লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানো হচ্ছে। বিষাক্ত এই কলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা এই অপতৎপরতা বন্ধ করছেন না।
চিকিৎসকেরা বলছেন, এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। নিয়মিত কয়েক মাস রাসায়নিক মিশ্রিত কলা খেলে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায়পুর উপজেলায় প্রায় ১৫টি কলার আড়ত রয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কমপক্ষে ১০ ট্রাক কলা আনেন আড়তদারেরা। অল্প সময়ের মধ্যে পাকাতে অনেক আড়তদার রাসায়নিক মিশ্রিত পানির বালতিতে কাঁচা কলা ডুবান। এতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেকে যায় কলা। খুচরা ব্যবসায়ীরা তাঁদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে রিকশা-ভ্যানে করে বাজারে বাজারে বিক্রি করেন।
স্কুলশিক্ষক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এক ডজন পাকা কলা কিনে বাসায় যাই। পরে দেখি, কলাগুলোর ভেতরে কাঁচা। তার পরও আমি একটি কলা খেলে পেটের পীড়ায় ভুগি।’
রায়পুর শহরের পীর ফজলুল্লাহ সড়কের বাসিন্দা মমিন উল্লা বলেন, আড়তগুলোতে ভোর রাতে ট্রাক থেকে কাঁচা কলা নামিয়ে রাখা হয়। সকাল সাত-আটটার দিকে কর্মচারীরা এসে কলাগুলো রাসায়নিক মিশ্রিত পানির বালতিতে ডুবায়। অনেক সময় সেপ্রর মাধ্যমেও রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। পরে বিকেলে এ কলাগুলো পেকে রং হলুদ হয়ে যায়।
চর আবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘রাসায়নিক মিশিয়ে অবাধে কলা পাকানো হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করব।’
কলা ব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার দাবি, রাসায়নিক মিশ্রিত পানি বা সেপ্র করে রায়পুরে কলা পাকানো হয় না। তাঁরা আগুনের তাপ দিয়ে কলা পাকান। এটি স্বাস্থ্যসম্মত বলেও তিনি জানান।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিশির কুমার রায় বলেন, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা খেলে মানুষের কিডনি, লিভার ও হূদ্যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, ভেজাল রোধে কয়েকটি দোকানে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন জরিমানা করেছে। কলা পাকানোর জন্য রাসায়নিক মেশানোর বিয়য়ে অবহিত নই। খোঁজ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




