এ সময়ে অনেকেই জলবসন্তে আক্রান্তের হার বেড়েছে। সাধারনত শিশুরা বেশির আক্রান্ত হচ্ছে। এটি ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে। এটি সংক্রামক রোগটি খুবই ছোঁয়াচে। একজন থেকে খুব দ্রুত অন্যজনে ছড়ায়। তবে কেউ একবার আক্রান্ত হলে বাকী জীবণের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। ভেরিসেলা জোস্টার নামক ভাইরাস এ রোগের জন্য দায়ী। ভাইরাসটি দেহে প্রবেশের সাথে সাথে লক্ষণ দেখা যায় না। সাধারনত ভাইরাস দেহে প্রবেশের ১১-২২ দিন পর্যন্ত কোন লক্ষণ দেখা যায় না। এ সময় ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। হঠা? করেই জ্বর দিয়ে জলবসন্ত প্রকাশ প্রায়। জ্বরের সাথে শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ ভাব থাকে। জ্বরের দ্বিতীয় দিন শরীরে বিশেষ করে বুকে ও পিঠে বিশেষ ধরণের গুটি গুটি দেখা যায়। পরে তা বড় হতে থাকে ও কেন্দ্রে পানি জমতে থাকে। এ থেকেই এর নাম জলবসন্ত। আবরণ খুব পাতলা হওয়ায় অল্পতেই ফেটে যায়। এরপর শরীরের বাইরের দিকের অঙ্গ যেমন হাত-পায়ে গুটি দেখা দিতে থাকে। তবে হাত-পায়ের তালুতে গুটি দেখা যায় না। মুখের ভেতরে, মাথার ত্বকেও জলবসন্ত ওঠতে পারে। পুরো শরীরে বিভিন্ন বয়সের গুটি থাকে। পরে ধীরে ধীরে তা শুকিয়ে যায়। গুটিগুলো বেশ চুলকাতে পারে। চুলকালে গুটি ফেটে গিয়ে ক্ষত হতে পারে ও পরবর্তীতে স্থায়ী দাগ দেখা দিতে পারে। তাই চুলকানো থেকে সাবধান। গুটি ওঠার সময় এটি অন্যকে বেশি সংক্রমিত করে। এ সময় বাইরে বের না হওয়া ভালো বা এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দুরে থাকতে হবে। তবে গুটি শুকানো পর্যন্ত সংক্রমিত করতে পারে।
জলবসন্ত তেমন কোন ক্ষতি করে না। সংখ্যায় খুব অল্প হলেও এর জটিলতার মধ্যে আছে গুটি থেকে রক্তক্ষরণ, নিউমোনিয়া, হেপাটাইটিস, মস্তিষ্কে প্রদাহ, কিডনির প্রদাহ, ত্বকের প্রদাহ, অস্থি সন্ধির প্রদাহ। গর্ভবতীদের জলবসন্ত গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তাই সাবধান হোন। এছাড়া এদের প্রকোপ বেশি হয়। এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে বা স্টেরয়েড বা অন্য ওষুধ দিয়ে তা কমিয়ে রাখা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। প্রতিরোধের জন্য টিকা নিতে পারেন। শিশুদের জন্য ১২-১৫ মাস বয়সে প্রথম ডোজ ও ৪-৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হয়। ১৩ বছরের বেশি বয়সীরা ৪-৮ সপ্তাহের ব্যবধানে ২টি ডোজ নিতে পারেন। তবে গর্ভবতী মায়েদের ও খুব রোগাক্রান্তদের এ টিকা নেয়া যাবে না।
এ রোগে চিকি?সা বলতে উপসর্গ কমানোর চিকি?সা করা হয়। চুলকানি বন্ধে অ্যান্টিহিস্টামিন যেমন লোরাটিডিন, ফেক্সোফেনাডিন, সিট্রিজিন সেবন করা যেতে পারে। এছাড়া ক্যালোমিন লোশন লাগাতে পারেন। নখ ছোট করতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় শিশুদের আঙ্গুলগুলো একত্রে করে বেধে রাখতে পারেন। এটি পানিশুন্য করে। তাই বেশি করে পানি ও তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। ব্যথা থাকলে পেইনকিলার সেবন করতে পারেন। মুখে ক্ষত হলে নরম খাবার খান, ঝাল, লবণ মসলাযুক্ত খাবার কম খান। টাইট কাপড়-চোপড় না পরে সুতি ঢিলেঢালা জামা-কাপড় পরিধান করুন। এন্টিভাইরাল ওষুধ যেমন অ্যাসাইক্লোভির বিশেষক্ষেত্রে সেবন করা যেতে পারে। এতে রোগের প্রকোপ কমে মাত্র। গর্ভবতী, নবজাতক, গুটি ওঠার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ও কম রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন হলে এ ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তা অবশ্যই চিকি?সকের পরামর্শে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


