ব্যাচেলর
এই শব্দটি সব বাড়ীওয়ালাদের কাছে নিকৃষ্টতম একটা শব্দ।কিছু কিছু মানুষ এই শব্দ শুনার পর এমন ভাব দেখায় যে ব্যাচেলরা মানুষ না। চোখে মুখে সেই একটা বিরক্তির চাপ।
গুলশানে আই এস হামলা,কল্যানপুরে জঙ্গী হমলার পর ঢাকার প্রায় অনেক এলাকায়,হাউজিং সোসাইটি গুলোর মধ্যে ব্যাচেলর উচ্ছেদ করা হচ্ছে।নতুন করে ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেয়ার তো কোনো প্রশ্নই উঠে না।ঢাকায় অধিকাংশ মানুষ ব্যাচেলর।কষ্ট,ভোগান্তি,একতাবোধ,হাসি,মিলমিশে থাকা,সবকিছু ভাগাভাগি করে নেয়া এটাই ব্যাচেলর। একজন ব্যাচেলরও চায় সে তার পরিবারের সাথে থাকতে।কিন্তু অনেক কিছুর জন্যই তা হয়ে উঠে না।ব্যাচেলরদের ভালো খারাপ অনেক দিকই আছে।তা তো সব মানুষের মধ্যেই থাকে।শুধু যে সে ব্যাচেলর তাই বলে সে খারাপ সে জগন্য তার সাথে মিশা যাবে না এটা তো ঠিক না।তবে ব্যাচেলরা একটু অগোছালো সেটা বলতে পারেন,তাই বলে সবাই নয়।আমি নিজেই একজন ব্যাচেলর।আমরাও তো মানুষ।ব্যাচেলর তাই বলে কি চারপাশের মানুষ আমাদের এভাবে হেয় করবে?
আমি থাকি মোহাম্মদপুরে।ভাড়ীওয়ালা আগামী মাসে বাসা ছেড়ে দিতে বলছে।এই বাসায় আমরা প্রায় ২বছরের মত ছিলাম।হঠাৎ করে তার এই সিদ্ধান্ত, বাসায় কোনো ব্যাচেলর রাখবে না।খোদ পুলিশও নাকি তাকে হুমকি দিয়েছে যে ১ মাসের মধ্যে বাসা থেকে ব্যাচেলর তাড়িয়ে দিতে।এখানে আমাদের আর কিছু করার ছিলো না।আমরা নিরুপায়।
ঘটনা ঘটল আশে পাশে যখন বাসা খোজাখুজি শুরু করি।এই পর্যন্ত অনেক বাসা পেলাম।যত গুলা পেয়েছি, বাসা নিয়ে মালিকে/দারোয়ানের সাথে কথা বলতে গেলেই তাদের প্রথম কথা আপনারা ব্যাচেলর? --জ্বী।এই জ্বী বলার পর আর পাত্তা পাই না।দারোয়ানো ভাব নেয়,কোনো কথাই বলতে চায় না।একটা কথা বলে রাখি মোহাম্মদপুরে কিছু কিছু হাউজিং এলাকায় নোটিশ দেয়া হয়েছে ব্যাচেলর থাকা যাবে না।
স্বধীন দেশে বাস করি।কিন্ত আমরা পুরোপুরি স্বাধীনতা পাই নি।একা(ব্যাচেলর) তাই বলে থাকার জায়গা নেই।ব্যাচেলরদের আবাসস্থল নেই।ঢাকায় এত সংখ্যক ব্যাচেলর যাবে কোথায় এরা?অনেকের পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকার সামর্থ নেই।মাঝে মাঝে খুব কান্না করতে ইচ্ছে হয়।পরিবারকে জানাতে ইচ্ছে হয় কিন্ত পারি না,ওই যে বললাম অনেক কিছুর(সমস্যা) জন্য তা হয় না।
আমরা ব্যাচেলর আমরা পরাধীন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
