গতকাল ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক পাইক পেয়াদা নিয়ে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদে বেরিয়েছিলেন। সাথে রেলমন্ত্রী মুজবিুল হক ছিলেন। কিন্তু উচ্ছেদের বদলে তিনি ট্রাক শ্রমিক নামক দখলদারদরে দ্বারা বন্দী হয়ে ছিলেন। অবশ্য হা্ওয়া বেগতিক দেখে মুজিবুল হক দ্রুত বেগে তেজগাঁও হতে চম্পট দিয়েছিলেন। অতঃপর শ্রমিক নামক দখলদারদের দাবী মেনে ধীরে ধীরে ট্রাকস্ট্যান্ড সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র আনিসুল হক মুক্ত হন। কিন্তু অনলাইন, প্রিন্ট এবং টিভি মিডিয়া এই সাধারণ সংবাদটিকে মেয়র আর মন্ত্রীর ইজ্জত বাঁচাতে ধরি মাছ না ছুঁই পানি ঘারানায় প্রকাশ ও প্রচার করে।
আজ মেয়র আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট তিনি সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন। যাদরে সহযোগতিা করার কথা ছিল তারা সহযোগতিা না করে মজা লুটেছে। গতকাল তিনি বলেছিলেন "মাস্তানি চলবে না' আর আজ বলেছেন "হামলাকারীদের খবর হয়ে যাব।' অথচ কাল অবাধে মাস্তানি চলেছে আর তারা আনিসুল হক সাহেবের খবর করে দিয়েছে। সেই খবরের কারণেই আজকের সংবাদ সম্মেলন।
মেয়র আনিসুল হক তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড দখলদারদের খুব ভালো করে চিনেন এবং জাননে। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তা সরাসরি উল্লেখ করেছেন। অথচ তাদের নাম মুখে আনেন নাই্। বাস্তবতা হলো তাদের নাম মুখে আনার মত সাহস মেয়রের নাই। নিজেকে যতই জনপ্রতিনিধি বলুন না কেন তিনি ভালো করেই জানেন তিনি ভুয়া ভোটে নির্বাচিত ভুয়া মেয়র। একটি আঙ্গুল তিনি অবৈধ দখলদারদরে দিকে তুললে তারা তাদের একশোটি আঙ্গুল তার ভুয়া জনপ্রতিনিধিত্বের দিকে তাক করবে। এছাড়া এই দখলদারদের অনেকেই তার জন্য মিছিল করেছে, ক্যাম্পেইন করেছে, ভোটকেন্দ্র দখল করেছে- এইসব দেনা-পা্ওনা্র হিসাব-নিকাশও আছে।
আনিসুল হক মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব। তিনি জানেন কিভাবে মিডিয়ায় কভারেজ পেতে হয়। কিভা্বে সবকূল রক্ষা করে বিপ্লবী বক্তব্য দিতে হয়। ঢাকা উত্তরের মানুষ আগামী পাঁচ বছরের প্রথম পর্যায় তার এসব ড্যাশিং কারিশমা আর সিনেমাটিক ডায়লোগে মুগ্ধ হবে, মাঝের পর্যায়ে হতাশ হবে আর তিন বছর পরে তার নাম শুনলেই বিরক্ত হবে। এই সরল সমিকরণ বোঝার জন্য জৌতিষ্ট বা সাইন্টিষ্ট হবার প্রয়োজন নেই, সাধারণ জ্ঞানই যথেষ্ট।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




