
প্রতিদিন আমাদের সবার দ্বারাই্ কিছু না কিছু ময়লা উৎপাদিত হয়। এই সব ময়লা আবর্জনা কোথায় ফেলতে হবে সেটা একটা ভাবনা। তবে এই সব ফালতু বিষয় নিয়ে কেউ ভাবে না। ময়লা কোথায় ফেলতে হবে এটা নিয়ে আর ভাবনার কি আছে। যে কোন এক জায়গায় ফেলে দিলেই ব্যাস হয়ে গেল।
কেউ কেউ ময়লা ফেলেন রাস্তায়। কেউবা ফেলেন পথচারীরা যেখানে বেশী অসুবিধায় পড়েন এমন জায়গায়। রাস্তায় যেহেতু সবার ব্যবহারের জন্য তাই ময়লা ফেলার জন্য রাস্তা ব্যবহার করাই তো মনে হয় উত্তম।
আমি প্রায়ই লক্ষ্য করে দেখি, ঢাকার অনেক জায়গায় বড় রাস্তার ডিভাইডারের উপর এলাকাবাসী ময়লা ফেলছেন। এই সব ময়লা আবার ব্যাপক পরিমাণ দুর্গন্ধ বহন করে। এই সব ময়লার পাশ দিয়ে বাস বা রিক্সা যাত্রীরা যাবার সময় অনেকেই বমি করে দেন।
কিছু মানুষ আছেন যারা সকালে দোকান খোলার আগে দোকান ঘরটি ঝাট দিয়ে পরিস্কার করেন। ঝাট দেয়ার পর প্রাপ্ত ময়লা তিনি কোথায় ফেলবেন। সেটা তিনি তার দোকানের সামনেই ফেলেন। মাঝে মাঝে পথচারীদেরকেও লক্ষ্য করে তাদের গায়ে ছুড়ে মারেন।
বাংলাদেশে দেখার জিনিসের কোন অভাব নেই। যতই দেখি শেষ হয না। দেখার আনন্দ ।
আজ আরো একটি জিনিস দেখে খুবই আনন্দ পেলাম। ঝাড়ু দেয়া। ঝাড়ু দেয়া দেখার মাঝেও যে অনেক মজার বিষয় আছে আগে জানতাম না।
অফিসে আসতে বাস ধরার জন্য আমি অনেকটা পথ হেটে আসি। উদ্দেশ্য রিক্সা ভাড়া বাচানো। আমার আবার অত টাকা নেই যে বার বার রিক্সায় চড়তে পারি। সকাল বেলা। দোকানীরা সবে মাত্র দোকান খুলছেন। অনেক দোকানে তখনো তালা মারা। মজার যে জিনিসটি দেখলাম তা হল এক দোকানী তার দোকানটাকে বেশ পরিস্কার করে ঝাড়ু দিচ্ছেন। ঝাড়ু দেয়া শেষ হবার পর সবগুলো ময়লা ঝাড়ু দিয়ে রাস্তার মাঝখানে ঠেলে দিলেন। ময়লা গুলো হয়তো ডাস্টবিনে ফেলার নিয়ম। কিন্ত কার অত সময় আছে! তার চেয়ে গণ ডাস্টবিন রাজপথ আর রাস্তায় ময়লা ফেলাই বেশী বুদ্ধিমানের কাজ। দৃশ্যটা দেখে আমার এতো ভাল লাগল! ঝড়ু দেয়ার সময় তিনি যখন দোকানের একেবারে সামনে চলে এলেন তখন আমিও তার প্রায় মুখোমুখি। ভদ্রলোক হলে তো তিনি থেমে যেতেন। তিনি থাকলেন না। আমার শরীর লক্ষ্য করে ময়লাগুলো ছুড়তে লাগলেন। আমি ধন্য হলাম। কেননা, সেগুলো শুকনো ময়লা। ভেজা ময়লা হলে তো আমি জামা কাপড় ঝেড়ে পস্কিার হতে পারতাম না।
বাংলাদেশের ( বিশেষত ঢাকা শহরের) পথ ঘাট খুবই নোংরা। ধুলা-বালি গিজ গিজ করছে। বৃষ্টি নামলে এই ধুলা আবার কাদা হয়ে পথচারীদেরকে নোংরা করে। শুষ্ক দিনে ধুলা মানুষের নাকমুখে ঢুকে। জামা-কাপড় ময়লা করে। আমার মনে হয় না যে দেশে কোন মানুষ আছে যার ধুলা কিংবা কাদায় মাখামাখি হতে ভাল লাগবে।
মালয়েশিয়াতে আমি প্রতি দিনই দেখি- লাল রঙের গেঞ্জি গায়ে অনেক কর্মী রাস্তা পরিস্কার করছেন। ড্রেন থেকে ধুলাবালি বের করে এনে পলিথিনের ব্যাগে ভরে রাখছেন। নিখুত ভাবে পরিস্কার কাজ শেষ হবার পর বড় ট্রাক এসে এই সব ময়লা সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে দূরে কোথাও।
