somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু স্মৃতি কিছু কান্না

০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবন মানেই বৃত্ত চাকা। সময়ের সাথে সাথে সেই চাকাও একটু একটু করে ঘুরতে থাকে। জীবন চাকাটা এমন ভাবেই সৃষ্টিকর্তা সাজিয়ে রেখেছেন যে এর এক প্রান্তে দু:খ আর বিপরীত প্রান্তে সুখের বসবাস। কারো কারো জীবনের বৃত্ত চাকার সব প্রান্তটুকুই দু:খে ভরপুর থাকে। কিছু কিছু জীবনকে তাই জীবনভর সংগ্রাম করতে হয় একটু সুখের জন্য। বাস্তবতার সাথে এই জীবনযুদ্ধে অসহায় মানুষদের জয়ী হওয়া আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার চেয়েও অনেক বেশী আনন্দের।

কষ্ট মানুষের জীবনে বিভিন্ন রূপে আসে। কারো কাছে আসে অর্থের অভাব নিয়ে। কারো কাছে আসে জটিল অসুস্থার রূপে। আবার কারো কারো কাছে ভালোবাসার চাওয়া পাওয়া পূরণ না হওয়াই অনেক কষ্টের। বিচিত্র জীবনের সব কিছুই বিচিত্র। মানুষ যখন এর কোনো একটি সমস্যায় ভূগে তখন অন্য মানুষ তাকে এর বিপরীত যত ভালো কথা আছে সবকিছু বলে তাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করে। জানি না কষ্ট বা দু:খ পাওয়া সেই অভাবী আত্মাগুলো ঐ কথাগুলোর মাঝে কোন সুখ কিংবা স্বপ্ন খুজে পায় কিনা ?

না পাওয়ার কষ্টগুলোর মধ্যে সম্ভবত ভালোবেসে কাউকে না পাওয়ার কষ্টটাই অনেক বেদনার। মানুষের মাঝে মহান আল্লাহ ভালোবাসার গভীরতা কি পরিমাণ যে দিয়েছেন সেটা কাউকে কে ভালোবেসে কাছে না পেলেই বুঝা যায়। সেই সময়ের কষ্ট, সেই সময়ের মনের একান্ত নীরবতা থেকে কান্নার অনুভূতিগুলো আমার মনে হয় মানুষ পৃথিবীতে অন্যকোনো ভাবে সৃষ্টি করতে পারে না। কাছে না পাওয়ার এই কষ্ট, দু:খ এবং হৃদয় নিংড়ানো সেই চাওয়া পাওয়ার অনুভূতিগুলো যদি কোন মানুষ তার স্রষ্টাকে পাওয়ার জন্য করতো আমার মনে হয় পৃথিবীতে সেই ব্যক্তিও আল্লাহর খুব কাছের মানুষদের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়ে যেত।

সত্যিকারের ভালোবাসা সত্যিই মানুষকে আলোকিত করে। প্রিয় মানুষটির কথাই হয়তো কিছু কিছু মানুষকে অলোকিত জীবনের সন্ধান দেয়। স্বপ্ন দেখায় সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার।

জীবন হয়তো কখনো কখনো মনের অজান্তেই এ ধরনের ভালোবাসায় জড়িয়ে যায়। সত্যিকারের ভালোবাসায় হয়তো বলতে হয় না “আমি তোমাকে ভালোবাসি”। একই সাথে চলার পথে কিছু অনুভূতি, কিছু মনের মিল কিছু চাওয়া পাওয়ার মাঝেই এই ভালোবাসা খুজে পাওয়া যায়। তখন খুব অল্পতেই একজন একজনকে অনেক বুঝে। বিপরীত মনের কষ্টটুকু তখন খুব অল্পতেই নিজের মনের মাঝে বুঝে ওঠার ক্ষমতা তৈরী হয়। মন খারাপ দেখলে হয়তো বুঝা যায় প্রিয় মানুষটি কষ্টে আছে। তখন দুজনই দুজনের কষ্টের কথা একে অপরকে শেয়ার করে। মানুষ হয়তো এভাবেই মনের ভালোলাগা থেকেই একে অপরের সাথে খুব আপন ভেবে মিশে যায়।

হৃদয়ের গহীন থেকে ভালোলাগা মানুষটির প্রতিটি স্মৃতিই যখন অতীত হয় তখন সেই স্মৃতিগুলো অনেক কষ্টের অনুভূতি সৃষ্টি করে। কষ্টগুলো তখন হৃদয়ে উকি মেরে কষ্টপাওয়া মানুষগুলোর বুকটা চেপে ধরে। সত্যিই অনেক কষ্টের হয় সেই সময়গুলো। অসহায় আত্মাগুলো একটু সুখের সন্ধানে তখন উঠে হাটা-হাটি করে। নীরব রাতের গভীরতাই তখন সঙ্গী থাকে অসহায় আত্মাগুলোর। রাতের কালো রং এবং জীবনের কালো অধ্যায় মিলে তখন নতুন সুখের সন্ধানে বার বার ব্যর্থ হয় অসহায় আত্মাগুলো। জীবনের প্রতিটি কোনায় মিশে থাকে তখন অতীত স্মৃতির বেদনাদায়ক যন্ত্রণা।

