somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ সাজ্জাদ  হোসেন
আমি কখনো নিজের নাম লুকোই না। আকাইমা শব্দ দিয়ে বানানো ছন্ম নাম আমার পছন্দ নয়। মা-বাবা'র দেয়া নাম দিয়েই প্রোফাইল খুলেছি।

৫ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে এক কেজি লবণের জন্য দাঁড়িয়ে রইলাম আধা ঘন্টা। ****************************

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই ঘটনাটির সম্ভবত ১৯৮২-৮৩ সালের পরের কোন এক সময়ের হবে ।
সময়টা আসলে সঠিক মনে নেই। তবে এই টুকু মনে আছে সেই সময় আমাদের জয়পাড়া বাজারে ১ টাকায় ১ কেজি লবণ পাওয়া যেত। সেই আমলে লবণে কোন আয়োডিন মেশানো থাকত না। ফলে লবণের কোন কোম্পানিও ছিল না।

বাড়িতে লবণ শেষ হয়ে গেছে। অথচ রান্নার কাজের জন্য লবণ খুবই জরুরী । সেই সময় এখনকার মতো গ্রামের আনাচে কানাচে চৌরাস্তায় আশেপাশে এত দোকানপাট ছিল না। কেনাকাটার জন্য যেতে হতো জয়পাড়া বাজারের ভিতরে।

সে যাই হোক এই ভয়াবহ অপদের সময় মা আমাকে পাঠালেন জয়পাড়া বাজারে। সাথে পাঁচ টাকার একটা নোট দিয়ে দিলেন । লবণ কেনার পরে ৪ টাকা দোকানদার ফেরত দিবে।

সেই মোতাবেক আমি জয়পাড়ার দিকে ছুটতে ছুটতে খুব দ্রুতই পৌঁছে গেলাম বাজারে। গিয়ে দেখি বাজারে তুমুল বেচাকেনা চলছে।

আমি যে দোকান থেকে গিয়েছিলাম সেই দোকানদারের নাম এখন আর মনে নাই। তবে দোকানটি জয়পাড়া বাজারের বড় ব্রিজ থেকে নামার পরে বাম দিকে নেমে গিয়ে মাছের বাজার পার হয়ে ডান দিকে ঢুকে বাম দিকের একটি দোকান ছিল।

আমি দোকানে গিয়েই দোকানদারের হাতে প্রথমে ৫ টাকা ধরিয়ে দিলাম এবং বললাম আমাকে তাড়াতাড়ি এক কেজি লবণ দিন।

দোকানদার টাকাটা নিয়ে তার বাক্সে রেখে দিলেন। ওইদিকে আরেকজন মুরুব্বি ধরনের ক্রেতা আসলেন। তিনি অনেকগুলো জিনিস কিনবেন।

দোকানদার তার মাল সামানা গুছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

সেই মুরুব্বী চলে যাবার পরে আরো দুইজন ক্রেতা আসলো। দোকানদার তাদের মালামাল গুছিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ল।

আমি অপেক্ষার পর অপেক্ষা করে চলেছি। দোকানদার আমাকে আমার লবণ দিচ্ছে না। আমি ক্রমশই হতাশ হয়ে পড়ছিলাম।

দোকানদার কি তাহলে আমার টাকার কথা ভুলে গেল! সেটা হলে তো দারুণ সর্বনাশের কথা!
সে যাই হোক আমার পরে আরো ৫-৬ জন কাস্টমারকে দোকানদার বিদায় করে দিল। আমার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না।

আমার প্রবল কান্না পাচ্ছিল। কোন রকমে নিজেকে সামলে বললামঃ আমাকে আমার লবণ দিবেন না?

দোকানদার বললঃ ওরে বাবা, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম।

সে যাই হোক দোকানদার শেষ পর্যন্ত আমাকে এক কেজি লবণ প্যাকেট করে দিল সাথে 4 টাকা ফেরত দিয়ে দিল।

আমিও ভয়াবহ বিপদ থেকে বাচলাম। হাফ ছেড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।

আমি সম্ভবত টু অথবা থ্রিতে পড়তে পারি।

সেই দিনের এক টাকা দামের এক কেজি লবণ কেনার ওই ঘটনা থেকে আমি যেটা শিখতে পেরেছিলাম সেটা হচ্ছেঃ

১। জিনিস হাতে পাবার আগে দোকানে কে কখনোই টাকা দিতে হয় না।
২। দোকানদার অপেক্ষাকৃত দুর্বল কাস্টমারের টাকা হাতে পেলে জিনিসপত্র দিতে ভুলে যায়। কাস্টমার মনে করে না ।
৩। দুর্বল কাস্টমাররা নগদ টাকা পরিশোধ করলেও তাদের পণ্য একটু দেরিতেই দিতে হয়।
৪। দুর্বলরা উচ্চকন্ঠ না হলে তাদের অধিকার ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।

সেই দিনের ওই ঘটনাটি আমি কখনোই ভুলতে পারিনি। আজ সারাদিন ওই ঘটনাটির কথা বারবার মনে পড়ছিল। তাই এই পোস্ট লেখা।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২৩
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।"

লিখেছেন এমএলজি, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৭:৩০

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা জানাযা করে দ্রুত লাশ দাফন কর।" বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ কাজটি করা হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।

বিষয়টি সত্য কিনা তা তদন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

লিখেছেন নতুন নকিব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪

ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া কেমন ছিলেন?

ইয়াতিমদের সাথে ইফতার অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া, ছবি https://www.risingbd.com/ থেকে সংগৃহিত।

তিন-তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রীও তিনি। তাকেই তার বৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বছরশেষের ভাবনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৪৮


এসএসসি পাস করে তখন একাদশ শ্রেণিতে উঠেছি। সেই সময়ে, এখন গাজায় যেমন ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন বসনিয়া নামে ইউরোপের ছোট একটা দেশে এরকম এক গণহত্যা চলছিল। গাজার গণহত্যার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উৎসর্গ : জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৮



খিচুড়ি

হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল “হাঁসজারু” কেমনে তা জানি না।
বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি!
অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”
টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা—
পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×