দুই বছরেও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পুলিশ আদালতে জমা দিতে পারেনি। সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে সহায়তা না করায় তদন্তকাজ শেষ করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাদী অভিযোগ করেছেন, এ মামলার আসামিরা জামিনে আছেন। তাঁদের ভয়ে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে পারছেন না।
২০১০ সালের ৮ অক্টোবর সন্ত্রাসীরা নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চেয়ারম্যান ও পৌর বিএনপির সভাপতি সানাউল্লাহকে হত্যা করে। বনপাড়া বাজারে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সানাউল্লাহর স্ত্রী মহুয়া নূর বড়াইগ্রাম থানায় জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কে এম জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৮ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন জাকির হোসেনের ভাই কে এম জামিল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কে এম জিল্লুর রহমান, বনপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন মোল্লা।
নাটোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে নাটোর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল হান্নান এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান। তিনি বদলি হওয়ার পর মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আহাম্মদ আলীকে। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি মামলাটি তদন্ত করছেন।
এএসপি আহাম্মদ আলী বলেন, ‘এ পর্যন্ত মামলার ১০-১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছি। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য এখনো নেওয়া হয়নি। তাঁরা সহযোগিতা না করায় সাক্ষ্য নিতে বিলম্ব হচ্ছে। শিগগিরই বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
মামলার অন্যতম সাক্ষী বড়াইগ্রাম উপজেলা যুবদলের সভাপতি রফিক সরদার সহযোগিতা না করার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা পুলিশের কাছে জবানবন্দী দিতে সব সময় প্রস্তুত। কিন্তু যখনই আমাদের জবানবন্দী দেওয়ার জন্য ডাকা হয় তখনই পুলিশ বিভিন্ন মামলার অজুহাতে আমাদের হয়রানি শুরু করেন। এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আমরা যেতে পারি না।’
বাদী মহুয়া নূর বলেন, ‘এ সরকারের আমলে আমরা যথাযথ বিচার পাব না। সব আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগের নেতা কে এম জাকির হোসেন এখন বনপাড়া পৌরসভার মেয়র ও আসামি খোকন মোল্লা স্থানীয় জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের হুমকি-ধমকির কারণে আমিসহ মামলার সাক্ষীরা সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।’
নাটোরের পুলিশ সুপার কাইয়ুমুজ্জামান খান জানান, এটি একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলা। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলাটি তদন্ত করতে হয়তো কিছু সময় লাগছে। তবে তদন্ত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




