somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুই সাথে থাকতিস ভাল হত, আমার পথ চলাটা অন্যরকম হত।

১১ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জায়েদ!
তুই কি জানিস? তোকে কাল সপ্নে দেখেছিলাম!
আমরা কেমন যেন আবার ছোট হয়ে চড়ুইভাতি খেলছিলাম,
কি মজা তাইনা!!
তুই তো জানিস! আমি কত দুষ্ট ছিলাম।
এখন যদি থাকতিস আমায় দেখে অবাক হতিস, সে দুষ্ট ছেলেটি এখন কত ভদ্র হয়ে গিয়েছে,
সে এখন আর হয়হুল্লোড় টুকুও করেনা।
.
তোর কি মনে আছে আমার টকটকে লাল সাইকেলটার কথা?
হি হি তোকে তো আমি ছুঁতেই দিতাম না,
কিন্তু দুক্ষের বিষয় কি জানিস? সে সাইকেলটা এখন আর চলেনা,
নষ্ট হয়ে পড়ে আছে অবহেলিত এক বদ্ধ কক্ষে।
কারো এখন সেদিকে নজরই পড়েনা!
.
তোর কি মনে আছে! আমরা যখন একসাথে হতাম তখন আমাদের কেউ আলাদা করতে পারত না?
যেটুকু হলফ করতে পারি, আমাদের একে অপরকে ছাড়তে খুব কষ্ট হত,
ইচ্ছে হত তোকে বড়দের সব কথা অমান্য করিয়ে আমার কাছে রেখে দিতে
কিন্তু কখনো সাহস হতনা।
.
জায়েদ!
তুই কি জানিস? আজো তোকে নিয়ে এলোমেলো সপ্ন দেখি!
যেন আমায় ফেলে তুই বহুদূরে চলে যাচ্ছিস,
মনে হয় আরো একবিংশ শতাব্দী রেখে যাচ্ছিস
সূর্য অস্তের মাঝামাঝি রক্তিমা পার হয়ে গেছিস।
.
তোকে নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম
কারণ প্রায় সময় তুই অশুখে ভুগতিস,
তোর কথা বলতে কষ্ট হত তা বুঝতাম
কিন্তু অতটা কষ্টের ভেতর আছিস তা বুঝতাম না।
.
কখনো কল্পনা করিনি সেদিন আমাদের শেষ দেখা হবে
আর আচও করিনি তোকে এভাবে হারাতে হবে,
কিছু বুঝার বাকি রইলনা ইতি বা সমাপ্তি ঘটার
শেষ করে গেলি আমাদের বন্ধুত্বের অধ্যায়।
.
জায়েদ!
তুই পারলি নিয়তির সাথে মিশে যেতে
যাওয়ার আগে তোর কি আমার কথা একবারও মনে পড়েনি?
জানিস! আমার সাথে তোর বলা শেষ অস্পষ্ট কথা এখনো কানে বাজে,
যার তিন ভাগের দুই ভাগই ছিল হাত ইশারাতে।
.
জানিস! তুই যখন ইন্ডিয়াতে পাড়ী জমিয়েছিলি
তখনো জানতাম তুই বাঁচবি,
তুই আবার আমাদের সাথে খেলবি
আবার আগের মত বাড়ির আঙ্গিনায় পায়চারি করবি।
.
জানিস তো! যখন তোর দেহটা বাংলাদেশে নিয়ে আসছিল ওরা
তখনো আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না তুই আমাদের মাঝে নেয়,
আমি সেদিন ফুফার দিকে কয়েকবার তাকিয়ে ছিলাম
তুই যে দেশে ফিরে আসছিস তা কতই না আনন্দ লাগছিল ওনার
আমি ফুফার মুখ না দেখে কখনো তা বুঝতাম না!
কিন্তু ওনি তখনো জানতোনা যে তুই আমাদের মাঝে নেয়।
.
দুক্ষের বিষয় কি জানিস? এর কিছুক্ষণ পর ফুফা সবটায় জানতে পেরেছিল!
আমি ভেবেছিলাম ওনি স্ট্রুক করে বসবে,
কিন্তু খুশির সংবাদ কি জানিস? ফুফা ধর্য্যের সাথে নিজেকে সামলে নিয়েছিল
তখনও শুধু আমার তোকে দেখার জন্য মনটা ছটফট করছিল।
.
তুই থাকলে দেখতে পেতিস, তোকে সবাই কতটা ভালবাসত
আমি তো রীতিমত তোর গানের ফেন ছিলামরে,
সে অল্প কয়েকটা বসন্তে তুই কতটা অপরিপক্বতা অর্জন করেছিলি
সত্যিই তা দৃষ্টি কেড়ে নেওয়ার মত।
.
তখন রাত দু'থেকে তিনটা, অ্যাম্বুলেন্স চলে  এসেছে
অপেক্ষাকৃত সবার কানে অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ বেঁজে উঠল,
কিন্তু তোর জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
তুই তো জানিস! তখন আমরা কত ছোট ছিলাম
তাই বোধহয় হাপিয়ে গিয়েছিলাম।
.
তুই এসেছিস শুনে আম্মা আমাকে ডাকছিল
তবুও কেন যেন আমি শুনছিলাম না,
তখন জানিস! তোর সাথে সপ্নে কথোপকথনে ব্যস্ত ছিলাম
আর তোর সাথে যখন খেলতাম তখন কেউ ডাকলে,
তখনও কি কারো কথা শুনতাম?
.
একসময় আম্মার ডাকে ঘুম ভাঙ্গল
তখন আম্মা বলল; তুই এসেছিস,
আমি আর আমার পাশের কাউকে দেখতে পেলামনা
ছুটে গেলাম তোর কাছে!
কিন্তু যাওয়ার পর যা দেখলাম
তার জন্য সত্যিই প্রস্তুত ছিলাম না,
তুই তখন ঠান্ডা কফিনে আয়েশ করে ঘুমাচ্ছিলি।
.
তোকে আর প্রশ্নগুলো করা হলো না
জানিস! উত্তর গুলো দিতে পারলে ভাল হত,
তখন সত্যি আমি তোকে মুক্ত করে দিতাম
তবুও আজ তুই সাথে থাকতিস ভাল হত
আমার পথ চলাটা অন্যরকম হত,
পেতাম সাহস প্রেরণার মত আরো কত কিছু
তুই আর আমি এক ছায়াই মিশে দেখতাম না আর পিছু।।
..............
..........
.....
উৎসর্গঃ জায়েদুল গণি।
সংগ্রহঃ সবুজ ডাইরী থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১১:৩২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগার'স ইন্টারভিউঃ আজকের অতিথি ব্লগার শায়মা

