somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মীয় উপাদান মিশ্রিত জাতীয়তাবাদ

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তুরস্ক,ইরান ও মিশর, পশ্চিম এশিয়ার এই ৩টি দেশকে আমেরিকা বা ইসরাইল কখনও পারমাণবিক অস্র ব্যতিত ধবংস করতে পারবে না যেমনটা করেছিল ইরাক,লিবিয়া ও অনেকাংশে সিরিয়ার ক্ষেত্রে ।
১। তুরস্কঃ প্রথমত তুরস্ক নিজেই ন্যাটোর সদস্য । তদুপরি তুরস্কে অত্যন্ত শক্তিশালী দুই ধরণের জাতীয়তাবাদ বিদ্যমান । একটি কামালবাদ বা সেক্যুলার জাতীয়তাবাদ আর অন্যটি অটোমান জাতীয়তাবাদ । এই দুই ধরণের জাতীয়তাবাদ ও আধুনিক শিক্ষার বদৌলতে তুরস্কে শক্তিশালী জনতান্ত্রিক শক্তি বিদ্যমান যা যেকোন বিদেশী আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে পারে । উদাহরণস্বরুপঃ সাইপ্রাস সংকটের সময় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীকে তাদের দেশের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের দেয়া কাপুরুষ তকমা হতে মুক্ত হতে আমেরিকার বিরুধীতা অগ্রাহ্য করে সাইপ্রাসে বল প্রয়োগ করে গ্রীসকে যুদ্ধের হুমকি দিয়ে তুর্ক সাইপ্রিয়টে প্রাধান্য অর্জন করতে হয়েছে । তার উপর ইদানিং তুরস্কে অটোমান জাতীয়তাবাদ বা ইসলামী আদর্শ মির্শ্রিত জাতীয়তাবাদ তুর্কীদের ঐক্যবদ্ধ করছে যা যেকোন বিদেশী আক্রমণের বিরুদ্ধে জনতান্ত্রিক প্রতিরোধের সুস্পষ্ট উর্বর ভূমি ।
২। ইরানঃ মধ্যযুগ হইতে সাফাবী বংশ ইরানে একধরণের স্থিতীশীলতা ও বিদেশী দখলমুক্ত রেখে ইরানী জনগণকে একটি স্বাধীন ও স্বক্রীয় অনুভূতি জাগ্রত করে রেখেছে । তদুঃপরি রেজা শাহের নীতির ফলে ইরানে আধুনিক শিক্ষা ইরানীদের আরব জনগণের চেয়ে উন্নত চিন্তা ও বিচার বুদ্ধিগত দিক হইতে একধাপ এগিয়ে রেখেছে । তবে ১৯৭৯'র ইসলামী বিপ্লবের ফলে ইরানে ধর্মের উপাদানমিশ্রিত জাতীয়তাবাদ ইরানীদের বিদেশী আধিপত্য ও শোষণের বিরুদ্ধে কট্ররভাবে ঐক্যবদ্ধ করেছে । ইরানের বর্তমান সেক্যুলারপন্থী দল পূর্বের ক্ষমতাসীন আহমেদীনেজাদের ইসলামপন্থী দলের নীতিকে অনেকটা অনুস্বরণ করতে বাধ্য করছে শুধুমাত্র বেশীরভাগ ইরানী জনগণের ইসলামী বিপ্লবের প্রতি দূর্বলতা ও কট্রর আমেরিকা বিরুধী অবস্থানের জন্য এবং আমেরিকা ও বিশেষকরে ইসরাইলে অনেকে আহমেদীনেজাদের দল ও হাসান রুহানীর দলের মধ্যে তেমন পার্থক্য খুঁজে পান না । আমেরিকা কিংবা ইসরাইল দ্বারা ইরান আক্রমণের শিকার হলে ইরানী সেনাবাহিনীর সহিত ইরানী জনগণ জনযুদ্ধে নেমে যাবে যেমনটি ফরাসী বিপ্লবের সময় ফরাসী যুবকরা দলে দলে ফরাসী সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল । এখানে অনেকগুলি কারন বিদ্যমান । তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, আধুনিক শিক্ষার ফলে ইরানীদের সচেতনতা,বেশীরভাগ শিয়া জনগোষ্ঠী,শিয়া সুন্নী দ্বন্ধের ফলে শিয়াবাদের গ্রহণযোগ্যতা,হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা স্বকীয়তা ইত্যাদি ।
৩। মিসরঃ অটোমান সাম্রাজ্যের সময় মোহাম্মদ আলী পাশার নেতৃত্বে মিশরে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছে তা তাকে অন্য আরব রাষ্ট্র হইতে কিংবা অন্য আরব দেশের জনগণ হইতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সচেতনতা ও স্বকীয়তা দান করেছে এবং একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাতীয়তাবাদী উপাদান সংযুক্ত করে রেখেছে । তদুঃপরি মুসলিম বাদ্রারহুদের আগমনের ফলে মিশরে এক ধরনের শক্তিশালী ধর্মীয় উপাদানমিশ্রিত জাতীয়তাবাদ জাগ্রত ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো দাড় করিয়ে রেখেছে যা যেকোন বিদেশী আক্রমণের সময় ক্ষমতা দখল কিংবা নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শূন্যতা পূরনের জন্য যতেষ্ট । এরা একটি শক্তিশালী আন্দোলন পরিচালিত করতে পারবে যেমনটাঃ ইরাক কিংবা লিবিয়ার ক্ষেত্রে অসম্ভব ছিল । কারণ এইসব দেশে মুসলিম বাদ্রারহুড কিংবা কোন শক্তিশালী সেক্যুলার দলও বিদ্যমান ছিল না যারা দেশের অস্থিতিশীল অবস্থায় ক্ষমতা দখল কিংবা বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে । তদুঃপরি মিশরের বেশীরভাগ মানুষ সুন্নী হওয়ায় এখানে ইরাকের মত শিয়া-সুন্নী বিরোধ সৃষ্ঠি হওয়ারও কোন সুযোগ নাই ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০৪
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×