somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এনার্জি ড্রিংক যোগায় মৃত্যু

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বেশ কিছুদিন ধরেই এনার্জি ড্রিংক আলোচনায় চলে আসছে। বেশ কয়েকটি ভেজাল বিরোধী আদালত অভিযান পরিচালনা করে এনার্জি ড্রিংক উৎপাদনের সাথে জড়িত অনেককে গ্রেফতার করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই-র নাম ব্যবহার করলেও নেই ওই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পানীয়তে কোন কোন উপাদান ব্যবহার করছে তার লেবেলে নেই কোন কোন উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বাজার থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন পানীয়’র নমুনা নিজেদের কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে। পরীক্ষার ফল নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি গত আগস্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিগো-বি, ম্যান পাওয়ার (স্বচ্ছ তরল), ম্যান পাওয়ার (অস্বচ্ছ তরল), হর্স ফিলিংস, রয়েল টাইগার, ব্ল¬্যাক হর্স ও স্পিড নামের সাতটি পানীয়তে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। পানীয়গুলোর মধ্যে প্রথম চারটিতে ‘অপিয়াম উদ্ভূত অপিয়েট’ ও ‘সিলডেনাফিল সাইট্রেট’ নামের রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়া গেছে। পরের তিনটি পণ্যে পাওয়া গেছে উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন। এ তিনটি উপাদানই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
এনার্জি ড্রিংক-এর ইতিহাস অর্ধশত কালের। আমেরিকার গ্যাটোর ফুটবল কোচ তার টিমের পারফরমেন্স নিয়ে ছিলেন বেশ হতাশ। তিনি তাদের দলের খেলোয়ারদের জন্য কিছু একটা করতে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের আহ্বান জানান। তারা তার ডাকে সাড়া দিয়ে পানি, চিনি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, লেবুর জুসে তৈরি করে প্রথম এনার্জি ড্রিংক। কালের বিবর্তনে এনার্জি ড্রিংকে এসেছে উপাদানগত পরিবর্তন। যোগ হয়েছে ক্যাফেইন। কখনওবা ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল, অপিয়েট। ক্যাফেইন যোগ করার কারণ হল এটি মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে। ফলে নিজের মধ্যে ভালো লাগা শুরু হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এর ক্ষতিকর দিকগুলো দেখা দিতে থাকে। বেশি পরিমানে ক্যাফেইন গ্রহনের ফলে দেখা দিতে পারে ঘুম না হওয়া, অস্থিরতা, পেটের গন্ডগোল, হাত-পায়ে কাপুনি, দ্রুত হৃদস্পন্দন এমনকি মারাও যেতে পারে। গর্ভবতী মায়েড়ের জন্য এটি হতে পারে গর্ভপাতের কারন। এছাড়া গর্ভস্থ শিশু হতে পারে কম ওজনের, দেখা দিতে পারে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা। আন্তর্জাতিক পানীয়গুলোতে প্রতি লিটারে ক্যাফিনের পরিমাণ ৫০ মিলিগ্রাম, সেখানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরীক্ষায় দেখা গেছে রয়েল টাইগারের পরিমাণ ২৩০ দশমিক ৪০ মিলিগ্রাম। ব্ল¬্যাক হর্স ও স্পিডের ২৭০ মিলিলিটারের বোতলে ক্যাফেইনের পরিমাণ যথাক্রমে ২৩৫ দশমিক ৫০ ও ২২৮ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম। বিএসটিআইয়ের মানদন্ড অনুযায়ী ব্ল¬্যাক হর্স, স্পিড ও রয়্যাল টাইগারের নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ক্যাফেইন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এসব পানীয়তে ব্যবহূত হয় সিনথেটিক ক্যাফেইন, যা আরও ভয়াবহ। কাজেই এনার্জি ড্রিংক কতটা ক্ষতিকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০০৮ সালে আমেরিকার ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এফডিএ-র কাছে ১০০ জন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী এনার্জি ড্রিংক নিয়ন্ত্রনের জন্য সুপারিশ করেছেন।
এসব প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ভোক্তা ধরে রাখার জন্য পানীয়তে মেশান অপিয়েট। শুরুতে এটি ভালো লাগার অনুভুতি জন্মায়, রিলাক্স ভাব তৈরি করে। এ অনুভুতি তাদের শেষ করে দেয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে আসক্তি জন্মায়। দিন দিন বাড়াতে হয় পানীয় পানের পরিমান। দেখা দেয় ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠ্যকাঠিণ্য, অস্থিরতা, কমে যায় যৌনচাহিদা। শুধু তাই নয় এটি নিয়মিত সেবনে যকৃত, ফুসফুস, কিডনি হারায় কার্যকারিতা। দেখা দেয় হৃদপিন্ডের রোগবালাই। ধীরে ধীরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়। একবার এতে আসক্ত হলে কিন্তু মুক্তি নেই। হঠাৎ করে ছাড়তে পারবেন না কিন্তু। ছাড়লে ঘটবে আরো বিপত্তি। দেখা দিবে অস্থিরতা, ঘুমহীনতা, বমি বমি ভাব। পানীয় পান না করা পর্যন্ত মুক্তি নেই। আমেরিকার একটি পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে। সেদেশে অ্যালকোহল মিশ্রিত এনার্জি ড্রিংক ২০০২ সালে ২ বিলিয়ন ব্যবসা করে। ২০০৪ সালে তা গিয়ে দাড়ায় ৩.৫ ও ২০০৭ সালে ৫ বিলিয়নে।
দেশের এনার্জি ড্রিংকগুলোতে মেশানো হচ্ছে সিলডেনাফিল। এটি সাময়িক যৌন উত্তেজনা বাড়ায়। এটি যৌনরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অহেতুক এটি সেবনে যৌনশক্তি হ্রাস পেতে শুরু করে। শুরুতে কিছুদিন ভালো লাগলেও চিরজীবনের জন্য হারাতে পারেন যৌনক্ষমতা।
আমেরিকার গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন এনার্জি ড্রিংক সেবনের মাধ্যমে মাদক জগতে প্রবেশ করে টিনেজাররা। তাই সময় এসেছে এখনই এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধ করার। টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে নিষিদ্ধ করতে হবে এদের চটকদার বিজ্ঞাপন। অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে তাদের সন্তানরা যেন এর ধারেকাছেও না ঘেষে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×