
দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে সোমবার বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে শনিবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক বিবৃতিতে সফর পেছানোর কথা জানানো হয়। বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আশঙ্কাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । ইতিমধ্যে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অনেক দেশ কোন ধরণের সমস্যা ছাড়াই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে গেছেন। বর্তমান সরকার অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের জন্য সবোর্চ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এদেশের জনগণ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় ও সচেতন। তারা জঙ্গিবাদকে কখনোই গ্রহণ করে না। এখানে টেরোরিজম ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই। গত কয়েক বছর ধরে বর্তমান সরকারের বিরামহীন ও ঐকান্তিক চেষ্টায় সন্ত্রাস এখন দূর্বল হয়ে গেছে, নিয়ন্ত্রণে আছে, তাদের অস্ত্বিত্ব বিলুপ্তির পথে। তারপরও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বা দর্শকরা অষ্ট্রেলিয়াকে কম সমীহ করছেন না। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠে গেছে যে, নিরাপত্তা কি অজুহাত, নাকি পিছনে অন্য কোন কারণ আছে। অস্ট্রেলিয়ার জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রকাশ কি শুধুই ক্রিকেটের দুটো টেস্ট ম্যাচ? নিরাপত্তার বিষয়টির সাথে ক্রিকেটের দুটো টেস্ট ম্যাচই জড়িত নয়, জড়িত পুরো বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র করানোর চেষ্টার সাথে যেমন দেশীয় মহল জড়িত, তেমনি বিদেশি কোন কোন মহল রয়েছে এর পেছনে। নিরাপত্তা ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার এমন ঘোষণা জঙ্গিদের তৎপরতাকে উৎসাহিত করবে নাকি অনুৎসাহিত করবে। অস্ট্রেলিয়া সরকার যখন অভিবাসী বহনকারী জাহাজের নাবিকদের ঘুষ দিয়ে জাহাজ ঘুরিয়ে দেয়, তখন তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ আড়াই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বছরের পর বছর তার দেশে ভরণ-পোষণের সুযোগ করে দিয়েছে। ক্রিকেটেও বাংলাদেশ এভাবেই জবাব দিয়ে যাবে, এগিয়ে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