রাস্তার জমে যাওয়া ধুলাই বৃষ্টির সময় ভিজে রাস্তায় কাদা উৎপাদন করে। বৃষ্টির দিনে পচা কাদা পথচারীদেরকে খুবই বিরক্ত করে। অথচ এই সব আমাদের নিজেদেরই সৃষ্টি।
উন্নত ও সভ্য দেশে মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলে না। সব খানেই ময়লা ফেলার জন্য ডাস্ট বিন থাকে। আরো থাকে রিসাইকেল বিন। কোথায় ধারে কাছে ডাস্ট বিন না পেলে মানুষ ছোটখাট ময়লা পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তারপরও যেখানে সেখানে ফেলে না।
আমার এক বন্ধু বিদেশে থাকে। দেশে বেড়াতে গিয়ে সে বিদেশে অর্জন করা অভ্যাসটি ছাড়তে পারেনি। যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে সে ময়লা ফেলার জায়গা খুজছিল। তা দেখে অনেকেই তাকে টিটকারি মেরেছে। আফসোস।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ কবি বলেছেন, “আমার দেশের পথের ধুলা খাটি সোনার চাইতেও খাটি” । যারা নিজের আবাস ঝাড়ু দিয়ে ময়লা রাস্তায় ফেলেন কিংবা যারা ময়লা রাস্তায় ফেলাটাই নাগরিক দায়িত্ব মনে করেন তারা মনে হয় কবি মহাশয়ের কবিতাটি জানেন। তাই হয়তোবা তারা দেশের রাজপথ-ঘাট খাটি সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিতে চান। তাদের এই মহতী প্রচেষ্টাকে আসুন অভিনন্দন জানানো্র চেষ্টা করি।
পুরোন ঢাকার এক শাশুড়ী তার পুত্রবধুকে বলল- রান্না ঘরের মাছ, মুরগী আর তরিতরকারি কাটার পর যে ময়লা গুলো হবে সেগুলো যেন সে মানুষ জন দেখে রাস্তায় ফেলে। তাদের বাসাটি দোতলায়। বারান্দার ঠিক নিচেই বাসা। নতুন বউ। শাশুড়ীর কথা অমান্য করে কি ভাবে। সে ময়লার ভান্ডটি নিয়ে বারান্দায় এসে দাড়ালো। কোন কারণে সেই সময় রাস্তায় লোক চলাচল কম ছিল। তাই সে ঠায় দাড়িয়ে রইল। অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করার পর এক মুরুব্বী বেশ সাজসজ্জা করে বের হচ্চিলেন। তিনি বারান্দার নিচে আসার পরপরই বউমা তার ময়লার ভান্ডের সব ময়লা লোকটার মাথার উপর ফেলে দিল।
- আমার মাথার উপর ময়লা ফেলল ক্যাঠায়। আমি কি ডাস্টবিন নি??
চিৎকার শুনে শাশুড়ী দৌড়ে এলেন।
- মুরুব্বী মানুছটার উপর ময়লা ফেলছ ক্যালা?
- আপনি তো আম্মা কইলেন মানুষ জন দেইখা ময়লা ফেলাইতে।
আমার মনে হয়, সকল বাংলাদেশী, বিশেষ করে ঢাকা শহর বাসী উক্ত গল্পটি জানেন। তাই তারা ডাস্ট বিন কেনেন না। ব্যবহার করেন না। নগর কর্তৃপক্ষ কিনলে চুরি করান চোরকে দিয়ে। তাই তারা পথের মাঝে, মানুষের মাথায় ময়লা ফেলতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। ময়লা ফেললে মানুষর মাথায় ফেলার চেয়ে উত্তম স্থান আর কি হতে পারে?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৮ রাত ৮:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