ভালোলাগা থেকে যে ভালোবাসার জন্ম হয় সত্যিই তা হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা। তাইতো এই ধরনের ভালোবাসার কষ্টগুলোও হয় অনেক কঠিন।

প্রতিটি মানুষ তার জীবনের ভুলগুলো বুঝে তখন যখন সেই সময়ে আর ফেরার সুযোগ থাকে না। কারো কারো জীবন হযতো মহা সুখের সময় তাই খারাপ আচরণে মগ্ন হয়ে থাকে। কিছু কিছু আচরণ মানুষকে অনেক কষ্ট দেয়। খারাপ আচরণ করা মানুষগুলো হয়তো তখন বুঝেও না তার আচরণে মানুষ কতটা কষ্ট পায়। প্রতিটি কষ্টই অনেক কষ্টের।

ব্যবধান ও দূরত্ব অনেক বেদনাদায়ক। কিছু কিছু ব্যবধান মানুষ ইচ্ছে করেই সৃষ্টি করে। তেমনি কিছু কিছু দূরত্বও মানুষ সুখের সন্ধানে কৃত্রিমভাবে তৈরী করে। সুখের পিছনে ছুটে বেড়ানো মানুষগুলো যখন সুখের সন্ধান পেতে ব্যর্থ হয় তখন হয়তো তারা জীবনের বাস্তবতা বুঝে। কাউকে কষ্ট দিয়ে এর বিনিময় সুখ সম্ভবত আল্লাহও সহ্য করে না। আবার কেউ কেউ হয়তো সুখের সংজ্ঞাও বুঝে না। সুখ এবং প্রকৃত ভালোবাসা হচ্ছে এমন একটা ব্যাপার যা সম্পূর্ণ মনের সন্তুষ্টির সাথে জড়িত। কেউ কেউ রাস্তার উপর থেকেও অনেক সুখী আবার কেউ কেউ সুউচ্চ অট্টলিকার প্রশস্ত বেলকুনির দক্ষিণা বাতাসে বসেও অনেক দু:খী।

জীবনের চলমান বক্ররেখার মাঝেও হয়তো কেউকে অনেক আপনভেবে ভালোবেসেছিলাম। মেয়েটির সাথে হাসতে হাসতে কখন যে ভালোলেগেছিল তা ঠিক বুঝতেও পারিনি। ওকে না দেখলে অনেক কষ্ট হতো। আবার দেখলেই শত কষ্ট নিমিষেই শেষ হয়ে যেত। অনেক স্বপ্ন খুজে পেতাম ওর মাঝে। বেঁচে থাকার স্বপ্ন, ভালোলাগার স্বপ্ন। অনেক অনুপ্রেরণাও পেতাম মেয়িটির মাধ্যমে। ছোট ছোট কিছু দুষ্টমি সত্যিই অনেক মধুর ছিল। মধুর দুষ্টমির সেই স্মৃতিগুলোই এখন গভীর রাতে আমার চোখের জল হয়ে আমাকে কষ্ট দেয়।

এত কিছুর পরেও ওকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি। পরিচিতজনদের কাছে আমি এখন আজব এক ব্যক্তি অথবা প্রেম ভিখারীও। আবার কারো কারো কাছে একটু বোকা ধরনেরও। পৃথিবীতে নাকি বোকারাই সব চেয়ে বেশী প্রেমে পড়ে অথবা ভালোবাসায় জড়ায়। সত্যিই বোকাদের ভালোবাসা অনেক কঠিন ও তীব্র হয়। কখনো কোন বোকার ভালোবাসা পেলে কেউ ফিরাবেন না। আমিও হয়তো আর ফিরাব না।

কারন করো কাছ থেকে ফিরে গেলেই কাউকে ফিরিয়ে দেয়ার কষ্ট উপলব্ধি করা যায়।

পৃথিবীর সব সত্য, সুন্দর ও প্রকৃত ভালোবাসার জয় হোক। ভালো থাকুক প্রতিটি অসহায় আত্মা। কষ্ট পাওয়া প্রতিটির আত্মার কষ্টই যেন আমাকে গ্রাস করে থাকে। সব আত্মা নয় একটি আত্মাই কষ্টে থাকুক। আর সেই আত্মাটাই যেন আমার হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×