন দিন কি সে খবর নিয়েছেন সাংবাদিক সাহেব? ডাক্তাররা অমানুষ বলেই এটা সম্ভব। যারা ডাক্তারের সমালোচনায় ব্যস্ত তারা বলবেন ডাক্তার হয়েছেন সেবা করার জন্য এত আরাম কিসের? অমানুষ হলেও ওরা তো রক্ত মাংসে গড়া মানুষ নাকি?

সাংবাদিক আরোও লিখেছেন ডাক্তাররা উচ্চহারে ফি নিচ্ছেন। আমি যদি বলি ডাক্তাররা দেশের মেধাবী সন্তান তাহলে সাংবাদিক সাহেব অমত করবেন না। মেধাবীদের বেতন তো সে রকমই হওয়ার কথা নাকি। তাদের বেতন কত খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। যে বেতন পান তা দিয়ে তো নিজের পেটেই চালানো যায় না বউ-বাচ্চা চলবে ক্যামনে? নাকি এ অমানুষদের বউ-বাচ্চা হওয়া যাবে না। সব ছেড়ে দিয়ে শুধু সেবা করতে হবে। প্রতিবছর যে হারে দ্রব্যমুল্যে বাড়ছে সে হারে কি বেতন বেড়েছে। অমানুষগুলোকে তো সমাজে চলতে হয় নাকি। পেটের দায়ে যদি অফিস আওয়ারের বাইরে কিছু রোগী দেখে বাড়তি আয় করে তাতে সমস্যা কোথায়? ডাক্তাররা তো আর ছিনতাই, চুরি- ডাকাতি করছে না। নাকি সভ্য সমাজ আশা করে ডাক্তাররা তাদের চাহিদা মেটাতে এ পথ ধরুক। ৮০০ টাকা ভিজিটে কয়জন ডাক্তার রোগী দেখেন। অধ্যাপকরা তো আর পুরো ডাক্তার সমাজের প্রতিনিধি নন। সাংবাদিক সাহেব দেখতে চান এখন ২০-৫০ টাকায় রোগী দেখেন বেশিরভাগ এমবিবিএস পাশ করা ডাক্তার। একটা নাপিত তো একজনের চুল কেটে ৫০ টাকার বেশি আয় করেন। এত পড়াশুনা না করে নাপিত হলেই তো ভালো হত। কই কোনদিন তো এসব ডাক্তার অমানুষগুলোর দু:খ-কষ্ট আপনার কলম দিয়ে ওঠে এল না।
সাংবাদিক সাহেব আপনি শিক্ষানবীশ সাংবাদিক থেকে শুরু করে স্টাফ রির্পোটার, বিশেষ সংবাদদাতা, নির্বাহী সম্পাদক, সম্পাদক হবেন। কিন্তু আপনার কি জানা আছে ডাক্তারদের প্রমোশন হয় না। কেউ যদি মেডিকেল অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে ঢোকে এ পদেই তার মৃত্যু হয়। যদি কষ্ট সহ্য করে ডিগ্রি করে তাহলে ভিন্ন কথা। আমার এক স্যার কলেজের একটি ম্যাগাজিনে ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন তার কবরের ফলকে যেনো লেখা হয়,
Here sleeps Dr.X
Who joined, surved and died as a medical officer
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হলেও সত্য সেই স্যার দীর্ঘ ৩০ বছর চাকরি করার পর মেডিকেল অফিসার পদেই অবসরগ্রহণ করেন।
আয়কর নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাংবাদিক সাহেব। এনআরবিতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখুন কত ভাগ ডাক্তার আয়কর পরিশোধ করে আর অন্য পেশাজীবীরা কত ভাগ। হলফ করে বলতে পারি আয়কর পরিশোধের দিক দিয়ে ডাক্তাররা এগিয়ে। কোন ডাটা ছাড়া কাউকে অপবাদ দেয়া তো স্বাভাবিক বিবেক বৃদ্ধি সম্পন্ন কারোও কাজ নয়।

সরকারি হাসপাতালের চিকি?সা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছেন। এটাকে তো পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। এজন্য মিডিয়াও কম দায়ী নয়। হাসপাতালে ডাক্তার নাই, নার্স নাই, কর্মচারী নাই শুধু নাই আর নাই। এজন্য কি ডাক্তার দায়ী। হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ না থাকার জন্য কি ডাক্তার দায়ী। বাথরুম অপরিচ্ছন্ন থাকলে কি ডাক্তাররা পরিষ্কার করে দিবেন। এক্সরে, অ্যাম্বুলেন্স না থাকলে কি ডাক্তাররা নিজের বাসা থেকে নিয়ে আসবেন? ড. মিজানুর বহমান কেন হাসপাতালগুলোতে নাই আর নাই, তা কি সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন? এর প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন? কিছু হলেই মিডিয়ায় সরকারি হাসপাতালের গোষ্ঠী উদ্ধার করে তবেই ছাড়া হয়। শুধু সরকারি হাসপাতালেই কি রোগীর দূর্ভোগ। বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করছে। একবার যে বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকছে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে বের হয়ে আসছেন। সাংবাদিক সাহেব আপনার কলমে তো কোন দিন এ ব্যাপারে লেখা হল না। নাকি বিজ্ঞাপন বন্ধ হবে বলে ভয় পান। কোথায় থাকে আপনার মানবতা। ড. মিজানুর রহমান আপনি তো কোন বেসরকারি হাসপাতালের অরাজকতা নিয়ে মন্তব্য করলেন না। নাকি নিজের চিকি?সা বন্ধ হবে বলে ভয় পাচ্ছেন? খোঁজ নিয়ে দেখুন কত রমরমা ব্যবসা চলে সেখানে। আর কতজন অমানুষ ডাক্তার এ ব্যবসায় জড়িত।
এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ শেষ আশ্রয়স্থল। যদি তাই না হবে ক্যানো বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীর অবস্থা খারাপ দেখলে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। যে হাসপাতালে দু’হাজার রোগী ভর্তি থাকে, সুইপার-আয়া, ওয়ার্ড রয় নেই সেখানে নোংরা পরিবেশ থাকতেই পারে। বাথরুম অপরিচ্ছন্ন হতেই পারে। পর্যাপ্ত নিয়োগ দিন কাজ না হলে ব্যবস্থা নিন।

সাংবাদিক মশিউল আলম অপবাদ দেয়া সহজ তবে তা দেয়া আগে যাচাই করে নেয়া ভালো। আপনার একটি কলামের কারণে হাজার হাজার ব্যক্তির সুনাম নিমিষেই ধুলিষ্মা? হয়ে যেতে পারে। ড. মিজানুর রহমান তো তাও বলতে চেয়েছেন কিছু চিকি?সক সত। আপনি পুরো চিকি?সক সমাজকেই কুলষিত করেছেন। আপনি জ্ঞানী মানুষ আপানাকে জ্ঞান দেয়ার সাধ্য বা সাহস আমার নেই। শুধু বলব কষ্ট করে হলেও কোন চিকি?সকের সাথে এক সপ্তাহ তার কাজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে অপবাদ দিন। মাথা পেতে নিব। যদি আপনার সন্তান কোনদিন ডাক্তার নামক অমানুষ হয় তাহলে আমার লেখার মর্মার্থ বুঝতে পারবেন, এর আগে নয়। [email protected]
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×