somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লাহ্‌ তা’লার ভালোবাসা ও তাঁর ভয়ে ক্রন্দন কর।

২১ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কুরআনঃ “ওয়া ইয়াখিররূণা লিল আযক্বানি ইয়াবকূনা ওয়া ইয়াযীদুহু খুশুআন”। অর্থাৎ আর যারা কাঁদতে কাঁদতে মুখ যুবরে পড়ে যায় এবং তাদের ভয় ও নম্রভাবকে আরো বাড়িয়ে দেয় (সূরা বণী ইসরাঈলঃ ১১০ আয়াত)।

হাদীসঃ হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন একবার হযরত নবী করীম (সাঃ) এমন এক ভাষণ দিলেন, যে ধরনের ভাষণ আমি আর কখনো শুনিনি। তিনি (সাঃ) বলেন আমি যা জানি, তোমরা যদি তা জানতে পারতে তাহলে হাসতে খুবই কম কিন্তু কাঁদতে খুব বেশী। বর্ণনাকারী বলেন এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর সাহাবীগণ কাপড়ে, মুখ ঢাকলেন এবং ডুকরে কাঁদতে লাগলেন । (বোখারী),

ব্যাখ্যাঃ আল্লাহ্‌ তা’লা মানবজাতিকে তাঁর আবদ হবার জন্য সৃষ্টি করেছেন। খুবই অল্প সংখ্যক লোক আছে যারা সর্বদা আল্লাহ্‌র অসন্তুষ্টির ভয়ে ভীত থাকেন। পবিত্র কুরআন পাঠে জানা যায় যারা আল্লাহ্‌র অবাধ্যতা করে ও পাপে লিপ্ত থাকে তাদের জন্য বেদনাদায়ক শাস্তি নির্ধারিত আছে। মানুষের আত্মা দুর্বল। তাই সে সর্বদা নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না। সে ভবিষ্যৎ এর ব্যাপারে জানে না, তাই সে তার ইচ্ছানুযায়ী আচরণ করে থাকে। তবে যারা আল্লাহ্‌কে মানে, তাঁর সন্তুষ্টি, অসন্তুষ্টি সম্বন্ধে জানে তারা সর্বদা খোদার ভয়ে ভীত থাকে। বিগলিত চিত্তে দোয়া ও কান্না কাটির মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি চায়, তাঁর রহমত চায়।

কান্নাকাটি মানুষের হৃদয়কে নম্র করে, বিনয় সৃষ্টি করে। তাই পবিত্র কুরআন মু’মিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছে, মু’মিন খোদার দরবারে কান্নাকাটি করে তার শাস্তি হতে বাঁচার কামনা করে। এর ফলশ্রুতিতে মহান খোদা তা’লা তাদের হৃদয়কে নম্র করে দেন এবং তাঁর অসন্তুষ্টির ভাবকে আরো বাড়িয়ে দেন।

হযরত নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, মানুষ এ পৃথিবীতে হেলায় অনেক সময় নষ্ট করে। পৃথিবীর ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে আল্লাহ্‌ তা’লা থেকে বিমূখ থাকে। মানুষ যদি জানতে পারতো এর বিনিময়ে পরকালে তাদের জন্য কী অবধারিত আছে তবে তারা খোদা হতে বিমূখ হতো না বরং খোদার শাস্তি হতে বাঁচার জন্য কান্না কাটি করত।

আমাদের সকলের উচিৎ মালিকি ইয়াওমিদ্দীনকে স্বরণ করি আর সেই দিনের বিচার হতে বেঁচে যাবার জন্য খোদার দরবারে কান্না কাটি করি।

আল্লাহ্‌ তা’লা আমাদের সকলকে এর তৌফিক দান করুন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১:০৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×