একটি দেশের নাগরিকরা যখন অন্য দেশে থাকে তখন সেখানে তাদের দেশের দূতাবাস তাদের কাছে যেন এক টুকরো স্বদেশ। পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মানুষই এটা মনে করে। এজন্য দূতাবাস কর্তৃপক্ষের খুবই মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হতে হয়। প্রতিটি নাগরিককে আপন মনে করে তাদেরকে আপ্যায়ন করতে হয়।
বিদেশে স্বদেশের যে সব নাগরিক দূতাবাসে কোন সমস্যা নিয়ে সেবা পেতে যান তখন দূতাবাসের যে শাখা তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলে, সমাধান দেয় সেই বিভাগের নাম কনস্যুলার শাখা। প্রতিটি দূতাবাসের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই কনস্যুলার শাখা। এখানে থেকে স্বদেশের নাগরিকরা পাসপোর্ট বানাতে পারে, রিইস্যু করতে পারে, যে কোন ডকুমেন্ট সত্যায়িত করতে পারে, কোন নাগরিক বিদেশে গিয়ে পাসপোর্ট হারিয়ে ফেললে তাকে বিকল্প পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিট প্রদানের ব্যবস্থা করে। মোদ্দা কথা স্বদেশের যে কোন নাগরিকের যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য দূতাবাসতে তৎপর থাকতে হয়।
এটি দূতাবাসের ভবনের দুইটি অংশ রয়েছে। এর একটিকে বলে চ্যান্সারী ভবন আর আরেকটিকে বলে রেসিডেন্স। চ্যান্সারী ভবনে দূতাবাসের কর্মকর্তারা দাফতরিক দায়িত্ব পালন করেন। এখানে স্বদেশের পতাকা উড়ানো হয়।
আর রেসিডেন্স ভবনে রাষ্ট্রদূত মহোদয় বাস করেন । রেসিডেন্স ভবনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত সহ কূটনীতিক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নানা গণ্য মান্য ব্যক্তিগণ নানা প্রয়োজনে রাষ্ট্রদূতের সাথে দেখা করেন। রেসিডেন্স ভবনেও স্বদেশের পতাকা উড়তে থাকে।
উপরের সবগুলোই ভিয়েনা কনভেনশনের নিয়ম মেনে করা হয়।
একটি দূতাবাস বা হাইকমিশনের পদগুলোকে কূটনৈতিক পদধারী কর্মকর্তাগণকে সাধারণ বা অফিসিয়াল পাসপোর্ট না দিয়ে বিশেষ পাসপোর্ট দেয়া হয় তাকে Diplomatic Passport বলা হয়। মিশনের কূটনীতিকগণ, তাদের স্পাউজরা ও ১২ বছরের কম বয়সী সন্তানেরা কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রাপ্ত হন।
দূতাবাসে কর্মরত প্রতিটি ব্যক্তিই স্বদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের কাছে নাগরিকদের প্রত্যাশা অনেক। তাই তাদেরকে হতে হবে অনেক যোগ্যতা , অনেক ধের্য।
নিয়ম অনুযায়ী, দূতাবাসের সীমানার ভেতর স্বাগতিক দেশের কোন সাধারণ জনগণ তো বটেই সরকারের কোন লোকজন্ও দূতাবাস কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে পারে না। তাই ভেতরে কি হয় না হয় তা কারো পক্ষে জানা সম্ভব হয় না। আর দূতাবাসের ভেতর দেশের সব বিভাগের এমন কি প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারাও থাকেন। ফলে তারা স্বাগতিক দেশের সব খবরই রাখেন এবং নিজ দেশে প্রেরণ করেন।
তবে বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। এর মূল কূটনীতি হ্ওয়া উচিত অর্থনীতি ও শ্রমিক ভিত্তিক। কোন দেশে কত বেশী শ্রমিক পাঠিয়ে টাকা আয় করা যায় এটাই এখনকার মূল প্রতিপাদ্য। অর্থনীতি ও বাণিজ্যে প্রসারও অন্যতম কাজ।
স্বাগতিক দেশের পুলিশ বিভাগে দূতাবাসগুলোকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য Diplomatic Security Division বা এই ধরনের কাছাকাছি নামের পৃথক বিভাগ থাকে। দূতাবাস গুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি স্বাগতিক দেশগুলো খুবই গুরুত্বের সাথে দেখে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



