somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তামাশার সম্মেলনঃ আওয়ামীলীগের বিশতম সম্মেলন

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আওয়ামীলীগের জাতীয় সম্মেলন,খেইল তামাশা ছাড়া আর কি আছে??

২২ও২৩ অক্টোবর জুড়ে ঢাকায় চলে কাউন্সিলর মেলা। এ মেলায় হরেক রকমের কাউন্সিলর আসেন তাদের মত বিক্রি করতে কিন্তু খুবই দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বলতে হচ্ছে তাদের মত কেউই কিনেনি বরং একজনেরই ছিল সকল আধিপত্য।সভাপতি, সেক্রেটারি , যুগ্ম সাধারন সম্পাদকগন সবকিছু আগে থেকেই ঠিক ছিল তাহলে এই বিশাল আয়োজনে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির কি দরকার ছিল??

সভাপতি, এ পদটা দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ একজনের হাতেই বহাল আছে। কেন! সে প্রশ্ন তোলার সক্ষমতা আমার নাই কারণ বড়র সমালোচনা করতে নাকি বড় হতে হয়। তারপরও আমজনতা হিসেবে মতটাতো প্রকাশের ক্ষমতা রাখি। উনি গত ৩৫ বছর যাবৎ সেই ১৯৮১ থেকে দলের সভাপতির পদে আছেন, আমার এতে কোন মাথা ব্যথা নেই কারণ একমাত্র উনাকেই যোগ্য ধরা হয় তাই বারবার উনাকেই চালকের আসনে বসানো হয়। উনি বারবার মুখে বললেও কাজে তার কতটা করেছেন তা জানা নেই। উনার মুখে বিশেষ করে বিশতম কাউন্সিলের আগে বেশ বলতে শুনেছি, "আমাকে অবসর দিন, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলুন "।আওয়ামীলীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন যাত্রা শুরুর পর এ পর্যন্তসম্মেলন হয়েছে বিশটি তার দিকে চোখ বুলালে দেখা যায় একজনের একপদে থাকার ইতিহাস খুব গভীরের।সংগঠনের ইতিহাস ৬৭ বছরের হলেও সভাপতির পদে হিসেব পাওয়া যায় মাত্র পাচজনের অর্থাৎ একই পদে বিভিন্ন পদে বহাল থাকার ইতিহাসও কুব গভীর। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মাওনালা হামীদ খান ভাসানী থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা পর্যন্ত সকলেরই অন্তত দুই মেয়াদের সভাপতি থাকার অভিঙ্গতা রয়েছে। এই কাউন্সিলে আওয়ামীলীগের উপস্হিত কাউন্সিলররা একটা কথা বারবার বলেছেন যে, "শেখ হাসিনার বিকল্প এখনও তৈরী হয়নি, তাই তাকেই আবারও দায়িত্ব নিতে হবে "। প্রশ্ন তোলার মত ব্যাপার ৬৭ বছরের ইতিহাসে মাত্র পাচজন যোগ্য লোক আপনারা পেয়েছেন মাত্র??? আওয়ামীলীগে শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু, ভাসানী এদের মত নেতৃত্ব কেন গড়ে উঠে না নাকি উঠতে দেয়া হচ্ছেনা!!

সাধারন সম্পাদকঃখুব বক বক করলাম একজন নেতৃত্বশীল নেত্রীর পদ নিয়ে। এবার তার পরের পদ সাধারন সম্পাদক পদ নিয়ে বলতে গেলেও ঠিক একই প্রশ্ন আসবে। এ যাবৎ কাল পর্যন্ত সাধারন সম্পাদক হওয়ার মত যোগ্য নেতা পেয়েছে মাত্র ০৮ জন। বুঝাই যাচ্ছে এ পদের যোগ্য লোক তৈরী হচ্ছে না। আমাদের সমাজে একটা খুব প্রচলিত কথা আছে, "পুরাতন গেলে নতুন আসে "। আমার মনে হচ্ছে দেশের সর্বপ্রাচীন দল তা মানতে নারাজ তারা মুখেই বলে শুধু নতুন নেতৃত্ব গড়ার কথা কাজে যদি তা না দেখায় তবে কিভাবে হবে??তর্কের খাতিরে মেনেই নিলাম সভাপতির পদ একটা দলের জন্য মা বা বাবা সরূপ কিন্তু সাধারন সম্পাদক পদটাতো পরিবর্তন করা যায়!

প্রার্থী যাচাইঃ প্রত্যেক নির্বাচনের জন্যই নির্বাচন কমিশন থাকে, আওয়ামীলীগের কাউন্সিলেও ছিল। তাদেরকে করার উদ্দ্যেশ্য কি তা আমি জানিনা তবে তাদের ভুমিকা হতাশার। একটা কাউন্সিলের মুল লক্ষ্য হচ্ছে সুনির্দিষ্ট নেতৃত্ব যাচাই বাছাই করা কিন্তু আওয়ামীলের এই কাউন্সিলে আমরা তার কিছুই দেখিনি। একটা কাউন্সিল যেখানে কাউন্সিলরদের কথায় নেতা নির্বাচিত হওয়ার কথা অথচ এখানে কাউন্সিলরা নিরব ভুমিকা পালন করেই ক্ষ্যান্ত ছিলেন। সভাপতির পদে নির্বাচন সেটাতে কথা বলা হারাম। কারণ এ পদে একজনই যোগ্য। এবার সাধারন সম্পাদক, নির্বাচন কমিশন জানতে চাইল প্রস্তাবনা কিন্তু কেউ নাই উত্তর দেয়ার। সেই আশরাফ, যে বলেছিল, "শুধু প্রধানমন্তী আর আমি জানি কি চমক থাকবে ", প্রস্তাব করলেন একটা নাম আর ঐ নামই সর্বসম্মতিকক্রমে গৃহীত হয়েছে। যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের পদ চারটি যার তিনটিতেই আগের নেতৃত্ব। নতুন এসেছে আব্দুর রহমান।তাতেও কাউন্সিলরদের ভুমিকা চুপচাপ, শুনশান নিরবতা! প্রেসেডিয়াম সদস্য ২০জন তার মধ্যে ১৪ জনই আগের নেতৃত্ব নতুন যারা হয়েছেন তারাই বিনা ভোটে!!

তবে এ সম্মেলন কেন? প্রধানমন্ত্রী চাইলে ডিজিটাল কাউন্সিলও করতে পারতেন তাতে বরং সবাই সমান আনন্দ পেত। কাউন্সিলরা সারাদেশ থেকে ছুটে এসেছেন লক্ষ্য কিছিল জানিনা তবে মনে হয় মায়ের একনজর দেখা পেয়েই তারা প্রশান্তি পেয়েছে!!

[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত ও সুপ্ত কি আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে পারবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৫২



গুপ্ত ও সুপ্ত আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে না পারলে তারাই আবার ফিরতে পারলে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত করার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। কারণ অতীতে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×