
আমি যখন তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি সঠিক মনে করতে পারিছি না। আমাদের বাংলা বইয়ে একটি লেখা ছিল যার শিরোনাম ছিলো - পোশাকের গুণে। সেই প্রথম জানতে পারি - মানুষের জীবনে পোশাকের গুরুত্ব।
আরো পড়ুনঃ মালয়েশিয়াতে যে ভাবে দেয়া হয় ঈদের সেলামী
সেই রচনাটিতে দেখানো হয়েছিলো- শেখ সাদী সিরাজী যিনি পারস্যের বিখ্যাত কবি ছিলেন। তিনি একবার কোন এক বিশেষ প্রয়োজনে দূরে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে সন্ধ্যা হয়ে এলে তিনি এক আমীরের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
কিন্তু তখন তার গায়ে সাধারণ পোশাক থাকায় আমিরের বাড়ির কোন লোক তার কোন সমাদর করেনি।
কিন্তু ফেরার পথে তিনি রাজার দেয়া দামী পোশাক পরিধান করে আবার যখন তিনি সেই একই আমিরের বাড়িতে উঠলেন তখন সবাই খুব ব্যস্ত সমস্ত হয়ে উঠলো। স্বয়ং আমির এসে তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করলেন।
রাতে খাবার সময় তার সামনে দেয়া হলো মুখরোচক আর দামী দামী সব খাবার । কিন্তু কবি মহোদয় কোন খাবার মুখে না তুলে তা তার পরনের পোশাকের পকেটে পুরতে লাগলেন।
কবির কান্ড দেখে আমির মহোদয় জিজ্ঞেস করলেন- কবিবর, খাবার কি সুস্বাদু হয়নি? আপনি খাবার মুখে না তুলে কেন জুব্বার পকেটে পুরছেন?
- আমির সাহেব, খাবার খুবই সুস্বাদু হয়েছে। কিন্তু এই খাবার তো আর আমার প্রাপ্য নয়। তাই আমি খেতে পারছি না। যার খাবার তাকেই খাওয়াচ্ছি।
আমি মহোদয় বিস্মিত হলেন। বললেন- আমার কোন গোস্তাকি হয়েছে কি জনাব?
কবি বললেন- না আমির সাহেব। আপনার কোন গোস্তাকি হয়নি। বিষয়টি খোলাসা করে বললেই আপনি বুঝতে পারবেন।
প্রথম যে দিন আামি আপনার বাড়িতে আসি তখন আমার পরনে ছিল খুবই সাধারণ পোশাক। তাই আপনারা কেউ কোন খাতির যত্ন করনেনি।
আর আজ আমার পরনে দামী পোশাক দেখে আপনারা সবাই খাতির যত্ন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাই আমি মনে করি - আজকের এই সব দামী মুখরোচক খাবারও আমার জন্য নয়। পোশাকের জন্য। তাই আমি যার খাবার তাকেই খাওয়াচ্ছি।
এই ঘটনায় আমির সাহেব খুব লজ্জিত হলেন এবং মহান কবি শেখ সাদীর কাছে বার বার ক্ষমা প্রার্থনা করলেন।
পোশাকের গুণের কথা শেখ সাদী জানেন। আমাদের দেশের অনেক মানুষ জানেন।
কিন্তু আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা হয় তো জানেন না।
গতকাল কুয়ালালামপুরের একটি ঈদের জামাতে শরীক হয়েছিলাম। সেখানে অনেক দামী দামী জামাকাপড়েরর ভিরে চোখে পড়লো অনে ক বাংলাদেশী ভাইদেরকে যারা পোশাকের ব্যাপারে কেন জানি মনে হলো খুব বেশী সচেতন নন।
তাদের বেশীর ভাগের পরনে দেখলাম- ময়লা টি শার্ট। কারো পরনে ময়লা শার্ট। কেউ কেউ আবার লুঙ্গি পড়েই চলে এসেছেন। খুব সহজেই বুঝে ফেলা যায় যে এরা বাংলাদেশী।
ভাইরে- একটা পাঞ্জাবীর দাম কত? একটা পাঞ্জাবী কিনে, গোসল করে, শেভ করে মাথায় একটা টুপি পরে হাসি মুখে মসজিদে এলে কি এমন ক্ষতি? সাথে একটু আতর মেখেও আসা যেতে পারে।
বাসায় ব্যবহারের জন্য এক ধরনের পোশাক, কাজে যাবার জন্য এক ধরনের পোশাক, উতসবের জন্য এক ধরনের পোশাক ঘুমানোর জন্য এক ধরনের পোশাক। একটু সচেতন হলেই হয়।
মালয়েশিয়ার মানুষ জন আমাদেরকে কেন যে কামলা মনে করে বুঝি না। আমাদের একটু সচেতন হতে হবে। যখন কাজে যাবো তখন কাজের পোশাক পড়বো। যখন কাজ শেষ কাজের পোশাক বদলে বাসার জন্য সুন্দর পোশাক পড়বো। যখন ধর্মীয় প্রয়োজনে যাবো তখন ধর্মীয় পোশাক পরবো।
সব সময়ই উত্তম পোশাক ( সাধ ও সাধ্যের ভেতর) পরিধান করা উচিত। আপনি লক্ষ্য করে দেখুন- মানুষ কিন্তু পণ্য কেনার সময়ও মোড়কটাই আগে দেখে। ভেতরের পণ্য বাসায় গিয়ে খুলে দেখে। পোশাক এক অর্থে মানুষের মোড়ক। মোড়ক সুন্দর না হলেও ভেতরের জিনিসের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এটা জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
সালাত আদায়ের সময় উত্তম ধর্মীয় পোশাক পরিধান করলেই বেশী ভালো হবে।
বাঙ্গালী জাতির এক জন সদস্য হিসাবে আমি বিদেশে এসে অনেক কিছুতেই লজ্জা পাই। সামনে এরকম কিছু পোস্ট দেব। মনে হয় আমার মতো আপনিও লজ্জা পেতে পারেন।
পোশাক মানুষকে বড় করে না। বড় করে তার গুণ। পোশাকের কারণে মানুষের মর্যাদা বাড়ে।
আমরা একটু সচেতন হলেই প্রবাসী শ্রমিক ভাইরা এটা করতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



