আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন স্কুলগুলোতে বিনা মূল্যে বই দেয়া হতো না। যাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল তারা নতুন বই কিনে পড়তে পারতো আর যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল তারা পরিচিত/অপরিচিত জনের কাছ থেকে পুরাতন বই কিনতো। ফলে আমাদের অনেকেই জানতো না যে, নতুন বইয়ের কি যে সুঘ্রান। এই রহস্যময় ব্যাপারটি আমিও জানতে পারিনি। জানতে পারলাম তখনই যখন আমি চতুর্থ শ্রেণীতে উঠলাম।
চতুর্থ শ্রেণীতে উঠার পর কোন কারণে পুরাতন বই যোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় নতুন বই ক্রয় করা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে। সেই বছর কোন এক কারণে বোর্ডের বই বিক্রি করা হয়েছিল পোস্ট অফিস থেকে।
ব্রিজের সাথে জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি টিনশেড ঘর ছিল। সেখানে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস হতো। অবশ্য ক্লাস সিক্সের খ শাখার ক্লাসও এই ভবনে নেয়া হতো। এই ভবনের প্রথম কক্ষটিই ছিল জয়পাড়ার পোস্ট অফিস। তখন পোস্ট অফিসে নাম ছিল মুজিবে ডাকঘর। মেইনে রোডের পাশে জানালা দিয়ে বই কেনার ব্যবস্থা ছিল।
যথাসময়ে টাকা নিয়ে হাজির হলাম পোস্ট অফিসের বই বিক্রির নির্ধারিত কাউন্টারে। টাকা পরিশোধ করে অনেকগুলো ঝকঝকে বই হাতে পেলাম। অসাধারণ সুন্দর বই। আকর্ষণীয় ঝকঝকে প্রচ্ছদের বই। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। মন ভরে যায়। আর বইয়ের সে যে কি সুবাস। প্রতিটি পাতা উল্টালেই ঘ্রাণে মন ভরে যায়।
বই হাতে পাওয়ার পর প্রথম যে কাজটি করলাম তা হলো বইয়ের মলাট লাগানো। পুরাতন ক্যালেন্ডার, সোভিয়েত মৈত্রী, সোভিয়েত নারী এই সব ম্যাগাজিনের সুন্দর সুন্দর পৃষ্ঠা দিয়ে বইয়ের আসল প্রচ্ছদ ঢেকে দেয়া যাতে উহা ময়লা হয়ে না যায়। আসল প্রচ্ছদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতাম না। কৃত্রিম মলাতেই ১ বছর পার করে দিতাম।
এখন তো সব স্কুলেই সরকারীভাবে বিনামূল্যে বই দেয়া হয়। এখন কেউ আর কৃত্রিম মলাট লাগায় না। কেননা, প্রতি বছরই নতুন নতুন বই দেয়া হয়। অনেকটা ওয়ানটাইম কলমের মতো ওয়ানটাইম বই পড়ে এখনকার শিক্ষার্থীরা। কাউকে পুরাতন বই পড়তে হয় না। নতুন বইয়ের সুবাস পায় তারা প্রতি বছর। তারা যে কি ভাগ্যবান।
এখন প্রতি বছর পহেলা জানুয়ারি বাংলাদেশে বই উৎসব হয়।
এই বই উৎসব দেখতে খুবই ভালো লাগে ।
কল্পনায় নিজেকে আবার ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছা করে ।
ইচ্ছা করে নতুন বইগুলো হাতে নিয়ে সারাটা গ্রাম জুড়ে প্রচন্ড জোরে একটি ম্যারাথন দৌড় দিই। যার হাতে ঝকঝকে তকতকে নতুন এক সেট সুবাসিত বই আছে বিশ্বজয়ী আলেকজান্ডার এর তরবারির চেয়ে ও শক্তিশালী অস্ত্র তাঁর কাছে।
চাইলে সে বিশ্ব জয় করতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৪ সকাল ৭:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


