প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরনের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে যায় যায় দিন খ্যাত সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাস থেকে সাহায্য এবং জনমত তৈরীর একজন সংগঠক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ বা ডিবি শাখা। শনিবার সকালে এ বিশেষ শাখার তিন সদস্য একটি বেসরকারী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে উনাকে একপ্রকার জোর করে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদ সুত্রে শফিক রেহমান এর বাসার তত্বাবধায়ক বা কেয়ারটেকার আব্দুল মতিন মোল্লা জানান সকাল ছয়টার দিকে বাসার মূল গেটে প্রথমে দুজন ধাক্কা দেন। তারপর আরেকজন আসেন। তাঁরা বেসরকারি একটি চ্যানেল থেকে এসেছেন বলে জানান। তাঁরা বলেন, ওই টিভিতে শফিক রেহমানের অনুষ্ঠান আছে। তাঁকে নিয়ে যেতে এসেছেন।
কেয়ারটেকার বাসার পেছনে তিনতলা ভবনের নিচতলায় তাঁদের বসান। তিনতলায় থাকা শফিক রেহমানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি তাঁদের নাশতা দিতে বলেন। তাঁরা তিনজন নাশতা খান। শফিক রেহমানের নামতে দেরি হলে সকাল আটটার দিকে তাঁরা বাবুর্চি আলীকে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে ওপরে যেতে বলেন। আলী উঠতে শুরু করলে ওই তিনজনও তাঁর পেছনে পেছনে দোতলা পর্যন্ত উঠে যান। এ সময় শফিক রেহমান নিচে নামেন।
আবদুল মতিন বলেন, শফিক রেহমান দোতলায় নামার পর ওই তিনজন ডিবি থেকে এসেছেন বলে জানিয়ে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনেন। বাবুর্চি আলী ও তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁরা ডিবি পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘তুই আসবি না’।
এরপর তারা শফিক রেহমানকে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে যান।
শফিক রেহমানকে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হলে তা জানিয়ে করাই ভাল হতো। এ রকম ছল চাতুরি করে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঘরে ঢুকে সন্ত্রাসী কায়দায় কাউকে ধরে নিয়ে যাওয়া কখনোই সভ্য সমাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে না।
ডিবি পুলিশ গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে সেখানে গিয়ে সরাসরিআটক করলেই সেটা সমিচীন হতো। এভাবে নাটক করার মাধ্যমে সাধারন জনগনের মাঝে অবিশ্বাসের মাত্রটা আরও বাড়ানো হলো বলেই অনেকে মনে করেন।
এ ঘটনার পর আর কেউ সাংবাদিক পরিচয় দানকারী কোন ব্যক্তিকে ঘরে ঢুকতে দিবে কিনা এখন সেটা ভাবার সময় এসেছে। স্বচ্ছতা বজায় রেখেই সব উদ্যোগ গ্রহন করা মঙ্গলজনক
https://youtu.be/HiPzbgvoOrY
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


