somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

...এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না

০৫ ই মে, ২০২৪ সকাল ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
...এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অন্তর্জাল।

ছোটবেলায় মুরব্বিদের মুখে শোনা গুরুত্বপূর্ণ অনেক ছড়া কবিতার মত নিচের এই লাইন দুইটাকে আজও অনেক প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। আসলে কিছু কথা আছে যেগুলো ইউনিভার্সাল ট্রুথ বা চিরন্তন সত্য। এমন কথার আবেদন কখনও হারায় না। যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে এসব কথার বাস্তবতা সামান্য পরিমান ক্ষীণ হয়েও যায় না। লাইন দুইটা হচ্ছে-

অতি বড় হয়ো না, ঝড়ে ভেঙ্গে যাবে
অতি ছোট হয়ো না, ছাগলে মুড়ে খাবে।

মানুষ অতি বড় কখন হয়? এর উত্তর হচ্ছে- যখন সে নিজেকে অনেক বেশি জ্ঞানী ভাবে। অনেক বড় মনে করে। অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং বিশেষ একজন হিসেবে কল্পনা করে। জ্ঞানে, সম্মানে, ধনে, গুণে, ঐশ্বর্য্যে, মর্যাদায়, জনপ্রিয়তায়, লোকবল, বংশ পরিচয়, দৈহিক সৌন্দর্য্য - ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে যখন নিজেকে সেরা মনে করে, শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে এবং অন্যদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের চোখে দেখা শুরু করে, হেয় জ্ঞান করে অন্যদের অথর্ব এবং অপদার্থ ভাবতে শুরু করে - মূলতঃ তখন থেকেই তার অতি বড় হয়ে ওঠার কিচ্ছাটা শুরু হয়। আর এর প্রকাশ ঘটাতে শুরু করে দাম্ভিকতাপূর্ণ কথাবার্তা এবং অহঙ্কারমূলক কাজকর্মের মাধ্যমে।

অহংকারের অর্থ হচ্ছে নিজেকে অন্যের চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ এবং অন্যকে নিজের তুলনায় হেয় ও ঘৃণ্য মনে করা। হাদীসে এর জন্যে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ্ তাআলা ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছেন যে, নম্রতা অবলম্বন কর। কেউ যেন অন্যের উপর গর্ব ও অহংকারের পথ অবলম্বন না করে এবং কেউ যেন কারও উপর যুলুম না করে।” -মুসলিম ২৮৬৫

অন্য হাদীসে এসেছে, তোমাদের পূর্বেকার জাতিদের মধ্যে কোনো এক লোক দুখানি চাদর নিয়ে গর্বভরে চলছিল। এমতাবস্থায় যমীন তাকে নিয়ে ধ্বসে গেল, সে এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত এর মধ্যে ঢুকতে থাকবে। -বুখারী ৫৭৮৯, মুসলিম ২০৮৮

কুরআনুল কারিমের একটি আয়াতের উধ্বৃতি দিয়ে সমাপ্তি টানতে চাই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা ইরশাদ করেন-

وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا ۖ إِنَّكَ لَن تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَن تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولًا

পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূ পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই পর্বত প্রমাণ হতে পারবে না। -সূরা আল ইসরা, আয়াত ৩৭

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কত চমকপ্রদ কথামালা আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন! কুরআনুল কারিমের ভাষার এমন অবাক করা সৌন্দর্য্য অবলোকন করে, সত্যিকারার্থে আশ্চর্য্য না হয়ে উপায় থাকে না। আলোচ্য আয়াতটিতে শব্দচয়নের দিকে যদি একটু লক্ষ্য করি, হৃদয় প্রশান্তিতে ভরে যায়। আহ! কতটা অসাধারণ মহাজ্ঞানী আল্লাহ জাল্লা শানুহুর ঐশীবানীর অনুপম ভাষাশৈলী! পড়লেই আবেগতাড়িত হতে হয়। অন্তর ছুঁয়ে যায়। হৃদয়ের গহীনে স্পর্শ করে। বুকের ভেতরটা নড়েচড়ে ওঠে। নিজের অজান্তে অকপটেই মন বলে দেয় - এত সুন্দর বাণী মহান স্রষ্টা ব্যতিত আর কার হতে পারে! এমন অদ্ভূত সুন্দর দৃষ্টান্ত আর কার দ্বারা দেয়া আদৗ কি সম্ভব! সুবহানাল্লাহ। সুবহানাল্লাহি বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযিম।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০২৪ দুপুর ২:০৬
৩টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্কাইভ থেকে: ঈশ্বর ও ভাঁড়

লিখেছেন অর্ক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:১০




বিরাট কিছু চাইনি। পরিপাটি দেয়ালে আচানক লেগেছিলো একরত্তি দাগ। কোনও ঐশী বলে মুছে যেতো যদি—ফিরে পেতাম নিখুঁত দেয়াল। তাতে কী মহাভারত অশুদ্ধ হতো কার! (সে দাগ রয়ে গেছে!)

পাখিদের মতো উড়বার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু গল্প

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



(এক)
দশম শ্রেণির ছেলে সাদমান সারাদিন ফোনে ডুবে থাকত। বাবা-মা বকাঝকা করলে প্রায়ই অভিমান করে ভাত খেতো না। একদিন রাতে ঘরের দরজা বন্ধ। ভোরে দরজা ভেঙে সবাই স্তব্ধ। খবরের কাগজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প - ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫



আমার সাথে একজন সাবেক সচিবের পরিচয় হয়েছে।
উনি অবসরে গেছেন, ১০ বছর হয়ে গেছে। এখন উনি বেকার। কোনো কাজ নাই। বাসায় বাজার করেন অনেক বাজার ঘুরে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×