somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

-বন্ধু ছাড়া life impossible-

০৮ ই মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাহিদের মন মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। পকেটে টাকা নেই প্রায় এক সপ্তাহ। সকালের নাস্তার খরচ বাচানোর জন্য সারাটা সকাল ঘুমিয়ে কাটায়। সকালের ক্লাসগুলোতে আর যাওয়া হয় না। পোলাপানের কাছে টাকা ধার নিতে নিতে এখন আর ধার নেবার মুখ নেই। কাউকে বলতেও পারছে না। সবাই ব্যাস্ত। একমাত্র রুমমেট শুধু ব্যাপারটা জানে। কিন্তু জানা সত্ত্বেও সে কিছুই করতে পারছে না। জাহিদের রুম মেটের নাম তুষার। তার পকেটেও টানা টানি। হলের সামনের হোটেলে বাকি খেতে খেতে পাহাড় সমান বাকি হয়ে গেছে। মুখ দেখানোর উপায় নেই। কিন্তু পেট তো আর মুখের কথা শুনবে না। রাত পোহালে পাখি বলে দেরে খাই দেরে খাই অবস্থা।

জাহিদ একটাই টিউশনি করে। মাস এখনো শেষ হয় নি। টাকা পেতে এখনো তিন চার দিন বাকি। এই তিন চার দিন কিভাবে চলবে জাহিদ জানে না। বাড়িতে টাকা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বাড়িতে টাকা চাওয়া মানে বাপ মার উপর আলগা একটা চাপ দেওয়া। সেই বয়স বহু আগেই পার করে এসেছে জাহিদ। এখন বরং বাড়ীতে কিছু টাকা পাঠেতে পারলে বাপ মার একটু উপকার হত। ছোট ভাইয়ের পড়াশুনা কিভাবে চলছে আল্লা মালুম।

দুপুরে রুটি কলা খেয়ে রুমে এসে এক জগ পানি খেয়ে পেট ভরে নিল জাহিদ। বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক হুমায়ুন আহমেদ সাহেব তার কোন একটা বইয়ে বলেছিলেন খালি পেটে পেট ভরে পানি খেলে নাকি নেশা নেশা ভাব হয়। খাটের উপর ঠায় বসে থেকে জাহিদ কিছুক্ষন অপেক্ষা করল নেশা নেশা ভাবটা ধরে কিনা। গতকাল ধরেছিল আজ মনে হয় আর ধরবে না। প্রতিদিন পানি খেলে নেশা ধরবে কিনা হুমায়ুন সাহেব সেটা বলেন নি। হতাশ হয়ে জাহিদ জামা প্যান্ট পরে বেরিয়ে পড়ল। রদ্দুর পড়ে গেছে। রঙ বেরেঙ্গের জামা কাপড় পরে প্রেমিক প্রেমিকাদের আগমন শুরু হয়ে গেছে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে ভাল লাগে। অন্যের সুখ দেখেও মজা। হিংসা হিংসা মজা। জাহিদ হাটতে হাটতে ছাত্রের বাড়ির দিকে রওনা হল। সারাদিনে এই একটি কাজ ছাড়া তার আর কোন কাজ নেই।

ছাত্র পড়াতে পড়াতেই তুষারের ফোন। তুষার বলল, জাহিদ কোথায় তুই ?’ জাহিদ বলল, ছাত্রের বাসায়, কেন?’ তুষার বলল, আমি ফোন না দিলে বাসা থেকে বের হইস না। ঝামেলা আছে, বুঝছিস ? জাহিদ হ্যা বলার সাথে সাথেই ফোন কেটে দিল। এরকম কেন বলল তুষার জিজ্ঞাস করা গেল না। টেনশনে ফেলে দিল। না জানি কি কাহিনী বাধিয়েছে। তুষারের কোন কাজ হয় না। সারাদিন হিমুগিরি করে বেড়ায়। পাঞ্জাবীর রঙ অবশ্য হলুদ নয়, সবুজ। লোকজনের আতেল গালি খাওয়ার ভয়ে হলুদ পাঞ্জাবী পরে না। বাপের অনেক টাকা পয়সা থাকলেও তার নিজের পকেটে কোনদিন টাকা থাকে না। সারাদিন ধান্দাবাজী করে বেড়ায়।

টেনশন নিয়ে জাহিদ অপেক্ষা করছে কখন তুষার আবার ফোন দেয়। সন্ধ্যা হয়ে পার হয়ে গেছে। ছাত্র পড়ানো অনেক আগেই শেষ। এরকম সময় তুষার এর ফোন এল। কানে ধরতেই তুষার চিতকার করে উঠল, কোন কথা বলবি না, শুধু তোর ছাত্রের মাকে নিয়া নিচে নাম। যা বলার আমি বলব তুই শুধু মাথা ঝাকাবি, কোন কথা বলবি না।‘ আবার জাহিদ হু বলার সাথে সাথেই তুষার ফোন কেটে দিল। ফোন ব্যাক করার উপায় নেই, টাকা নেই ফোনে। অগত্যা ছাত্রের মাকে ডেকে নিয়ে সঙ্কিত মনে নিচে নামল জাহিদ।

তুষার যদি উল্টাপালটা কিছু করে তবে আজ এখানেই তুষারকে খুন করে ফেলবে জাহিদ। নিচে নেমে দেখা গেল বাড়ির সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে মুখ চোখ কালো করে দাঁড়িয়ে আছে তুষার। ছাত্রের মাকে দেখেই সালাম দিয়ে বলল, আন্টি জাহিদ তো অনেক অসুস্থ ওকে নিয়ে হাসপাতালে যাব একারনে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসেছি। ছাত্রের মা ভিষন অবাক হয়ে গেলেন। এরকম কিছুর জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। জাহিদ নিজেও ছিল না। ছাত্রের মা অবাক হয়ে বলল জাহিদ তুমি তো আমাকে কিছু বল নি। কি হয়েছে ? জাহিদ আমতা আমতা করছে। তুষার আবার বলল আসলে আন্টি ও তো একটু মুখ চোরা সহজে কিছু বলে না। আন্টি বলল কি বল ? জাহিদ তোমার কাছে টাকা আছে ? জাহিদ আমতা আমতা করে বলল জি না আন্টি। আন্টি বলল, আগে বললেও পারতে, তুমি দাড়াও আমি তোমার টাকা নিয়ে আসি। আন্টি কিছুক্ষন পরই টাকা নিয়ে এসে জাহিদের হাতে গুজে দিলেন। জাহিদ বিদায় নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে উঠল। এ্যাম্বুলেন্স চলা শুরু করতেই সে তুষার কে চেপে ধরল, শালা তোর কোন কাজ হয় ??? তুষার হা হা করে হাসি দিয়ে বলল না তো আমার কোন কাজ হয় না। টাকা তো পাইছস চল পেট ভরে ভাত খেয়ে আসি…


*সত্য ঘটনা অবলম্বনে
Courtesy:অপভ্রংশ
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০৭
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৪১



ফারাজা তাবাসসুম খান-
আজ বুধবার, ৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ইংরেজি ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৬। বহু আগে একটা বই পড়েছিলাম- 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। প্রধান চরিত্রের নাম- হাজারি ঠাকুর। সে বাস্তববাদী, সহজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×