
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যতটা না বাস্তব তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গবেষণা করেন; ফলাফল বা তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গানিতিক হিসাব নিকাশের উপর বেশি নির্ভর করে থাকেন। এজন্য দেখা যায়, তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফলের ক্ষেত্রে 'ধারণা' শব্দটি সংযুক্ত থাকে। এবং প্রায়শই তাদের ফলাফল পরিবর্তিত হতে থাকে।
অামরা মানুষ হিসাবে চাঁদের বাইরের কোন গ্রহে স্বশরীরে যাবার ক্ষমতা অর্জন করতে পারি নাই। তার মানে, অামরা মহাকাশে মাত্র ৩৮৪৪০৩ কিলোমাটার বা ২৩৮৮৫৭ মাইল যেতে পেরেছি । হয়তো ২০২০-৩০ সাল নাগাদ অারো কিছুটা দূরে তথা মঙ্গল গ্রহে পা রাখতে পারবো। হয়তো তখন অামরা অানুমানিক ৫ কোটি ৬০ লক্ষ কিলোমিটার বা ৩ কোটি ৩৯ লক্ষ মাইল দূরে অবস্থান করতে পারবো।
এই দূরত্বটা বলা হলো- যখন মঙ্গল পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটে থাকে তখনকার হিসাব। কেননা, মিনিটে মিনিটে পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব পরিবর্তিত হচ্ছে।
অামাদের পৃথিবী এবং অাটটি গ্রহ এবং শতাধিক উপগ্রহ যে সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে; এটাকে অামরা বলি সৌরজগত। এইরকম লক্ষ কোটি সৌরজগত নিয়ে তৈরী হয় এক একটা গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ।
এই একএকটা ছায়াপথে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র এবং অামাদের সূর্য এই নক্ষত্রের একটি সদস্য মাত্র। অামাদের নিকটাবর্তী যে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি অর্থাৎ যে গ্যালাক্সিতে অামরা বসবাস করি তার ব্যাস ১০০০০০–১২০০০০ লাইট ইয়ার।অর্থাৎ ১০০০০০ -১২০০০০ বছর ধরে অালো যত পথ যেতে পারে। ( অালাে এক সেকেন্ডে যেতে পারে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল ) । এগুলো কিন্তু জ্যোতির্বিদ এবং মহাকাশবিজ্ঞানীদের ধারণাগত বা গানিতিক হিসাব।
জ্যোতির্বিদরা এখন বলছেন, এই রকম গ্যালাক্সি মহাকাশে প্রায় দুই ট্রিলিয়নের বেশি রয়েছে। অর্থাৎ ২০০০০০ কোটির উপর গ্যালাক্সি রয়েছে। এটাও কিন্তু সেই হাবল টেলিস্কপের সাহায্যে প্রাপ্ত ছবি থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাপ্ত ফলাফল।
এটা কিন্তু সঠিক হিসাব নয়। কেননা মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এখনো পর্যন্ত মোট ছায়পথের বা গ্যালাক্সির হিসাবের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্তে অাসতে পারেন নি।
কেন পারা সম্ভব নয়?
বিশ্বজগতে অালোর একটি মাত্র উৎস রয়েছে যা থেকে পৃথিবীতে অালো এসে পৌছায় । বাকীগুলো অামাদের অাওতার বাইরে। অর্থাৎ অালোকিত অংশটুকু নিয়ে অামরা গবেষণা করছি তাও অাবার অামরা যেটেকু দেখতে পাচ্ছি । অানন্দিত হবার কিছু নেই। এই দৃশ্যমান মহাবিশ্বের মাত্র ১০ ভাগ অামরা দেখতে পারি উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে।
বাকী যে অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাবিশ্ব সেটা একেবারেই অজানা। অাবার অাধুনিক কিছু বিজ্ঞানীরা বলছেন মহাবিশ্ব একটা নয় কোটি কোটি হতে পারে। টেগ্মার্কের হিসাব অনুযায়ী আমাদের মতই একটা ইউনিভার্স বা মহাবিশ্ব পাওয়া যেতে পারে 10^10^10000000 টি।
ওতদূর নাই গেলাম। অামাদের কথাই বলি।
ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার কোনসেলাইস বলেন, শুনতে চমক লাগতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ছায়াপথগুলোর ৯০ শতাংশের গবেষণাই এখনো বাকী রয়েছে।
এখন পর্যন্ত গানিতিক মডেল ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা 'অদৃশ্যমান' (যেখানে অালো নেই বা অামরা দেখতে পাইনা) ছায়াপথগুলোকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক দাবি করছেন যে তারা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরের ছায়াপথ অাবিস্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। যার নাম দিয়েছন ইযেএস-জেড৮-১। তার দূরত্ব পৃথিবী থেকে খুব একটা বেশি নয়। মাত্র কয়েক হাজার কোটি অালোকবর্ষ দূরে। কিন্তু অাসলে কি এটাই সবচেয়ে দূরের? অবশ্যই না। কেননা, এই বিজ্ঞানীরাই কিছুদিন পর অাবার হিসাব পাল্টাবেন। তাও অাবার থিউরীগত বা অনুমান বা ধারণাগত। এভাবে শুধু হিসাব হতেই থাকবে ( কেয়ামত পর্যন্ত) অার উনাদের (বিজ্ঞানীদের)গলা শুকাতে থাকবে।
অার অামরা সেই হিসাব শুনে পুলোকিত হতে থাকবো। অার বলতে থাকবো, ওরা মহাকাশের মাপামাপির কাজ সব শেষ করে ফেললো অার অামরা কি করলাম?
দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। এক বস্তা সরিসার ভিতর একটা সরিসা নিয়ে গবেষনাই উনারা শেষ করে পারেন নাই। বাকী বস্তা বস্তা সরিসা তো পড়েই অাছে ।
অহংকারী কিছু মানুষকে বলি ; তোমাদের অস্তিত্বটা কোথায়? ভেবে দেখেছো কি?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