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৪ ঠা মে, ২০২৪ রাত ১১:০৫



সামুতে ব্লগারদের ইন্টারভিউ নেওয়াটা নতুন না । অনেক ব্লগারই সিরিজ আকারে এই ধরণের পোস্ট করেছেন । যদিও সেগুলো বেশ আগের ঘটনা । ইন্টারভিউ মূলক পোস্ট অনেক দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

...এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৫ ই মে, ২০২৪ সকাল ৮:৫৬

...এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অন্তর্জাল।

ছোটবেলায় মুরব্বিদের মুখে শোনা গুরুত্বপূর্ণ অনেক ছড়া কবিতার মত নিচের এই লাইন দুইটাকে আজও অনেক প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লালনের বাংলাদেশ থেকে শফি হুজুরের বাংলাদেশ : কোথায় যাচ্ছি আমরা?

লিখেছেন কাল্পনিক সত্ত্বা, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:১৪



মেটাল গান আমার নিত্যসঙ্গী। সস্তা, ভ্যাপিড পপ মিউজিক কখনোই আমার কাপ অফ টি না। ক্রিয়েটর, ক্যানিবল কর্পস, ব্লাডবাথ, ডাইং ফিটাস, ভাইটাল রিমেইনস, ইনফ্যান্ট এনাইহিলেটর এর গানে তারা মৃত্যু, রাজনীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার গ্র্যান্ড কেনিয়ন পৃথিবীর বুকে এক বিস্ময়

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ১:৪১


প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে হাতে গাছের ডাল আর পরনে সাধা পোশাক পরিহিত এক মহিলার ভাটাকতে হুয়ে আতমা গ্র্যান্ড কেনিয়নের নীচে ঘুরে বেড়ায়। লোকমুখে প্রচলিত এই কেনিয়নের গভীরেই মহিলাটি তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুরি! চুরি! সুপারি চুরি। স্মৃতি থেকে(১০)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ২:৩৪


সে অনেকদিন আগের কথা, আমি তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি। স্কুলে যাওয়ার সময় আব্বা ৩ টাকা দিতো। আসলে দিতো ৫ টাকা, আমরা ভাই বোন দুইজনে মিলে স্কুলে যেতাম। আপা আব্বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×