somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরীদের বেচে থাকা

২০ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরী বসে আছে বিশাল এক হোটেল এর রুম এ। রুম টা খুব সুন্দর, এক পাসে ২ টা সোফা সেট তার পাশে চীনা মাটির ফুলদানী। সোফা টা খুব নরম বসলেই অর্ধেক শরীর ডুবে যায়। সামনের টেবিল টা শ্বেত পাঁথরের। টেবিলের উপর প্লেটে কিছু পিঁজার টুকরা। পিঁজার দিকে তাকিয়েই পরীর মনে হলো সে সকালের পর থেকে কিছু খায়নি। সকালে বাসা থেকে বের হয়ার সময় একটা রুটি চা দিয়ে খেয়ে বের হয়েছে। পরী বসে আছে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে। যেই লোকটার কাছে পরী এসেছে তাকে সে চিনে না, তার নামও জানে না। কিন্তু লোকটা যে বড় শিল্পপতি টা বোঝা যাচ্ছে। কারন তার কাছে যে ফোন গুলো আসছে তার কথপতথন শুনলেই বোঝা যাচ্ছে ফোন গুলো গুরুত্বপূর্ণ। লোকটা পরী কে বসিয়ে রেখে বাথরুম ঢুকেছে। পরী যে কারনে এখানে এসেছে তার প্রয়োজন শেষ। তারপর ও কেনও তাকে বসিয়ে রেখেছে তা পরিস্কার না। প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে তাদের মত মেয়েদের কেউ বসিয়ে রাখেনা। পরীর আজ তারাতারি বাসায় যেতে হবে, কারন তার মা রহিমা বেগম পরীর জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে। বাসায় বাজার নেই। পরী বাজার করে নিয়ে গেলে তার মা রান্না বসাবে। পরী ঘড়ি দেকলো আটটা পঁচিশ বাজে। পরীর এই অবস্তায় বসে থাকতে খুব ঘিন্না লাগে। তারপর ও তাকে বসে থাকতে হবে, সে এখনও টাকাটা হাতে পায় নি। পরী মনে মনে চিন্তা করছে আজকে বাজার থেকে একটু মাংস কিনতে হবে। তার ছোট বোনটা খারাপ খাবার একদম ই খেতে চায় না। পরীর ছোট বোন সীমার বয়স ১৬ বছর। এই বয়সের মেয়ে রা সংসারের অবস্তা ভালো করেই বুঝার কথা, কিন্তু সীমা একদমই বুঝতে চায় না। যেমন গতকাল রাতে সে ভাত খেতে বসেই বলল রোজ রোজ আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে আমার ভালো লাগে না। সাথে সাথে রহিমা তার মেয়ের গালে জোড়ে চড় বোসিয়ে দিল। সীমা মার দিকে হতভম্ব হয়ে কিছুখন তাকিয়ে থেকে উঠে চলে গেলো। পরীর মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো, সে মনে মনে বলল বেচে থাকার জন্য যে গ্লানি মাখা জীবন সে বেছে নিয়েছে সেই আঁচ সীমার গায়ে কখনওই সে লাগতে দিবে না।
লোকটা বের হয়েই বলল আপনি এখনও জাননি? পরী কে সবসময় সবাই তুমি বলেই সম্বোধন করে, তার মত মেয়েদের কেউ আপনি বলে না। কিন্তু এই লোকটা প্রথম থেকেই আপনি করে সম্বোধন করছে।
-পরী কিছু বলল না।
-ওহো আপনাকে তো টাকাই দাওয়া হইনি। বলেই সে তার মানিব্যাগ থেকে এক হাজার টাঁকার একটা নোট পরীর দিকে বের করে দিলো। পরী নোট টা তার ব্যাগ ভরতে ভরতে উঠে দাঁড়ালো।
পরী বাইরে পা রাখতেই ঝির ঝির বৃষ্টি পরতে শুরু করলো। তার ব্যাগ এ সবসময় ছাতা থাকে কিন্তু আজ কি মনেকরে যেন ছাতাটা আনেনি। পরী রিক্সা নিতে পারছে না কারন এক হাজার টাঁকার নোট টা ছাড়া তার ব্যাগ এ শুধু মাত্র পাঁচ টাঁকার একটা নোট আছে।
পরী বাজারে ডুকেই আধা কেজি মাংস কিনল। পাঁচ কেজি চাল আর কিছু তরিতরকারি কিনে বাসার দিকে রওনা হোলো। পরী বাসায় ঢুকেই দেখে তাদের বাড়িওয়ালা রশিদ মোল্লা বসে আছে। পরীকে ঢুকতে দেকেই সে বলল -
আম্মা জি কেমন আছেন?
-জি ভালো, আপনার শরীর কেমন চাচা?
-বুড়া মানুষের আবার শরীর জর ঠাণ্ডা কাশি লেগেই থাকে। যাই হোক। একটু আগেই আপনার মার সাথে আপনার বিষয় নিয়েই কথা বলছিলাম। আপনার মত মেয়ে এখন দেখাই যায় না, পরিবারের জন্য জীবন দিয়ে দিচ্ছেন।
-তো আম্মাজি একটা কথা, লোকজন বলতেসে আপনি নাকি প্রায় রাতেই দেরি করে বাসায় আসেন। তবে লোকজন যাই বলুক আমি কিন্তু বলসি আমার আম্মাজির মত মানুষই হয়না।
-ধন্যবাদ চাচা
- আমি অন্য একটা কথা বলতে আসছিলাম আপনার আম্মার সাথে আলাপ হইসে, তারপরও আপনি যখন আসছেন আপনাকে বলেই যাই। তো আম্মাজি বাড়িটা যে সামনের মাসে ছাইরা দিতে হয়।
-বলেন কি এই বারো দিনে আমি বাসা খুজব কোথায়?
-তাতো ন্যায্য কথা, কিন্তু আম্মাজি আমি যে নিরুপায়। আমার শালা আসতেসে তার পরিবার নিয়া।
-চাচা দয়া করে আরেকটা মাস সময় দিন।
- সময় দিতে পারলে আমার চেয়ে বেসি খুশি কেউ হইত না কিন্তু আম্মাজি আমি যে নিরুপায়। তো আম্মাজি আমি আসি, এক তারিখে কিন্তু আমি আমার বাসা খালি চাই। আপনে তো জানেনই আমি আবার একদম নির্বিরোধী লোক।

পরী তার মার সাথে কিছু বলল না সোজা চলে গেলো বাথরুমে,তাকে আগে গোসল করতে হবে। রহিমা বেগম রান্না বসিয়েছে, সীমা মার পাশে এসে বসেছে। সে একটু পর পর বলছে মা রান্না কত দূর। পরী এসে বোনের পাশে বসলো। আজ পূর্ণিমা চাদের আলোয় ফকফক করছে সারা বাড়ি, রহিমা তাকালো তার দুই মেয়ের দিকে। চাদের আলোয় তার মনে হোলো তার পাশে দুটা পরী বসে আছে। তার মন টা হঠাৎ খুব ভালো হয়ে গেলো। তিনি মনে মনে ভাবলেন বেচে থাকার মধ্যেও একটা আনন্দ আছে।


পাঠকদের অসংখ্য ধন্যবাদ কষ্ট করে পরার জন্য। কেমন লাগলো প্লিজ জানাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৪:২০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×