প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন "ফেসবুকে জাতীয় পরিচয় পত্র বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।" জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ফেসবুকসহ ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করার মত আরেকটি আহাম্মকী বক্তব্য।
সাম্প্রতিক ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব কাদের ঘাড়ে অর্পণ করা হয়েছে। এই বিশাল বিশাল প্রযুক্তিবিদদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ বহু আগেই ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানোর স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে। আশংকার বিষয় হচ্ছে ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানোর যাত্রা এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে।
মাননীয় মন্ত্রী, এখন প্রশ্ন হচ্ছে-
১. বাধ্যতামূলক কে করবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ না সরকার?
২. প্রক্সি ব্যবহারে অভিজ্ঞ পলক সাহেব কি জানেন যে ফেসবুক বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি নয়?
৩. ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ফেসবুকসহ অন্যান্য ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আইনত এবং নীতিগতভাবে বদ্ধ পরিকর?
৪. পলক সাহেবের মত বিশেষজ্ঞরা কি জানেন না এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলেও সরকার লাভবান হবেনা- কারণ জাতীয় পরিচয় পত্রের ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে আর প্রাইভেসী আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে গোপনীয়তার সাথে সংরক্ষণ করবে?
৫. এটাও কি অজানা যে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর সংরক্ষিত গোপন বা ব্যক্তিগত তথ্য চাহিবা মাত্র কোন দেশের সরকারকেই দিতে বাধ্য নয়?
৬. ফেসবুকে স্পর্শকাতর/ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে প্রাইভেসী সেটিংস থাকে। সুতরাং কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার 'অনলি মি' করে রাখলে বাধ্যতামূলক করায় লাভ কি?
৭. এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৮ বছরের কম বয়েসীদের জন্য ফেসবুক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে কি?
ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানোর ফাঁকে ফাঁকে প্রক্সি দিয়ে ফেসবুক ব্যবহারে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জ্ঞানভান্ডার প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মহোদয় কি বিষয়গুলো ভাবার সময় পেয়েছেন!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




